বর্তমান ক্ষমতাসীনদের ভরাডুবির আশঙ্কায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন-২০১৫ স্থগিত করা হয়েছে।
কোন কারণ না দেখিয়ে অনিবার্য কারনবশত আজ সকাল আটটার দিকে নির্বাচন স্থগিত সংক্রান্ত একটি নোটিশ জারি করে নির্বাচন কমিশন।
এর পর পরই প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদ থেকে সরে দাঁড়ান। এদিকে ভোট দিতে না পারায় ভোটারদের মাঝে ব্যপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, আজ শনিবার সকাল ১০টা থেকে সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ইতোমধ্যে সব ধরণের প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছে কমিশন।
কিন্তু কোন কারণ ছাড়ায় নির্বাচনের দিন সকাল সাড়ে আটটায় হঠাৎ করে তা স্থগিত করায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে শিক্ষকরা। আকস্মিক ভাবে নির্বাচন স্থগিত করার পর সমিতির কার্যালয়ের সামনে হট্টগোল শুরু করে বিএনপি-জামায়াতপন্থী ও আওয়ামী-বামপন্থী শিক্ষকরা।
কোন কারণে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে তা জনার জন্য শিক্ষরা শিক্ষক সমিতির কার্যালয়েগেলে সরকার সর্মথক শিক্ষকরা তাদের উপর চড়াও হয় এবং অসৌজন্য মুলোক আচরণ করে।
এসময় ক্ষমতাসীন দলের সর্মথক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. লোকমান হাকিম শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি প্রফেসর ড. নজিবুল হকসহ বেশ কয়েকজরে সাথে উচ্চ বাচ্য বিনিময় করে ও তাদের উপর চড়াও হয়। এক পর্যায়ে অনুপস্থিত শিক্ষকদের তীব্র প্রতিবাদে লেকমান হাকিম নিবৃত হয়।
জানা যায়, ক্ষমতাসীনরা নির্বাচনের আগেই তাদের অবস্থান বুঝতে পারে। তাই তারা তাদের সর্মকদের ভোট দিয়ে ব্যালট পেপারের ছবি মোবাইল ফনে ধারনের জন্য চাপ সৃষ্টি করে।
যা শিক্ষক সমিতির গঠণ তন্ত্রের খ-এর ৮ নং ধারার সাথে সম্পূর্ণ সাংঘোষিক। উক্ত ধারায় বলা আছে, ‘গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে।’ ছবি ধারণে চাপ সৃষ্টি করায় শিক্ষদের মাঝে চাপা ক্ষোভে দেখাদেয়। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরে আসলে ভোট কেন্দ্রে ইলেক্সট্রনিক ডিভাইস নিষিদ্ধ করে।
ভোট দিতে না পেরে ক্ষুব্ধ ভোটাররা অভিযোগ করেন, বর্তমান শিক্ষক সমিতির ব্যার্থতার কারণে তারা জন প্রিয়তা হারিয়েছে। নির্বাচনে তাদের পরাজয় নিশ্চিত জেনে কোন কারণ ছাড়াই নির্বাচন স্থগিত করেন। আমরা খুব তাড়াতাড়ি শিক্ষক সমিতির সুষ্ঠ ও সচ্ছ নির্বাচন চাই। আমরা ভোট দিয়ে এমন ব্যাক্তিদের নির্বাচিত করব যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কাজ করবে।
সাধারণ শিক্ষরা বলেন, শিক্ষক সমিতি কোন দলীয় প্রতিষ্ঠাণ নয়। সমিতি বিশ্ববিদ্যলয়েল সর্বিক কল্যাণে কাজ করবে। তারা অনতীবিলম্বে নির্বাচন দাবি করেন।
বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত সভাপতি পদপ্রার্থী অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন-‘নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিন কাউকে কোন কিছু না জানিয়ে কমিশন স্থগিত করার নোটিশ দিতে পারেন না। আওয়ামীপন্থীরা ভরাডুবির আশংকায় নির্বাচন স্থগিত করেছে। এটা আমরা মেনে নেব না।’
এদিকে মিজান-অলী প্যানেলের সমর্থকরা তাৎক্ষণীক সংবাদ সম্মেলোনে নির্বাচনের আচরণ বিধি চূড়ান্ত করে দূরুত সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে।
একই সাথে তারা নির্বাচন কমিশনের এমন হটকারি সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা এবং ভোট কেন্দ্রে ইলেক্সট্রনিক ডিভাইস নিষেধাজ্ঞার জোর দাবি জানান।
আওয়ামী-বাম প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী অধ্যাপক ড. আ ন ম রেজাউর করিম বলেন-‘আমরা সকালে ভোট দিতে এসে দেখি স্থগিত করার নোটিশ। এটা কেমন কথা যে নির্বাচনের দিন তা স্থগিত করা হলো।’
এব্যাপারে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন,‘ধামি ব্যাক্তি গত কারণে পদত্যাগ করেছি। উদ্ভুত পরিস্থিতির কারণে নির্বাচন স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছি।
এসএইচ





