ফেসবুকে ভ্যাটবিরোধী আন্দোলনের প্ল্যাকার্ড পোস্ট করে মন্তব্য লেখায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল শাখা ছাত্রলীগের এক নেতাকে রগ কাটার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন।
বৃহস্পতিবার রাতে হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ইমদাদুল হোসেন সোহাগকে রগ কাটার হুমকি দিয়ে তার মোবাইল ফোনে পর পর দুটি এসএমএস আসে।
এ ঘটনায় শুক্রবার নিরাপত্তা চেয়ে শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর-৫৯১) করেছেন সোহাগ।
লোক প্রশাসন বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র ইমদাদুল দ্য রিপোর্টকে বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৫ মিনিটে ‘জয় বাংলা, ভ্যাট সামলা’ লেখাসংবলিত একটি প্ল্যাকার্ড ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করেছিলাম।
তিনি বলেন, সেখানে লিখেছিলাম, ‘যাদের জয় বাংলা নিয়ে চুলকানী রয়েছে তাদের প্রতিহত করা হবে।’ এর পর ১১টা ১০ মিনিটে আমার মোবাইল ফোনে অপরিচিত নম্বর থেকে একটি এসএমএস আসে। তাতে লেখা হয়, ‘কি ছাত্রলীগ করস কর, বেশ দিবি না, নইলে… রগ কাইটা দিমু’।
‘পরে রাত ১১টা ১৩ মিনিটে আরেকটি এসএমএস আসে। সেখানে লেখা হয় ‘সাহস থাকলে ফোন না দিয়ে মেসেজ কর’- বলেন তিনি।
ইমদাদুল বলেন, বিষয়টি নিয়ে কিছুটা শঙ্কিত। তাই আজ (শুক্রবার) সাড়ে ১২টার দিকে নিরাপত্তা চেয়ে শাহবাগ থানায় একটি জিডি করেছি।
ছাত্রলীগের হল শাখার এই নেতার অভিযোগ, জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররাই আমাকে হুমকি দিয়েছে। তারাই ভ্যাট বাতিলের নামে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করছে।
এ বিষয়ে শাহবাগ থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক বলেন, বিষয়টি আমি এখনো জানি না। তিনি যদি নিরাপত্তা চেয়ে জিডি করে থাকেন তাহলে আমরা অবশ্যই তার নিরাপত্তা বিধান করব। একই সঙ্গে যারা তাকে হুমকি দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বুধবার দুপুরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইস্ট-ওয়েস্টের শিক্ষার্থীরা ভ্যাট বাতিলের দাবিতে রামপুরা-প্রগতি সরণি সড়ক অবরোধ করলে পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ ও গুলি ছোড়ে। এতে শিক্ষকসহ ৩০ জন আহত হন। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার আন্দোলনে নামেন প্রায় ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক রাত পর্যন্ত অবরোধ করে রাখেন।
এদিকে রাত সাড়ে ৮টার দিকে হঠাৎ করে ধানমণ্ডি ২৭ নম্বরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর ২০-২৫ জনের একটি গ্রুপ হামলা চালায়। এ সময় পুলিশ পাশে চুপ করে অবস্থান করছিল। হামলাকারীরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে।
তবে ধানমণ্ডি থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) নূর এ আজম মিয়া হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি জানিয়ে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নিজেদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছিল।’
কেএইচ





