একাউন্টিং এন্ড ইফরমেশন সিস্টেমস বিভাগে বর্তমানে সাতটি শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী রয়েছে সাড়ে তিনশ; কিন্তু শিক্ষক রয়েছেন মাত্র সাতজন। এরমধ্যে একজন শিক্ষক ছুটিতে আর একজন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকায় পাঁচজন শিক্ষক দিয়েই চলছে বিভাগটি। ইতোমধ্যেই বিভাগটির বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এক থেকে দেড় বছরের সেশনজটে পড়েছেন।

এই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা যে অবস্থানে আছি তাতে মনে হয় না আগামি দেড় বছরের আগে পড়াশুনা শেষ করতে পারবো। আমাদের বন্ধুরা (অন্য বিভাগের) পড়াশুনা শেষ করে চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অনেকে চাকরিও করছেন। অথচ আমরা সেসনজটে পড়ে আছি।’

পাবলিক হেলথ এন্ড ইন্ফরমেটিকস বিভাগে মোট পাঁচটি ব্যাচে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক রয়েছেন মাত্র দশজন। এর মধ্যে দুইজন শিক্ষা ছুটিতে আর চার জন সম্প্রতি নিয়োগ প্রাপ্ত।

একই চিত্র গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের। ২০১১ সালের ডিসেম্বরে যাত্রা শুরু করা এই বিভাগে বর্তমানে পাঁচটি ব্যাচে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক মাত্র চারজন। এতে একজন শিক্ষককে একাধিক কোর্স পড়াতে হচ্ছে। ফলে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে শিক্ষকদের। আর শিক্ষার্থীরা পড়েছেন চার থেকে ছয় মাসের সেশনজটে। উল্লেখ্য, গত ১৬ এপ্রিল চারজন শিক্ষককে সিন্ডিকেট সভায় নিয়োগ দেওয়া হয়, তবে এখনো তারা কাজে যোগ দেননি।

এদিকে আইন ও বিচার বিভাগেও একই অবস্থা বিরাজমান। পাঁচটি শিক্ষাবর্ষের প্রায় সাড়ে তিন’শ শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ছয়জন। ফলে ছয় থেকে সাত মাসের সেশন জটের জালে আটকা পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।

তবে আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থী শিহাব শাহরিয়ার সেশন জটের জন্য শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি শিক্ষকদের বিভিন্ন আন্দোলনকেও দায়ী করেন।

এর সত্যতা স্বীকার করে বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক জনাব মো: রবিউল ইসলাম বলেন, “নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এবং সেশনজট দূর করতে আমরা ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে সেমিস্টারের পরিবর্তে বর্ষ পদ্ধতিতে চলে এসেছি। আশ্ করি দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান হবে।”

শিক্ষক সংকট বিরাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগেও। মোট পাঁচ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষক রয়েছেন মোট চারজন।

উপরের এ চিত্র জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য চালু হওয়া বিভাগগুলো সহ বেশ কয়েকটি বিভাগের। এসব বিভাগের শিক্ষক সংকট এখন চরম আকার ধারণ করেছে। শিক্ষকের অভাবে ঠিকমত ক্লাস করতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা। চাপ সামলাতে এসব বিভাগের শিক্ষকরা একেকজন চার থেকে পাঁচটি ক্লাসও নিচ্ছেন। কিন্তু তারপরও শিক্ষকদের এই বাড়তি পরিশ্রমও বিফলে যাচ্ছে পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাবে। ফলে বেশ কয়েকটি বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

বিভাগগুলোতে দীর্ঘদিন থেকে শিক্ষক সংকটে ভুগলেও তা সমাধানের কার্যকরী কোন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছেনা। জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি আর ‘আশ্বাসের বাণীতেই’ চলছে বিভাগগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম। ফলে এসব বিভাগের প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে আট মাস থেকে দেড় বছরের সেশনজটে পড়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হোসেন বলেন, ‘ক্যাম্পাসে দীর্ঘকালীন ছুটি ও আমাদের সাময়িক কিছু সমস্যার জন্য শিক্ষক নিয়োগে একটু দেরি হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই বিভাগগুলোতে শিক্ষক সমস্যা সমাধান হবে বলে আশা করছি।’

 

এমআইএস।