পরীক্ষা চলাকালীণ অবস্থায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালিয়েছে শাখা ছাত্রলীগের কর্মীরা। প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় নারী শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহত শিক্ষার্থীরা হলেন জয়(২৩) , সনেট(২২), কেয়া(২০), মৌমিতা(২০), সোহাগ(২২), আবেশ(২২),সুশমীতা(২০),জ্যোতী(২১)সহ আরো অনেকেই।
মঙ্গলবার (২৮ফেব্রুয়ারী) বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয় বোটানিক্যাল গার্ডেনে পরীক্ষা চলাকালীণ সময় শাখা ছাত্রলীগের কর্মী সম্রাট তার দলবল নিয়ে এ হামলা চালায়।
প্রত্যাক্ষদর্শীরা জানায়, চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষারত অবস্থায় জবির বোটানিক্যাল গার্ডেনে অবস্থান করছিলেন। এমন সময় সম্রাট গার্ডেনে প্রবেশ করতে চাইলে পরীক্ষার্থীরা নিষেধ করেন। এতে সম্রাট ক্ষিপ্ত হয়ে সেখানে নারী শিক্ষার্থী জ্যোতীকে সহ আরো কয়েকজন ছাত্রীকে নানান ভাবে ইভটিজিং করতে থাকে। সম্রাটকে শিক্ষার্থীরা বাঁধা দিলে সে আরো বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং বাগবিতন্ডার একপর্যয়ে সে চড়াও হয়। এরপর সম্রাট তার সাথে আরো ৭/৮জন ছাত্রলীগ কর্মীকে নিয়ে এসে শিক্ষার্থীদের উপর লাঠিসোটা দিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় নারী শিক্ষার্থীদেরকে শারিরিক ভাবে লাঞ্চিত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন অনেকে।
আহত শিক্ষার্থী জয় সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের সকাল নয়টা থেকে আউটডোর পরীক্ষা আরম্ভ হয় । বেলা ১২টা দিকে সম্রাট বোটানিক্যাল গার্ডেনে প্রবেশ করতে চাইলে আমি তাকে বলি এখেনে প্রবেশ অধিকার সংরক্ষিত। কারণ জবি বোটানি বিভাগ আর চারুকলা বিভাগে সীদ্ধান্ত অনুযায়ী গার্ডেনে বিনা অনুমতিতে বাহিরে কোন বিভাগের বা বহিরাগত কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। সে জন্য আমি সম্রাটকে প্রবেশ করতে নিষেধ করি। পরে সে চড়াও হয়ে আমাদের ছাত্রীদের নানা ভাবে ইভটিজিং করতে শুরু করে । তাকে আবার নিষেধ করা হলে সে তার কয়েকজন সাঙ্গ-পাঙ্গ নিয়ে আমদের উপর হামলা করে। এতে ছাত্রীরাসহ আমাদের অন্তত ১৫ শিক্ষার্থী আহত হন।
আহত এক ছাত্রী টাইমনিউজকে বলেন, সে এত কিছু ঘটানোর পরেও প্রক্টর অফিসে অভিযোগ দেওয়ার সময় নানা ভাবে হুমকি দিচ্ছিল। সে বলছিল, তোদের আবার দেখে নিবো ।
এ ব্যাপারে চারুকলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. বজলুর রশিদ খাঁন সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা বোটানিক্যাল গার্ডেনে আউটডোর পরীক্ষা দেওয়ার সময় ছাত্রলীগের কিছু কর্মী তাদের উপর হামলা চালায়। আমরা জবি প্রশাসনকে লিখিত ভাবে অভিযোগ দিয়েছি, ভিসি স্যারকে জানিয়েছি। আমরা এ ধরনের ন্যাক্কার জনক ঘটানার তীব্র নিন্দা ও হামলা কারীদের দৃষ্টান্ত মুলক বিচার দাবি করছি।
ছাত্রলীগের একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছেন যে, সম্রাট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম সিরাজুল ইসলামের একনিষ্ঠ কর্মী। সম্রাটের নামে এ ধরনের একাধিক নারী কেলেঙ্কারী, চাঁদাবাজীর অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা টাইমনিউজকে বলেন, সম্রাটের কারণে জবি ছাত্রলীগ আরো কয়েকবার সম্মানহানীতে পড়েছে। এতো অভিযোগ থাকা সত্বেও শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের ঘনিষ্ঠজন হওয়ায় তার (সম্রাট) বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

এদিকে সম্রাটের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে কোথাও পাওয়া যায় নি।
জবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সম্রাট ছাত্রলীগের কেউ না। আমি তাকে চিনি না। যেহেতু কোন এক সম্রাট চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করেছে ,আর চারুকলা বিভাগ লিখিত ভাবে অভিযোগ দিয়েছে। সেখানে আমরাও তার সুষ্ঠ বিচার দাবি করছি।
তিনি বলেন, কেউ প্রধানমন্ত্রীর সাথে ছবি তুললে যে তার বিচার হবে না, তা তো হতে পারে না। অপরাধী যেই হোক তার বিচার হবে।
এ বিষয়ে জবি প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. নুর মোহাম্মদ বলেন, আমরা লিখিত অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
এদিকে, হামলাকারী সম্রাটের বহিষ্কার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
নাজমুল/জারিফ





