জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) সর্বশেষ রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৮ সালে। নিয়ম অনুযায়ী এ নির্বাচন ৩ বছর পর হওয়ার কথা থাকলেও এই নির্বাচন হয়নি দীর্ঘ ১৬ বছর। তাই এক নির্বাচনেই পার হয়েছে ১৯ বছর। দীর্ঘ প্রতীক্ষা পর অবশেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েটরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছেন।
ফলে নির্বাচন নিয়ে সকলের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। সকাল ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ও সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ এ দুটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এ ভোটগ্রহণ চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। নির্বাচনে শিক্ষার্থীবান্ধব যোগ্য ব্যক্তিদেরকেই জয়ী হবে এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।
এদিকে এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। নির্বাচনে ২৫টি সিটের বিপরীতে ১১৯ জন গ্র্যাজুয়েট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সিনেটে গিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবি দাওয়া তুলে ধরবেন এমন ব্যক্তিদেরকে সিনেটর হিসেবে চান ভোটারসহ সকলেই। নির্বাচনে ভোটাধিকার আছে এমন অনেকেই বলেছেন শিক্ষার্থীবান্ধব যোগ্য ব্যক্তিকেই তারা ভোট দিবেন। বিষয়টি মাথায় রেখে এখনো শিক্ষার্থীবান্ধব প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা। তবে কোন প্রতিশ্রুতি ভোটারকে আকৃষ্ট করবে তা দেখা যাবে দিন শেষে ভোটের ফলাফলে।
নির্বাচনে আওয়ামীপন্থী গ্র্যাজুয়েটরা ২টি, বিএনপিপন্থী গ্র্যাজুয়েটরা ১টি প্যানেলে নির্বাচন করছেন। এছাড়া বাকি ৪৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
প্রত্যেক প্যানেল থেকে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আলাদা আলাদা ভাবে তাদের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছেন। সেখানে মাদকমুক্ত ক্যাম্পাস গড়া, দুর্নীতি-অনিয়ম রোধ, শিক্ষা ও শিক্ষার্থী বান্ধব ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা, শিক্ষক নিয়োগে মেধার মূল্যায়ন, ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেয়াসহ নানান প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
শরিফুল নামে এক শিক্ষার্থী মন্তব্য করেন, আশা করি শিক্ষার্থীবান্ধব যোগ্য ব্যক্তিরাই নির্বাচিত হবেন। তবে যিনিই নির্বাচিত হন না কেন শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করবেন এমনটি চায়।
এদিকে নির্বাচন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দুই শতাধিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে। এছাড়া দূর-দূরান্ত থেকে আশা ভোটারদের জন্য প্রার্থীরা তৈরি করেছে তাবু।
নির্বাচনের সার্বিক বিষয়ে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবন ও সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের দু’টি ভোটকেন্দ্রে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভো গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোট কেন্দ্র দুটিতে মোট প্রায় ১১২টির মত বুথ থাকবে। এছাড়া নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু রাখার স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ২০০ সদস্য ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন করা হবে।





