ফেনীর সোনাগাজীতে আগুনে ঝলসে দেওয়া আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে (১৮) লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা।
আজ (০৮ এপ্রিল) সোমবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্তলাল সেন গণমাধ্যমকে বলেন, “নুসরাত জাহানের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় দুপুর পৌনে ১২টার দিকে তাঁকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে।”
এর আগে গতকাল দুপুরে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক আবুল কাসেম বলেন, তাঁর নেতৃত্বে ৮ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এরই মধ্যে মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা দুবার ওই মাদ্রাসাছাত্রীকে দেখেছেন।
অধ্যাপক আবুল কাসেম বলেন,“মাদ্রাসাছাত্রীর অবস্থা ভালো নয়, আশঙ্কাজনক। তার পা থেকে গলা পর্যন্ত ৮০ শতাংশের বেশি দগ্ধ হয়েছে। তাঁর শ্বাসনালিও পুড়েছে। তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের হাইডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে ভর্তি রাখা হয়েছে।”
নুসরাত এবার সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা থেকে আলিম (এইচএসসি সমমান) পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। তিনি সোনাগাজীর উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের মাওলানা এ কে এম মুসা মানিকের মেয়ে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়।
গত ০৬ এপ্রিল (শনিবার) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মাদ্রাসা ভবনের ছাদে দুর্বৃত্তরা তাঁর গায়ে আগুন দেয়। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফেনী সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এস এম সিরাজউদ্দৌলা গত ২৭ মার্চ নুসরাত জাহানের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। নুসরাত বিষয়টি বাসায় জানালে তাঁদের মা সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সোনাগাজী থানা পুলিশ অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাকে গ্রেফতার করে।
এরপর মামলা প্রত্যাহারের জন্য নুসরাতকে চাপ দেয় সিরাজউদ্দৌলার লোকজন। কিন্তু নুসরাত অপারগতা প্রকাশ করেন। এই অবস্থায় আলিম পরীক্ষা শুরুর দিন থেকে ভাই নোমান নুসরাতকে পরীক্ষার হলে বসিয়ে দিয়ে আসতেন। গতকাল তিনি তাই করেন।
এমবি





