রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সমাবেশে হামলা চালিয়েছে পুলিশ ও ছাত্রলীগ। শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে গুলি, টিয়ারশেল ও ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে সাংবাদিকসহ অন্তত শতাধিক আহত হয়। এর মধ্যে প্রায় ৫০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। রোববার সকাল পৌনে ১২টায় এ সংঘর্ষ শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর তারিকুল হাসান পুলিশের সাহায্যে রবীন্দ্র কলা ভবনের মূল ফটক খোলার চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীরা বাধা দেন। এ সময় পুলিশ আকস্মিকভাবে হামলা শুরু করে এবং তাদের সঙ্গে ছাত্রলীগ কর্মীরা যোগ দেয়।
পুলিশের গুলিতে আহতদের মধ্যে ৫ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলো রাষ্ট্রবিজ্ঞান তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাওহীদ, আইন বিভাগ প্রথম বর্ষের সামিয়া তারিন, সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের  রাজীব, শোভন, অমিত প্রমুখ। এর মধ্যে তাওহীদের অবস্থা আশংকাজনক।

বর্ধিত ফি প্রত্যাহার ও সান্ধ্যকালীন কোর্স বন্ধের দাবিতে ১৯ জানুয়ারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ, প্রশাসন ভবন ঘেরাও, ধর্মঘটসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে কয়েক দফা বৈঠকের পরেও কোন প্রকার সমঝোতায় না আসায় শিক্ষার্থীরা শনিবার থেকে লাগাতার ধর্মঘটের ডাক দেয়।
এদিকে, পুলিশ ও ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত চারটি হলে গুলিবর্ষণ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। হলগুলোর মধ্যে রয়েছে মাদারবক্স, জিয়াউর রহমান, সোহরাওয়ার্দী ও হাবিবুর রহমান হল। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এসব হল থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বের করে দিতেই এই হামলা চালানো হচ্ছে।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির ভেতরে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী আটকা পড়েছে বলেও জানা গেছে। লাইব্রেরির সামনে ও আশেপাশে ছাত্রলীগের সশস্ত্র কর্মীরা অবস্থান নেয়ায় শিক্ষার্থীরা লাইব্রেরি থেকে বের হতে পারছেন না বলেও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
ঢাকা, ২ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই/এফএ