রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১৪ তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী ওয়াহিদা সিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন জার্নালিজম অ্যালামনাই ফোরাম অব রাজশাহী ইউনির্ভাসিটি (জাফরু'র) নেতৃবৃন্দ।
শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জার্নালিজম অ্যালামনাই ফোরাম অব রাজশাহী ইউনির্ভাসিটি (জাফরু) আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এমন দাবি করেন সংগঠনের নেতারা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, 'রাজশাহীর মহিষবাথান এলাকার গৃহবধু ওয়াহিদা সিফাত, গ্রামের বাড়ি রংপুর। গত ২৯ মার্চ রাতে রাজশাহী নগরীর প্রভাবশালী আইনজীবী মোহাম্মদ আলী রমজানের 'সুখনীড়' নামের বাড়িতে ওয়াহিদার রহস্যজনক মৃত্যু হয়। শ্বশুর বাড়ির পক্ষ থেকে প্রচার করা হয়, সিফাত গলায় দড়ি দিয়ে আত্নহত্যা করেছে। তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর সে মারা যায়।'
বক্তারা আরও বলেন, 'গত ৩০ মার্চ ওয়াহিদা সিফাতের পরিবার বর্গ ঢাকা থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে দেখেন সিফাতের মৃতদেহের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন। নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়েছে। এ ছাড়াও সিফাতের মাথার ডান দিকে চোখের পাশে রক্ত জমাট বাঁধা ছিল।
এমন কি হাসপাতালের ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও বলা হয় সিফাতের থুঁতনির নিচে এক ইঞ্চি পরিমাণ লালচে জখম ছিল। এদিকে ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের দেয়া ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও সিফাতের মাথায় জখমের প্রমাণ মেলে।'
এদিকে ঘটনার চার দিন পরে ওয়াহিদা সিফাতের চাচা মিজানুর রহমান খন্দকার বাদী হয়ে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে সিফাতের স্বামী মোহাম্মদ আসিফ, শ্বশুর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী রমজান ও শ্বাশুড়ি নাজমুন নাহারকে আসামী করে নগরীর রাজপাড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর উঠে আসে নানান রকমের চাঞ্চল্যকর তথ্য। এ ঘটনায় সিফাতের স্বামীকে গ্রেফতার করা হলেও বাকিরা এখনও ধরা ছোঁয়ার বাইরে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
আমরা এই মানববন্ধন থেকে প্রশাসনকে বলতে চাই, কোনও ধরণের চাপকে অপেক্ষা করে আপনারা ঐ হত্যাকান্ডের প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করবেন। বাকি আসামীদের অবশ্যই গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি করেন তারা।
এ সময় মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক মামুন আবদুল কাইয়ুম, সংগঠনের সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, সহ-সভাপতি রুহুল কুদ্দুস খান, সাংগঠনিক সম্পাদক খাইরুল আলম, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক জাহিদুল খালেক প্রমুখ।
এমএ/এসএইচ





