প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে বেতনের দাবিতে আমরণ অনশন করছেন প্রথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা।

দ্বিতীয় দিন শেষে এখনো কোনো আশ্বাস না পাওয়ায় অনশন চালিয়ে যাবেন বলে জানান শিক্ষক নেতারা। গত দুই দিনের অনশনে আহত হয়েছেন ৩০ শিক্ষ ককর্তৃপক্ষের সারানেই। ক্রমেই অসুস্থ হওয়ার সংখ্যা বাড়ছে।

সর্বশেষ তথ্যমতে, গত দুই দিনে ৩০জন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে শনিবার রাতে তিনজন এবং রোববার অসুস্থ হয়েছেন ২৭ জন শিক্ষক। এর মধ্যে ১৮ জনের নাম জানা গেছে।

গুরুতর অসুস্থদের ১০ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। এরা হলেন- আনোয়ার হোসেন (৩৫), তানজিলা (২৮), রফিকুল ইসলাম (৪২), নাসরীন আক্তার (৪০), এমদাদুল হক (৪৫), মো. জাহিদ হোসেন (৪০), আব্দুল হাই (৫০), সালমা বেগম (৪০), আজমল হোসেন (৩৫), সাইফুল ইসলাম (৩০)।

এছাড়াও আরো অসুস্থ হয়েছেন সালেহা আক্তার মুক্তা, আবদুর রহিম, এখলাসুর রহমান, ফিরোজ আলম, আলাউদ্দিন, হুমায়ুন কবির, নাসরিন আক্তার এবং মো. রাশেদ। সংশ্লিষ্ট শিক্ষক প্রতিনিধি ও মেডিকেলের ডাক্তারের তথ্যমতে, তীব্র শীত ও অনাহারে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন শিক্ষকেরা।

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ও মেডিকেল অফিসার ডা. ফিরোজ আহমেদ নয়া দিগন্তকে বলেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে অসুস্থ্যদের মেডিসিন ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রধান করা হয়। অনাহারের কারণে শরীরের গ্লুকোজ কমে গিয়ে তাদের অনেকই অসুস্থ্ হয়েছেন বলে জানান তিনি।

শিক্ষক নেতা মো. আনিসুর রহমান বলেন, শীতের দীর্ঘ রাতে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা পড়ার কারণে অনেকেই অসুস্থ হয়েছেন। এদের মধ্যে প্রাথমিকভাবে সর্বশেষ ৩০ জনের অসুস্থতার খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ৯ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

এদিকে তীব্র শীত ও অনাহারে শিক্ষকদের অন্তহীন ভোগান্তির কথা মাথায় নিয়ে সরাসরি লিখিতভাবে নিজেদের দাবি জানানোর জন্যে শিক্ষকদের ৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আবদুস সোবাহান গোলাপের কাছে যান। তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজেদের দাবির কথা জানাবেন তারা।

সর্বশেষ এ প্রতিবেদন লিখা পর্যন্ত তাদেরকে কোনো আশ্বাস দেয়া হয়নি। এর আগে শনিবার সকাল থেকে এক দফা (বেতন বৈষম্য দূরীকরণ) দাবিতে আমরণ অনশন করে দেশের প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের সংগঠন বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক মহাজোট।

তাদের দাবির পক্ষে যথাযথ কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের আগ পয়ন্ত এ অনশন চলবে বলে জানান শিক্ষক নের্তৃবৃন্দ। দাবি আদায় না হলে প্রাথমিকের সমাপনী পরীক্ষার ফলাফল আটকে দেওয়া হুঁশিয়ারি দেন তারা। পাশাপাশি ১ জানুয়ারি বই উৎসব পালন করা হবে না বলেও ঘোষণা তাদের।