আজ ১০ বছরের প্রতিক্ষার ফল পেল ছাত্র-ছাত্রীরা। পরীক্ষার ফল প্রকাশের আগে সবাই ছিল খুব চিন্তিত, কি হবে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল। শত চিন্তার মাঝেই ফলাফল চলে আসলো ওয়েব সাইটে।

একের পর একজন ওয়েব সাইটে ঢুকে রোল নাম্বার দিয়ে সার্চ দিয়ে ফলাফল দেখার চেষ্টা করছে শিক্ষার্থীরা।

ফলাফল হিসেবে চোখের সামনে যখন ভেসে উঠলো গোল্ডেন এ+, ঠিকই তখনই পরীক্ষার্থীদের চোখে মুখে হাসির ঝলক, কেউবা ফলাফল দেখে উল্লাসে দিচ্ছে চিৎকার। সেই খুশির মুহুর্তে এক অভিভাবক ছাত্রছাত্রীদের এই চিৎকারের নাম দিলেন ’গোল্ডেন চিৎকার।'

ঢাকা বোর্ডে ২য় স্থান অধিকারি উত্তরার রাজউক স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্র মোস্তফা মাহমুদ সৈকত। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন এ+ পেয়েছে সৈকত। সৈকতের বাবা বলেন, প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীরা যদি গোল্ডেন চিৎকার দিতে পারতো আমার ছেলের মত তাহলে খুবই খুশি হতাম।

খুশিতে আত্মহারা সৈকত বলেন, অনেক চিন্তিত ছিলাম রেজাল্ট গোল্ডেন আসবে কিনা, এখন আমি অনেক খুশি।আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন যাতে আমি ভবিষ্যতেও ভাল রেজাল্ট করতে পারি। আর আমার বাবা-মা এবং শিক্ষকদের জন্য দোয়া করবেন যাদের প্রচেষ্টায় আমি এই ফলাফল অর্জন করতে পেরেছি।

সায়মা বলেন, আমার ফলাফলের জন্য আমার মায়ের অবদান অনেক বেশি। এরপর আমার শিক্ষকদের অবদান। অনেক কষ্ট করে ঝুকি নিয়ে হরতালের মাঝে পরীক্ষা দিয়েছি, আল্লাহর রহমতে এ+ পেয়েছি। আমি অনেক খুশি।

গোল্ডেন চিৎকার দেয়া আরেক শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলেন, আজ আমার জীবনের সবচেয়ে খুশির দিন । আজকের এই অবস্থানে আসার পিছনে আমার পিতা মাতার অবদান সবচেয়ে বেশি ।

এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের অবদানও রয়েছে । আমি সবার কাছে দোয়া চাচ্ছি যেন ভবিষ্যতেও এই রেজাল্ট করতে পারি।

ছাত্রছাত্রীদের উল্লাসে উল্লসিত প্রত্যেক জন অভিভাবক এবং শিক্ষকরা। তাদের শত প্রচেষ্টায় ছাত্রছাত্রীরা তাদের কাংখিত ফলাফল অর্জন করতে পেরেছে।

অভিভাবক সালমা ইসলাম বলেন, আমার মেয়ে সায়মা এ+ পেয়েছে। তার জন্য আমি অনেক কষ্ট করেছি। মেয়ে রাত জেগে পড়াশুনা করেছে, আমার মেয়ের পাশে বসে জেগে থেকেছি যাতে মেয়ের কোন কিছু লাগলে সাথে সাথে দিতে পারি, তার পড়ায় যেন কষ্ট না হয়। সর্বশেষ মেয়ে গোল্ডেন এ+ পেয়েছে। আমার কষ্ট সার্থক হয়েছে।

রাজউক কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল আমিনুর রহমান খান বলেন, এটা আমাদের বড় অর্জন যে প্রতিবছরই আমাদের ছাত্রছাত্রী আমাদের সুনাম বৃদ্ধি করে, আমরা প্রথম হয়েছি কি ২য় হয়েছি এটা কোন বিষয় নয়, রেজাল্টের বিষয় পর্যালোচনা করলে আমরাই প্রথম হই। আমরা উদার, কে প্রথম হল তা নিয়ে আমরা চিন্তিত নই। আমরা চাই বাংলাদেশের প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠান যেন প্রথম স্থান অর্জন করতে পারে এবং তাদের শিক্ষার্থীরা যেন গোল্ডেন চিৎকার দিতে পারে এই আশাই করি।

এমকে