টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুল করিমের বিরুদ্ধে ছাত্র-ছাত্রীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ভোকেশনাল শিক্ষা কর্যক্রমে ভর্তির চেষ্টা ছাড়াও বেসকিছু অভিযোগ উঠেছে।

জেএসএসসি পরীক্ষায় পাসকৃত বেশ কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী এবং তাদের অভিভাবকরা এ অভিযোগ করেন।
এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৫ সালের জেএসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে জিপিএ ৪.১৫ পাওয়া শফিকুল ইসলাম নামে একজন ছাত্র সাংবাদিকদের জানান, আমি বেশ কয়েকদিন যাবত নবম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার জন্য স্কুলে আসলেও স্কুলের প্রধান শিক্ষক নাজমুল করিম স্যার আমাকে ভোকেশনালে ভর্তি হতে বলছেন। কিন্তু আমার ইচ্ছা আমি ব্যবসায় শিক্ষা নিয়ে পড়বো। কিন্তু স্যাররা আমাকে ভর্তি করছেন না।

আমি শিক্ষা অফিসার হারুন-অর-রশিদের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে অভিযোগ জানালে তিনি বলছেন টিসি নিয়ে অন্য স্কুলে ভর্তি হতে। তখন আমি তাকে বলি আমার বাড়ি থেকে এলেঙ্গা স্কুল অনেক কাছে। পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন তাহলে স্যাররা যেটা বলছে সেটাই শোন। একই অভিযোগ করেছেন ওই বিদ্যালয় থেকে জিপিএ ৪.১৫ পাওয়া রাকিবুল হাসান, ৪.৩৫ পাওয়া লিটন মিয়া,৪.১০ পাওয়া ফিরোজ হোসেন, ৪.০০ পাওয়া আবু হানিফ, ৪.১৫ পাওয়া রাকিবুল হোসেন । তারা আরো অভিযোগ করেন টাকার বিনিময়ে ৪.১৫ পাওয়া রাকিবকে স্যাররা ঠিকই ভর্তি করেছেন।

এ বিষয়ে আমাদের মোস্তফা স্যার বলেন ওর জন্য আমাদের কাছে স্পেশাল রিকোয়েষ্ট এসেছে। রাকিবুল হাসান নামে এক ছাত্রের অভিভাবক বলেন, আমার স্বপ্ন ছেলেকে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াবো কিন্তু স্যাররা আমার ছেলেকে ভর্তি করছেন না। প্রধান শিক্ষক আমাকে দুই দিন পরে আসতে বলছেন। এছাড়া শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিনামূল্যের বইয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগও করেছেন অনেক ছাত্র-ছাত্রী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সপ্তম,অষ্টম ও ছষ্ঠ শ্রেণির কয়েকজন ছাত্র জানান, সপ্তম শেণিতে ৮০০ টাকা নেওয়ার পর বই দিয়েছেন। নবম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট থেকে নিয়েছেন ৯০০, অষ্টম শ্রেণিতে জন প্রতি নিয়েছেন ৮০০, ছষ্ঠ শ্রেণিতে নিয়েছেন ১২০০ করে টাকা ।

এ বিষয়ে এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুল করিমের সাথে মুঠেফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে কালিহাতী উপজেলা শিক্ষা অফিসার হারুন-অর-রশিদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ভোকেশনালে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ভর্তি করার চেষ্টা করা হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে । সেক্ষেত্রে ওইসকল ছাত্র-ছাত্রীদের অভিযোগ দিতে হবে। বিনামূল্যের বই টাকা নিয়ে বিতরণের ব্যাপারে বলেন, প্রত্যেকটি স্কুলে আমাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কোনভাবেই ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে বই বিতরণের সময় কোন প্রকার টাকা-পয়সা নেওয়া যাবে না । কোন স্কুলের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমএম