ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সংহতির ধারক-বাহক পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)। বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে গড়ে ওঠা এক সময়ের ছোট্ট পাঠশালাটি আজ স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়।
তৎকালীন জগন্নাথ কলেজ ২০০৫ সালের ২০ অক্টোবর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।তাই প্রতিবছর বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই দিনটি উদযাপন করা হয়।বিশ্ববিদ্যালয়টির আজ ১৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী।বিশ্ববিদ্যালয় দিবস নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা জানার চেষ্টা করেছেন আমাদের টাইম নিউজ প্রতিনিধি মোঃসোহেল।
রাকিব হোসেন,(বিভাগ) সি এস ই : আবেগ এবং ভালোবাসার অপর নাম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।দেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যেটি পাঠাশালা থেকে রুপান্তরিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে।২০০৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে জায়গা করে নিয়ে খুব অল্প সময়ে একাডেমিক,সাংস্কৃতিক এবং চাকরীর বাজারে এগিয়ে গেছে ঈর্ষণীয়ভাবে।
বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় প্রতিটা আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা আমাদের সত্যের পথে থাকার সাহস যোগায়।অবকাঠামোগত সুযোগের যথেষ্ঠ অভাব থাকলেও আজ বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে গেছে অনেক দূর।এগিয়ে যাক দূর্বার গতিতে আমাদের এই প্রিয় বিদ্যাপীঠ।
শুভ জন্মদিন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
রাফিয়া রহমান, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ: "জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়"এর ১৫ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সকলকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা।প্রতি বছরই এইদিনে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে জাক-জমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্যে দিয়ে পালিত হয়।ছাত্র-শিক্ষকের মেলবন্ধনে নতুন জেগে ওঠা প্রত্যাশার অভিপ্রায়ে বিভাগ থেকে শুরু করে অবকাশ ভবনের প্রতিটি কক্ষে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে।এবছর করোনা মহামারীর কারণে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় আমরা ক্যাম্পাসে অনেকেই যেতে পারছিনা কিন্তু আজ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে বর্তমান উপাচার্য ড.মিজানুর রহমান স্যারের দ্বারা আমাদের প্রথম ছাত্রীহল "বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল"-এর উদ্বোধনের সাথে সাথে একমাত্র অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিতি অবশেষে মুছে যাচ্ছে।
আমরা জবিয়ানরা কেবলমাত্র ১৫ বছরের ইতিহাস না বরং ১৬১ বছরের ঐতিহ্য বহন করছি।আর সেই ঐতিহ্য রক্ষার্থেই জবিয়ানরা বাংলাদেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে সফলতার স্বাক্ষর রেখে চলেছে।তাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে আমি গর্বিত।আমি আবারও সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থীর কলরবে মুখরিত সেই প্রাণের ক্যাম্পাসে ফিরে যেতে চাই।সবাই দোয়া করবেন যেন,নিজের স্বপ্নপূরণ করে নিজেকে যেন একজন গর্বিত জবিয়ান হিসেবে পরিচয় দিতে পারি।
মোঃ আজাদ হোসেন, ইতিহাস বিভাগ : বুড়িগঙ্গা বিধৌত নবচেতনায় জগন্নাথ তথা বাংলার গর্ব জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ১৫ তম বছরের অগ্রযাত্রায় অপ্রতিরোধ্য।বর্ণাঢ্য ইতিহাস,ঐতিহ্য ও সমৃদ্ধির ধারক এবং বাহক উচ্চশিক্ষার এই বিদ্যাপিঠ।
জন্মদিনের শুভ লগ্নে বলতে চাই, প্রানের এই বিদ্যাপিঠ শিক্ষা ঈমান শৃঙ্খলার মাধ্যমে এগিয়ে যাবে সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখরে সেই প্রত্যাশা করি।।
শুভ জন্মদিন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
শামীম আরা হীরা, ডিপার্টমেন্ট অফ একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস:
শুভ জন্মদিন প্রিয় জবি।
জগা বাবুর সেই পাঠশালা আজ দেশের অন্যতম নামকরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, "জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়"।এই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এর পথচলা খুব বেশিদিন এর নয়,পনেরো বছরের এই নাতিদীর্ঘ পথে নানা চড়াই উতরাই পেরিয়ে আজকের এই অবস্থানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।জগা বাবুর সেই পাঠশালায় ১ম সমাবর্তন আয়োজিত হয়ে গেলো বিরাট আড়ম্বরে,অনাবাসিক তকমার এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ "বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব" হল উদ্বোধন এর দ্বারপ্রান্তে,২০০ একর এর নতুন ক্যাম্পাসের ভূমি অধিগ্রহণ শেষ ,স্বপ্ন বাস্তবায়নের আর কিছু সময় বাকি!এই বিশ্ববিদ্যালয় হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অত্যাধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়।
এমনিভাবে শিক্ষার্থী এবং প্রশাসনের যৌথ প্রয়াসেই জবি পৌঁছে যাবে এক অনন্য অবস্থানে।১৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে এই শুভকামনা রইলো ,চলতি পথের সকল বাধা ঢিঙিয়ে একদিন সাফল্যের স্বর্ণশিখরে পৌঁছাবে আমাদের এই প্রাণের জবি
মোঃসোহেল রানা, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ: ২০০৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে জবি।ঢাকার প্রাণকেন্দ্র সদরঘাটে এটি অবস্থিত।অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আয়তনে ছোট হলেও এখানে সিনিয়র জুনিয়রের মধ্য ভালবাসার কমতি নেই।প্রতিষ্ঠানটি নিজ যোগ্যতায় স্থান করে নিয়েছে এক গৌরবময় ইতিহাস।বিশ্ববিদ্যালয় দিবস নিয়ে প্রতিটি শিক্ষার্থীর মনে থাকে আলাদা অনুভূতি এবং ভালবাসা।এই বছর আমাদের অনুভূতিটি একটু বেশী কারণ হল আন্দোলনের ১১বছর পর এই বছর জবিতে ছাত্রীদের জন্য একমাত্র হলটি উদ্বোধন করা হবে।কিন্তু দুঃখের বিষয় করোনা মহামারীর কারণে এই আনন্দে আমরা কেউ সামিল হতে পারছি না।বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের শোভযাত্রায় সিনিয়র জুনিয়রদের মধ্য আনন্দের প্রতিটি মুহূর্ত আমরা মিস করব।
জবি একদিন পৌঁছে যাবে তার সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখরে।পৃথিবী দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে আমরা আমাদের আপন ঠিকানা প্রাণের জবিতে আবার ফিরে যাব ইনশাআল্লাহ।সবাই সুস্থ থাকুন নিরাপদে থাকুন।
"শুভ জন্মদিন প্রিয় জবি"
মরিয়ম ঝুমা, নৃবিজ্ঞান বিভাগ: ছোট্ট একটা ব্রাহ্ম স্কুল।সেখান থেকে কলেজ।তারপর বিশ্ববিদ্যালয়।হুম,বলছিলাম জগন্নাথ কলেজ থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠার কথা।সত্যিই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আমার মত প্রতিটা শিক্ষার্থীর কাছেই একটা আবেগ, অনুভূতি আর ভালোবাসার নাম।
বিশ্ববিদ্যালয় অর্থাৎ সেই প্রতিষ্ঠাকাল ২০০৫ থেকে শুরু করে দীর্ঘ ১৫ বছরের পথচলায় কত গূণী জন কত কিছু যে পেয়েছে এখান থেকে তার কোন সীমা নেই। দেখতে দেখতে ১৫তম বছরে পা দিচ্ছে জগন্নাথ।২০ শে অক্টোবর।হ্যাঁ, ২০শে অক্টোবর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে বলেই হয়ত আমি এবং আমরা সবাই জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়গুলো এখানে কাটানোর সুযোগ পাচ্ছি।
সেই সাথে আরেকটা বিশাল পাওয়া ২০২০ সালের ২০শে অক্টোবর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে। বহুল আকাঙ্ক্ষিত একমাত্র ছাত্রীহল "বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব ছাত্রীহল" এর শুভ উদ্বোধন। সত্যিই আমরা কতভাবে কৃতজ্ঞ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় তোমার কাছে।
হারিয়ে যাবো না, বারবার ফিরে আসবো। হয়ত প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় দিবসেই তোমাকে দেখার ইচ্ছাটা মিটাবো প্রিয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
সোহেল/এএস





