বান্ধবীকে উত্যক্ত করার জের ধরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান হলের পাঁচ শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেছে শাখা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

শনিবার রাত ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজিলাতুন্নেসা হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় জাবি মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান হলের ৪৩তম ব্যাচের আবাসিক ছাত্র ও দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী ফিরোজ, বিপ্লব (বাংলা), অনিক (ইতিহাস), জামি ও বাধন (নৃ-বিজ্ঞান) বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার থেকে ঔষধ নিয়ে ফজিলাতুন্নেসা হলের সামনে দিয়ে নিজেদের মধ্যে অশ্লীল ভাষায় কথোপোকথন করে হলের দিকে যাচ্ছিল।

একই সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহমেদ রাসেল ফজিলাতুন্নেসা হলের সামনে দিয়ে রিকশায় করে তার বান্ধবীকে নিয়ে যাচ্ছিলেন।

এ সময় তার বান্ধবীকে উদ্দেশ্যে করে কটুক্তি করার অভিযোগ এনে রাজিবের নেতৃত্বে শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে।

আহতদের মধ্যে ফিরোজকে গুরুতর আহত অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে।

এদিকে, এ ঘটনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান হল ও শহীদ সালাম বরকত হলের সামনে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছাত্রলীগ নেতকর্মীরা মহড়া দেয়। পরে রাত সাড়ে দশটার দিকে বট এলাকায় দুই হলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এ ঘটনায় আহতরা জানান, ‘আমরা নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলাম। কাউকে উদ্দেশ্য করে কোনো অশ্লীল কথা বলিনি। আমাদের মারধরের সময় রাজিব ভাই বার বার বলছিল এর আগে বঙ্গবন্ধু হলকে অনেক ছাড় দেওয়া হয়েছে। এবার ছাড় দেওয়া হবে না।’

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহমেদ রাসেল বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হলের সঙ্গে শত্রুতার কারণে নয় বরং আমার কাজিনকে কটুক্তি করায় তাদেরকে মারধর করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে সহকারী প্রক্টর মেহেদী ইকবাল জানান, ‘বিষয়টি শুনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এমকে