বর্ষবরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সিলেটের এমসি কলেজে ছাত্রলীগের দু'গ্রুপের সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে ২৩ জন। সংঘর্ষের কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করতে হয়েছে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান।
মঞ্চের দখল ও নাম ঘোষণা নিয়ে মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট রঞ্জিত সরকার সমর্থিত হিরণ মাহমুদ নিপু ও কাউন্সিলর আজাদুর রহমান সমর্থিত এমসি কলেজ ছাত্রলীগের সঞ্জয়-কামরুল গ্রুপের নেতাকর্মীদের মাঝে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- ছাত্রলীগ কর্মী কয়সর ও সবুজ। এছাড়া আইয়ূব নামের আরেক যুবক আহত হয়েছেন। সে ছাত্রলীগ কর্মী কিনা তা জানা যায়নি। আহত তিনজনই ছুরিকাঘাতের শিকার।
এছাড়াও এমসি কলেজে আসা আরো ২০ দর্শনার্থী আহত হয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
কলেজ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়- মঙ্গলবার সকাল থেকে এমসি কলেজে শুরু হয় বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। হাজার হাজার মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে এমসি কলেজ ক্যাম্পাস। নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে আসা লোকজন উপভোগ করতে থাকেন বর্ষবরণ অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ও রাজনৈতিক নেতাদের পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। এই পরিচয় পর্ব থেকে বাদ যান জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হিরণ মাহমুদ নিপু। এতে নিপু ও তার অনুসারীরা ক্ষুব্ধ হন।
এর জের ধরে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে নিপু গ্রুপের আকাশ ও ডায়মন্ডের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে হামলা চালায়। এসময় মঞ্চের নিয়ন্ত্রণে থাকা ছাত্রলীগের সঞ্জয়-কামরুল গ্রুপের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষকালে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
সংঘর্ষ শুরুর পর ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। লোকজন ছোটাছুটি শুরু করেন। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা আতঙ্কে কান্নাকাটি শুরু করেন। এ সময় ১৮-২০ জন দর্শনার্থী আহত হন।
খবর পেয়ে শাহপরাণ থানা পুলিশের একটি দল কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ব্যাপারে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হিরণ মাহমুদ নিপু বলেন- ‘কলেজের অনুষ্ঠানের মঞ্চে কলেজের ছাত্ররাই থাকবে এটাই নিয়ম। কিন্তু মঞ্চে যারা ছিলেন তারা অছাত্র, এমনকি এদের বেশিরভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত পড়ালেখা করেনি। এনিয়ে কলেজের ছাত্রদের সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। এতে দুইজন আহত হয়ে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।’
মঞ্চে অছাত্র যারা ছিলেন তারা ছাত্রলীগ নেতাকর্মী কিনা জানতে চাইলে নিপু বলেন- ‘সব দলেই এরকম লোক থাকে। তবে কলেজের অনুষ্ঠানে তাদের মঞ্চে থাকা উচিত নয়।’
এমকে





