অপরাধের জন্য শুধু অপরাধীকে দায়ী করলেই চলে না, দেখতে হয় যে সমাজে অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে সেই সমাজ ব্যবস্থা, দেখতে হয় যারা নীতি নির্ধারণ করছে, তাদের সততা নৈতিকতা, স্বচ্ছতা, রক্ষকই যদি ভক্ষক হয় তাহলে সে সমাজের আর কিছু থাকে না।
সেই প্রবাদের মত যে সরিষায় ভূত ছাড়াব, সেই সরিষা সাথেই রয়েছে ভূত।
সমাজের অপরাধ প্রবণতাকে দমন করতে পেরেছে, অপরাধকে দমন করতে কতটুকু- প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পেরেছে। সমাজকে কতটুকু করতে পেরেছে সুসংহত, সুশৃঙ্খল।
সেই গল্পটি মনে পড়ে গেল: এক ব্যক্তির লিচুর বাগানে- একটি ছেলেকে চুরি করতে দেখে বলল, বেটা চোর তোর বাবার কাছে দেব নালিশ- ভাঙবে তোর হাড়গোড়।
সেই ছেলেটি উচ্চস্বরে হেসে বলল, টেনশন নিয়েন না চাচা
আমার পিতা উপরের ডালে বসে -- করছে চুরি বিদ্যার চূড়ান্ত মালিশ।
তাই সমাজপতিরা যদি অপরাধের সাগরে নিমজ্জিত থাকে তাহলে সেই সমাজের সাধারণের অবস্থা সহজেই অনুমেয়।
তাই ঐতিহাসিকদের এই উক্তিটি প্রণিধানযোগ্য
যে দেশের সরকার ভালো সে দেশের জনগণ ও ভালো। যে দেশের সরকার খারাপ সে দেশের জনগণও খারাপ হবে এটাই স্বাভাবিক। ড্রাইভার গাড়ির পরিচালক যদি অ্যাক্সিডেন্ট করে তাহলে সমস্ত যাত্রীদের প্রাণনাশ হয়!!!
নেতৃত্ব তেমনই একটি জাতিকে সঠিক সুন্দর পথে পরিচালিত করার নিয়ামক শক্তি। তাদের বিচ্যুতি মানে গোটা জাতির বিচ্যুতি।
দেখতে হয় সে সমাজের সংস্কৃতি। সে সংস্কৃতি কি মানুষকে উসকে দিচ্ছে অপরাধকে।
সংস্কৃতি হয়ে পড়েছে অপসংস্কৃতির নামান্তর। দেখতে হয় সাহিত্য আর সিনেমাকে। সেগুলো কি যৌন যৌনতাকে উস্কে দিচ্ছে নাকি সুস্থ এবং নির্মল সংস্কৃতি উপহার দিচ্ছে। বিনোদন ব্যবস্থা হতে হয় স্বচ্ছ ও নির্মল।
দেখতে হয় ধর্মীয় ব্যবস্থাকে সে সমাজে ধর্মকে ব্যবহার করে অধর্মের রাজ্য কায়েম করেছে কিনা;
ধর্মের ধ্বজাধারীরা, ধর্মব্যবসায়ীরা ধর্মের সঠিক আদর্শ বাণী প্রচার ব্যতিরেকে নিজেদের পেট পূজা জন্য ধর্মকে বেছে নিয়েছে। এইসব পেটপূজারী নামের ধর্মব্যবসায়ীদের সুস্থ সমাজের জন্য করতে হবে নির্মূল এবং নিশ্চিহ্ন।
তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখতে হয় অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায়। অর্থনীতিতে রয়েছে কি সমবন্টন নাকি রয়েছে পাহাড়সমূহ বৈষম্য। ধনী-দরিদ্রে আকাশ-পাতাল ফারাক। দিতে হবে শ্রমিক এবং শ্রমের মূল্যায়ন। কৃষক, শ্রমিক বলে দূরে ঠেলিতেছ যারে তারি রক্ত আর ঘামে নিখিল সেজেছে পুষ্প কাননে।
দেখতে হয় আইন বিচার বিভাগের সামগ্রিক অবস্থা। দেখতে হয় আইন আর বিচার কি টাকার বিনিময়। অর্থের বিনিময়ে বিক্রি হচ্ছে দিনে দুপুরে অসংখ্য বার লক্ষ কোটি হাজার বার। আইনের প্রয়োগ যথাযথই হওয়া চাই কেননা আইনের মাধ্যমে জাতির বিবেক জাগ্রত হয়। তার সাথে সাধ ও সাধ্যের বিষয়টি যুক্ত হলে একটি সমৃদ্ধশালী জাতি গঠিত হতে পারে।
যেখানে আইন দুর্বল সেখানে বিবেকও দুর্বল। তাই আইন এবং সুশাসন যেকোন রাষ্ট্রের স্থিতি ও সুচারুরূপে পরিচালনর জন্য অতীব জরুরি।
টাকার কাছে কি মুখ থুবরে পড়েছে বিচারব্যবস্থা! ভূলুণ্ঠিত হয়েছে মানবতা! নিগৃহীত হয়েছে নিচতলার মানুষগুলো।
দেখতে হয় পররাষ্ট্রনীতি। সেই সমাজের, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব আর স্বাধীনতা কি লঙ্ঘিত, কুণ্ঠিত অথবা পরাশক্তির নগ্ন হস্তক্ষেপ হচ্ছে বারবার প্রকম্পিত।
স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে থাকতে হবে অনড়, অটল, অবিচল।
দেখতে হয় শিক্ষা ব্যবস্থা। দেশে শুধু পুঁথিগত শিক্ষাই দেয়া হচ্ছে নাকি বাস্তব জীবনে। প্রায়োগিক জীবনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। জীবনমুখী, কর্মমুখী, বিজ্ঞান ভিত্তিক। আর গবেষকেরা গবেষণাগারে বসে করবে নতুন নতুন আবিষ্কার যা হবে মানবের কল্যাণে সমৃদ্ধির জন্য।
দেখতে হয় শিক্ষার উদ্দেশ্য কি? সমাজ গ্রহণ করেছে, সমাজের মানুষ গ্রহণ করেছে।
দেখতে হয় ফেলে আসা অতীত আর ইতিহাস। সেই অতীত ইতিহাস তোষামোদি, তেলবাজি, ব্যক্তি পূজা শেখায়! নাকি শেখায় আদর্শ সমাজ গঠনের সুশীল, সুশৃংখল বিধান।
হতে হয় গণমাধ্যমকে রাজনীতির খড়গহস্ত থেকে মুক্ত, স্বাধীন। সত্য প্রকাশে হতে হয় নির্ভীক ও নিরপেক্ষ। কেননা গণমাধ্যমই সমাজের দর্পণ। দর্পণে যদি ভাঙ্গাচুরা হয় তাহলে সেই দর্পণে স্বচ্ছ অবয়ব দেখা সম্ভব নয়।
তাই সমাজের সমাজপতি, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, সাহিত্য সামগ্রিক ভাবে সমাজ ব্যবস্থায় যদি ব্যর্থ হয় সমাজকে সুশৃংখল, সুস্থির, সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত করতে তাহলে সেই সমাজকেই ভেঙে ফেলে, সেই সমাজের মিথ্যার ভিত গুড়িয়ে দিয়ে- সমাজ সংস্কার করতে হবে, বদলে দিতে হবে সমাজকে।
সমাজের মানুষগুলো তাই অপরাধী নয় -- অপরাধকে নিশ্চিহ্ন করতে হবে চিরতরে। আইন আর শাসনের কঠোর বিধান নিশ্চিত করতে হবে।
So fast change the society and changed the nation, change people ,,
War will be happened again and again to reduce, to redress, to mend the society and the society leaders .
লেখক: নাজমুল হুদা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামিক হিস্ট্রি এন্ড কালচার
[email protected]
(বি. দ্র. মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব। টাইমনিউজবিডির সম্পাদকীয় নীতিমালার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই)





