মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার পর এবার খেলা চলাকালীন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) হ্যান্ডবল দলের ওপর হামলা চালিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা।

এই হামলায় ইবির সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান, ক্রীড়া পরিচালক ড. সোহেল, কোচ শাহ আলম গুরুতর আহত হয়েছে। এছাড়া, আহতদের মধ্যে ৮ জন বাংলাদেশের জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়ারও রয়েছে।

আজ (১০ এপ্রিল) বুধবার বিকাল ৪ টায় জাবির মাঠে বঙ্গবন্ধু আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় স্পোর্টস চ্যাম্পের ইবি ও জাবির মধ্যকার হ্যান্ডবলের সেমিফাইনাল চলাকালে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার ঘটনা শুনে তাৎক্ষণিক ঢাকা-কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। 

হামলায় ইবির সাবেক প্রক্টর ও ইইই বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান ও ক্রীড়া পরিচালক ড. সোহেল, কোচ শাহ আলম কোচিসহ ৯জন খেলোয়ার গুরুতর আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। খেলোয়ারদের মধ্যে হাত ও কোমর ভেঙ্গে রাব্বি ও ইমনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এছাড়াও ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন একজন। আহতরা হলেন- আশিক, ইমন, শিমুল, রাব্বি, শাকিব, হৃদয়, সালমা, জাকারিয়া, দীপন, শোভন, সালফি ও সৌরভ। আহতরা সাভারের এনাম মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আহতদের মধ্যে ৮ জন বাংলাদেশের জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়ার।

এরআগে গত ০৭ এপ্রিল বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) হ্যান্ডবল খেলোয়ারদের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা।  

জানা যায়, বুধবার খেলার শুরু থেকেই আক্রমনাত্মক ছিল জাবির খেলোয়ার ও দর্শকরা। খেলায় ইবি তিন পয়েন্টে এগিয়ে গেলে বারবার ফাউল করতে থাকে জাবির খেলোয়াররা। একপর্যায়ে ইবির খেলোয়াররা ফাউল আবেদন করলে চড়াও হয় জাবির খেলোয়াররা। খেলায় শেষের দিকে ইবি নিশ্চিত বিজয়ের দিকে গেলে হটাতই খেলোয়ারদের হামলা করে জাবি। এসময় মাঠের পাশে থাকা রড ও ব্রেঞ্চ দিয়ে তাদের আক্রমন করে। ইবির শিক্ষক ও ক্রীড়া পরিচালক হামলা ঠেকাতে গেলে তাদের উপরও হামলা করা হয়। হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

এদিকে হামলার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা-কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক মহাসড়ক অবরোধ করে ইবির শিক্ষার্থীরা। তারা প্রায় ১ ঘন্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে দুইপাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে ছাত্র-উপদেষ্টা ও প্রক্টরের আশ্বাসের ভিত্তিতে ও জনদূর্ভোগের কথা বিবেচনা করে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। এই ঘটনায় ইবি প্রশাসন, শিক্ষক সমিতি ও বিভিন্ন সংগঠন হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।

হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইবি উপাচার্য ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, “আমি এই বর্বোরচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমরা ইউজিসিকে মৌখিকভাবে জানিয়েছি, লিখিত অভিযোগও জানাব। আমাদের দাবি অবিলম্বে এই সন্ত্রাসী হামলার সাথে জড়িতদের সবাইকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে সকল প্রকার খেলা থেকে কালো তালিকাভূক্ত করতে হবে।”

এ বিষয়ে জাবি উপাচার্য ফারজানা ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “আমার শিক্ষার্থীরা যেটি ঘটিয়েছে আমি তাতে খুবই দুঃখিত। আমি বিষয়টি স্কিপ করবোনা। হামলাকারীদের দ্রুতই বিচার হবে।”

উল্লেখ্য, গত সোমবার (৭ এপ্রিল) সেমিফাইনালে খেলার আগে অনুশীলনের সময় ইবির খেলোয়ারদের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দেয় জাবির শিক্ষার্থীরা। ফলে খেলা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ।

ইবির পক্ষ থেকে ভেনু পরিবর্তনের আবেদন করলেও পরিবর্তন করা হয়নি। জাবি ভিসির নিরাপত্তা দেবার আশ্বাসে জাবির মাঠে খেলতে সম্মত  হয় ইবি দল।

মুনজুরুল/এমবি