সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বনিম্ন বয়স সীমা ৩৫ বছর উন্নতি করার লক্ষ্যে দাবি জানিয়ে সমাবেশ করেছে বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

দেশের ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব সমস্যা সমাধানে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে চাকরির বয়স সীমা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স সীমা বৃদ্ধির দাবিতে আজ শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে ব্যতিক্রমী এই সমাবেশের আয়োজন করে চাকরি প্রত্যাশী শিক্ষার্থীরা।

উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে বেকারত্বের অভিশাপের ফলাফলগুলো তুলে ধরেছে আন্দোলনকারীরা। তুলে ধরেছে বিচিত্র দৃশ্য।

কেউ জুতা পালিশের মত কাছ করছেন,কেউ চালাচ্ছেন রিকশা,কেউ আবার হাত পাতছে অন্যের দারে। কেউ বা সেজেছে লাশ।

শিক্ষার্থীদের দাবি, দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা কমাতে হলে চাকরিতে প্রবেশের বয়স সীমা বাড়াতেই হবে।


একজন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী বললেন, পর্যাপ্ত মেধাকে ৩০-এর পর পঙ্গু করে রেখে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। উন্নয়নের জন্য সবাইকে প্রয়োজন। নিজের মেধা প্রমাণ করতে পারবেন যিনি তিনিই চাকরি পাবেন বলে মনে করেন তিনি।

আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থী পুলিশের অশ্লীল আচরণের অভিযোগ করে বলেন,গত ১০ মার্চ পূর্বঘোষিত সমাবেশের কর্মসুচি পালন করার শেষে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের উদ্দেশ্যে র‌্যালিতে বাংলামটর এলাকায় আমাদের সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের উপর লাঠিচার্জ করা হয়। ৬ জন নারীসহ এতে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শিক্ষার্থী গুরুতর আহত ও গ্রেফতার হয়।

আন্দোলনকারী আরেক শিক্ষার্থী সাহাব উদ্দিন সিহাব পুলিশ কে অভিযোগ করে বলেন, আমাদের শুধু গ্রেফতার করেনি। আমাদের সাধারণ ছাত্রীরা পুরুষ পুলিম দ্বারা শারীরিক লাঞ্চিত হয়।

সকল বাবা-মার স্বপ্ন তার শিক্ষিত সন্তান কে ঘিরে।কিন্তু আমরা সে সন্তান হয়েতা পারছি না।তিন বছর অসুস্থ থাকার কারণে লেখাপড়ায় বিঘ্ন ঘটার অভিজ্ঞতা জানিয়ে আরেক আন্দোলনকারী জানান, ওই বিঘ্নের কারণে তাঁর লেখাপড়া শেষ করতে বয়স ৩০ পেরিয়ে যায়। সেক্ষেত্রে তাঁর কী দোষ সে প্রশ্নও রাখেন তিনি। 

আন্দোলনকারীরা এবিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ চেয়ে বলেছেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন হলেও উন্নয়ন ধরে রাখতে দরকার দক্ষ মেধাবী ও তরুন পেশাজীবী।

চাকরি প্রত্যাশীদের দাবি, পার্শ্ববর্তী ভারতসহ এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকার বেশির ভাগ দেশে সরকারি চাকরির বয়স সীমা ৪০ বছরের বেশি। শুধু বাংলাদেশে এই নিয়ম কেন তাও জানতে চাওয়া হয়।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ইমতিয়াজ হোসনে,হারুন-অর-রশিদ, শফিকুর রহমান, সাহাব উদ্দিন সিহাব,এম.এ আলী,সুদিপ পাল, আনিসুল হক, কামরুন নাহার ঝুমা,আঙ্গনুল নিশাত,মনির হোসেন, দেবানন্দ বসু,রুপম,এনামুল হক প্রমুখ ।

এবি সিদ্দিক/এএস