মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে এ বছরের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত না হলেও নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ৯ম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা হবে।
গতকাল (১৫ সেপ্টেম্বর) মঙ্গলবার সব সরকারি ও বেসরকারি স্কুলকে এই বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সোমবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) স্বাক্ষরিত এই বিষয়ক নির্দেশনা জারি করে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, নিজস্ব পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করে ৯ম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করতে বিদ্যালয়গুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
এদিকে, জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা না নিয়ে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে ৯ম শ্রেণিতে উন্নীত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গত ১ সেপ্টেম্বর কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক এবং সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের চিঠি দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ।
সেই চিঠির পর ঢাকা বোর্ড গত ০২ সেপ্টেম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে নবম শ্রেণিতে উন্নীত করার নির্দেশ দেয়।
এরপর ০২ সেপ্টেম্বরের জারি করা শিক্ষা ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চিঠিতে বলা হয়, করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ২০২০ সালের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা না নিয়ে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে ৯ম শ্রেণিতে উন্নীত করা হবে। এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের যথাসময়ে নির্দেশনা দেয়া হবে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিক সেই নির্দেশনা দেয়া হলো। তবে কী উপায়ে মূল্যায়ন করে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা হবে সে বিষয়ে স্কুলগুলোকে কিছুই জানায়নি অধিদফতর।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে গত ০৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর গত ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। আগামী ০৩ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার।
এছাড়া, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: আকরাম-আল-হোসেন জানিয়েছেন, মহামারি করোনা পরিস্থিতির কারণে যদি ডিসেম্বরের আগে স্কুল খোলা সম্ভব না হয় তাহলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘অটো’ উঠবে।
করোনাভাইরাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্কুল খোলার কোনো সম্ভাবনা নেই বলেও জানান সচিব।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের তিনি এই কথা জানান।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, যদি করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং সরকার যদি মনে করে যে বাচ্চারা এখন নিরাপদ, তারা স্কুলে গেলে কোনো সমস্যা হবে না, তবেই স্কুল খুলবে। আর স্কুল খোলা সম্ভব না হলে প্রাথমিকের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ষষ্ঠ শ্রেণিতে উন্নীতের জন্য সেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সনদ দেবেন।
এই বছর স্কুল খোলা সম্ভব না হলে ‘অটো পাস’ দেয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের সচিব বলেন, সেটা সময়ই বলে দেবে। যদি স্কুল না খুলি তাহলেও তো বাচ্চাদের পরবর্তী ধাপে (ক্লাসে) দিতে হবে।
আকরাম-আল-হোসেন বলেন, যদি আমরা স্কুল খোলার সুযোগ পাই তাহলে আমাদের অনুমোদিত দুটি লেসন প্ল্যান আছে অক্টোবর এবং নভেম্বর। সেটা যদি আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি তাহলে আমাদের লিমিট শেষ করার তারিখ ২০ ডিসেম্বর। একটা ৫২ দিন আরেকটা ৪০ দিন। যদি অক্টোবরে খুলতে পারি তাহলে একরকম হবে, আর যদি নভেম্বরে খুলতে পারি তাহলে ৪০ দিন পাব।
ইতোমধ্যে ১৬ মার্চ পর্যন্ত পাঠ পরিকল্পনার ৩৫ ভাগ শেষ করা হয়েছে জানিয়ে সচিব বলেন, সারাদেশে এখন একই পাঠ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়। ঢাকা শহরে একটা স্কুলে যে পৃষ্ঠা পড়ানো হয়, সেটা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্কুলেও একই পাঠ দেয়া হয়। এখন যদি স্কুল খোলা সম্ভব হয়, আমাদের সংশোধিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারি তাহলে হয়তো ২০ ডিসেম্বরের পরে শিক্ষকরা নিজ নিজ স্কুলে বাচ্চাদের মূল্যায়ন করতে পারবেন। সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ক্লাসে তুলে দেবে। যদি স্কুল খুলতে না পারি তাহলে... (অটো পাস)। পরীক্ষা হবে না।
প্রাথমিকের সমাপনী পরীক্ষা না হলে সনদে গ্রেডিংয়ের কী হবে?
সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে সচিব আকরাম-আল-হোসেন বলেন, পরীক্ষা না হলে গ্রেডিং কোনো বিষয় নয়। স্কুলের প্রধান শিক্ষক পরবর্তী ক্লাসে অর্থাৎ ষষ্ঠ শ্রেণিতে উন্নীত করার জন্য সার্টিফিকেট দিয়ে দেবেন।
এমবি





