রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অধিভূক্ত শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজের (বেসরকারি) একাডেমিক অনিয়মের কারণে ২৫ লাখ টাকা জরিমানা করায় উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহম্মদ মিজানউদ্দিনকে হুমকি দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী।
বুধবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দফতরে এ ঘটনা ঘটে।
উপাচার্য দফতর সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর ১টার দিকে উপাচার্য প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিনকে ফোন দিয়ে সাক্ষাৎ করতে চান সংসদ সদস্য ও রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক। এসময় উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের মেডিকেল অফিসারদের পদোন্নতির মনোয়ন বোর্ডে থাকায় তার সঙ্গে পরে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানান। এতে সাংসদ ওমর ফারুক ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে বলেন বোর্ড বাদ দিয়ে এখনই সাক্ষাৎ করতে হবে। অন্যথায় তাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন তিনি।
এর কিছুক্ষণ পর সংসদ সদস্য ওমর ফারুক তার ব্যক্তিগত সহকারীসহ চারজনকে সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য দফতরের অপেক্ষমান কক্ষে প্রবেশ করেন। এসময় উপাচার্য দ্রুত বোর্ডে অফিসারদের সাক্ষাৎকার শেষ করেন। অপেক্ষমান কক্ষে ৫ মিনিট বসার পর সাংসদ ওমর ফারুক তার সহযোগীদের নিয়ে উপাচার্যের দফতরে প্রবেশ করেন।
সাংসদ দফতরে ঢুকেই টেবিল চাপড়িয়ে অশালীন ভাষায় উপাচার্যকে হুমকি-ধামকি দেন। এসময় তিনি মেডিকেল কলেজে অনিয়মের দায়ে জরিমানা করায় উপাচার্যকে শাসান। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিজের অসন্তুষ্টির ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সাংসদ উপাচার্যকে পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার হুমকি দেন। এসময় সাংসদ ওমর ফারুকের ব্যক্তিগত সহকারীরাও উপাচার্যকে উদ্দেশ্য করে অসৌজন্যমূলক কথা বলেন।
এসময় উপাচার্য দফতরে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর চৌধুরী সারওয়ার জাহান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর রেজাউল করিম বাদল।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘উনি (সাংসদ ওমর ফারুক) যখন ফোন দেন তখন আমি নিয়োগ বোর্ডে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলাম তাই ওই মুহুর্তে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করা সম্ভব নয় জানিয়ে পরে সাক্ষাতের কথা বলেছিলাম। উনি তখনই আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা বলেন এবং আমাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন। পরে তিনি দফতরে লোকজন নিয়ে এসে আমাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেছেন এবং পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। একজন সংসদ সদস্য হিসাবে তার অসৌজন্যমূলক আচরণে ‘আমি অপমানিতবোধ করেছি।’ জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এ ধরণের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।
এ ব্যাপারে সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরীর সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তার ব্যক্তিগত সহকারী দীপায়ন সরকার দ্বীপ বলেন, ‘শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজকে একটি কারণে ২৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে এমপি স্যার কথা বলতে গেলে, সেখানে বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে।’
কেএইচ





