প্রকৃতির ছায়াঢাকা, মায়াঘেরা, অপরূপ সৌন্দর্যে ভরপুর। নানা প্রজাতির পাখির কিচির মিচির সুর। শহরের কোলাহল মুক্ত পরিবেশ। সবুজের বুকে রঙ-বেরঙের সুউচ্চ দালান।

প্রকৃতির এমন মনোলোভা সৌন্দর্যমণ্ডিত নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। অনেক চড়াই-উৎড়াই পেরিয়ে এই সবুজ ক্যাম্পাস পার করেছে দীর্ঘ ৯ টি বছর। ক্যাম্পাসটি নিজস্ব ঐতিহ্য ও স্বাতন্ত্র বজায় রেখে প্রযুক্তি নির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে আজ অতিক্রম করতে যাচ্ছে গৌরবময় সাফল্যের।

নোয়াখালী জেলা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং সোনাপুর শহর থেকে ৩ কি: মি: দক্ষিণে সোনাপুর-সুবর্ণচর সড়কের পশ্চিম পাশে ১০১ একর জমির উপর অবস্থিত এই দৃষ্টিনন্দন ক্যাম্পাস।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য: বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের প্রকৃতি ও জনপদের মাঝে যে বিপুল ও অমিত সম্ভাবনা লুক্কায়িত রয়েছে কেবল আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ জনবল সৃষ্টির মাধ্যমেই তার পরিপূর্ণ বিকাশ সাধন সম্ভব।

বস্তুত এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বাংলাদেশ সরকারের তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০০১ সালে নোয়াখালীতে একটি পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ২০০১ এর ১৫ জুলাই সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা “নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০১” জারি হয়। এই আইন কার্যকর হয় ২০০৩ এর ২৫ আগস্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৬ এর ২২ জুন।

প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপনে : ১০ বছর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপনে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হবে।

মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর বর্তমান প্রাগ্রসর বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গতি রক্ষা ও সমতা অর্জন এবং জাতীয় পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা ও আধুনিক জ্ঞানচর্চা, বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে পঠন-পাঠন, গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি ও সম্প্রসারণ।

এভাবেই দক্ষিণ বাংলার অবহেলিত এই উপকূলীয় অঞ্চলের জীবনধারায় নতুন গতিবেগ সঞ্চারের উদ্যোগ নেয়া হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়টি এখনো তার অভিষ্ট লক্ষে পৌঁছাতে পারেনি। দীর্ঘদিন যাবত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গুরুত্বপুর্ণ আইন বাস্তবায়নকারি কর্মকর্তা (রেজিস্ট্রার) পদে স্থায়ী কোন রেজিস্ট্রার না থাকায় এবং পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) পদে কোন স্থায়ী কর্মকর্তা না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়টির উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যহতসহ প্রশাসনকি কাজে গতি সঞ্চার হচ্ছে না। তাই রেজিস্ট্রার এবং পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) এই ৩টি পদে যোগ্যতাসম্পন্ন মেধাবী জনবল দ্রুত নিয়োগের দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের।

এক নজরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: অবস্থান সোনাপুর, নোয়াখালী।

আয়তন: ১০১ একর;

ফ্যাকাল্টি: ৩টি; বিভাগ: ১৪টি;

ডিগ্রি প্রদান: বিএসসি (অনার্স), বিএসসি (ইঞ্জিনিয়ারিং) বিএ (অনার্স) এবং এমএস:

ছাত্রাবাস: ২টি (১) ভাষা শহীদ আবদুস সালাম হল এবং (২) হযরত বিবি খাদিজা হল।

নির্মাণাধীন হল: ০৩টি (১) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, (২) বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল এবং (৩) আবদুল মালেক উকিল হল।

একাডেমিক ভবন: ২টি

শিক্ষার্থী সংখ্যা: প্রায় সাড়ে ৪ হাজার।

শিক্ষকবৃন্দ: ১০৫ জন, কর্মকর্তা: ৬০ জন, কর্মচারী: ১৪৩ জন

রিসার্চ সেন্টার: বোর্ড অব এডভান্সড স্টাডিজ এন্ড রিসার্চ

শিক্ষার মাধ্যম: ইংরেজি

লাইব্রেরি: ১ হাজার ৫শ'টি শিরোনামের ৮ হাজার ৩৫০টি বই, ২০০টি শিরেনামের ৩১৪টি জার্নাল।

বিভাগসমূহ: ১) কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, ২) ফিশারিজ এন্ড মেরিন সায়েন্স, ৩) ফার্মেসি, ৪) এপ্লায়েড কেমিস্ট্রি এন্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ৫) মাইক্রোবায়োলজী, ৬) এপ্লায়েড ম্যাথমেটিক্স, ৭) ইংরেজি, ৮) ফুড টেকনোলজি এন্ড নিউট্রিশন সায়েন্স, ৯) অ্যানভারনমেন্টাল সায়েন্স এন্ড হ্যাজার্ড স্টাডিজ, ১০) বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন, ১১) ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি, ১২) ইকনোমিক্স এন্ড পোভার্টি স্টাডিজ, ১৩) বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ১৪) কোস্টাল এগ্রিকালচার বিভাগ।

বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান ভৌত অবকাঠামো: ভূমি ১শ' একর, ৫তলা বিশিষ্ট প্রথম একাডেমিক ভবন, ৪তলা বিশিষ্ট দ্বিতীয় একাডেমিক ভবন (ফাউন্ডেশন ১০ তলা), ৪তলা বিশিষ্ট প্রশাসনিক ভবন

(ফাউন্ডেশন ৫তলা), ৪তলা বিশিষ্ট ভাষা শহীদ আবদুস সালাম হল (ছাত্র হল), ৪তলা বিশিষ্ট হযরত বিবি খাদিজা হল (ছাত্রী হল), ভিসির বাংলো, বাউন্ডারি, গ্যারেজ ও গার্ড শেডসহ ৪তলা বিশিষ্ট শিক্ষক-কর্মকর্তা ডরমিটরি, ৪তলা বিশিষ্ট শিক্ষক-কর্মকর্তা এপার্টমেন্ট, ৪তলা বিশিষ্ট স্টাফ ডরমিটরি, দোতলা বিশিষ্ট ভিআইপি গেস্ট হাউজ (ফাউন্ডেশন ৩ তলা), ৫তলা ভিতের ওপর দোতলা অডিটোরিয়াম-কাম মাল্টিপারপাস বিল্ডিং (মুক্তিযোদ্ধা হাজী মোহাম্মদ ইদ্রিস অডিটোরিয়াম), সেমিপাকা মসজিদ, সেমিপাকা কেন্টিন শেড, সেমিপাকা আনসার শেড, পাম্প হাউজ ও আয়রন রিমুভার প্লান্ট, বিদ্যুৎ সাব স্টেশন ও জেনারেটর হাউজ, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ভাস্কর্য, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ রাস্তা পাকা করা হয়েছে, প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ সিস্টেম তৈরি, ক্যাম্পাসের বাইরে মান্নান নগরে গভীর নলকূপ স্থাপন ও পাম্প হাউজ নির্মাণ ঢাকায় দু’টি ফ্ল্যাটে গেস্ট হাউজ হিসেবে ব্যবহারের জন্য ভাড়াকরণ, পুকুর দু’টি, বিশ্ববিদ্যালয় পার্ক একটি ফাস্ট ফুড সপসহ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেইট। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের অংশে সীমানা প্রাচীর তৈরি।

এছাড়া ৫শ আসনের ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ ছাত্র হল (নীচতলা-৫ম তলা), ৬শ ২৫ আসনের ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব’ ছাত্রী হল (নীচতলা-৫ম তলা), ৫ তলা ভিত বিশিষ্ট আবদুল মালেক উকিল ছাত্র হল (নীচতলা-৪র্থ তলা), ৪ তলা ভিত বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ভবন (নীচতলা), ক্যাম্পাসের ড্রেনেস সিস্টেম এর নির্মাণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস-মাইক্রোবাস সমূহের জন্য একটি স্বতন্ত্র গ্যারেজ ও ওয়ার্কশপ।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: শিক্ষক-কর্মকর্তা কোয়ার্টার (নীচতলা-৫ম তলা) ই-টাইপ, শিক্ষক-কর্মকর্তা কোয়ার্টার (নীচতলা-৫ম তলা) ডি-টাইপ, শিক্ষক-কর্মকর্তা কোয়ার্টার (নীচতলা-৫ম তলা) সি-টাইপ, শিক্ষক ডরমিটরি (নীচতলা-৫ম তলা) অফিসার্স ডরমিটরি (নীচতলা-৫ম তলা) স্টাফ কোয়ার্টার বি-টাইপ (নীচতলা-৫ম তলা)-২টি, ১০তলা ফাউন্ডেশন বিশিষ্ট ২য় একাডেমিক ভবনের উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ (৫ম-১০ম তলা) ৪ তলা ফাউন্ডেশন বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ভবনের উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ (২য়-৪র্থ তলা) প্রশাসনিক ভবন ও দু’টি একাডেমিক ভবনের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য ওয়ার্কওয়ে নির্মাণ, তিন তলা ফাউন্ডেশন বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় মসজিদ (নীচতলা-২য় তলা), নোবিপ্রবি প্রাইমারি স্কুল, অভ্যন্তরীণ সকল রাস্তা নির্মাণ, অভ্যন্তরীণ ড্রেনেজ সিস্টেম, অভ্যন্তরীণ বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপন।

প্রকৃতি কন্যা ও পর্যটন কেন্দ্র: বর্তমান ভিসির ঐকান্তিক উদ্যোগে ব্যতিক্রমভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে সাজাতে নানা ফুলের বাগান তৈরিসহ বনজ, ফলজ ও ওষধি বৃক্ষ রোপন করা হয়েছে।

এমআইএস