নগরীর বুকে যেন একখণ্ড গ্রাম শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি)। শীতে প্রকৃতির বুকে রুক্ষতা ও শুষ্কতা প্রকাশ পেলেও শেকৃবি সেজেছে অপূর্ব রূপে। বাহারি রঙের মনোলোভা ফুলে সুশোভিত হয়েছে পুরো ক্যাম্পাস।
নানা প্রজাতির দেশি-বিদেশি ফুলের নয়নাভিরাম দৃশ্য কেড়ে নিয়েছে প্রকৃতি প্রেমিদের মন। গবেষণার কাজে ব্যবহৃত মাঠগুলোতে রয়েছে মৌসুমি ফুলের সমারোহ। এ যেন ফুলে ফুলে সুশোভিত ক্যাম্পাস। আর এই রূপরহস্যের কাছে ধরা দিতে প্রতিদিন চলছে নাটক, সিনেমা ও মিউজিক ভিডিওর সুটিং।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ৮৬ একরের ক্যাম্পাসে আউটডোর ও ইনডোর নাটক, সিনেমার সুটিংয়ের জন্য খেলার মাঠ, শতাধিক জাতের ফুলে সজ্জিত বিভিন্ন ল্যান্ডসক্যাপ থেকে শুরু করে অডিটরিয়াম, কনফারেন্স রুম, হল, ক্যাফেটেরিয়া, ক্লাস রুম ও ড্রেসিংরুম ১ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকায় ভাড়া হচ্ছে। তাছাড়াও বিয়ের অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন ধরনের কালচারাল অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয় শেকৃবির আকর্ষণীয় স্পটগুলোতে। দূরদূরান্ত থেকে আসা প্রকৃতি প্রেমিরাও প্রকৃতির সুধা উপভোগ করতে ভিড় জমাতে শুরু করেন বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত।
অন্যদিকে শেকৃবি শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার অংশ হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে ফুলে ফুলে সজ্জিত ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয়ের খামার বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ল্যান্ডস্কেপিংয়ের অংশ হিসেবে পাঁচটি আবাসিক হল, একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, কৃষি টাওয়ার চত্বর ও রাস্তার দু'পাশ ঘিরেই মূলত শোভা পাচ্ছে ফুলের বাগান। প্রশাসনিক ভবনের ঠিক সামনে ৪৫ ফুট উঁচু টাওয়ার। শীতের শুরুতেই টাওয়ার প্রাঙ্গণ ঘিরেও লাগানো হয়েছে নানা প্রজাতির ফুলের গাছ। ডালিয়া, কসমস, সিলভিয়া, জিনিয়া, দোপাটি, এস্টার, হাইব্রিড এফ ইনকাসহ নানা প্রজাতির ফুল গাছ। রয়েছে হলুদ, কমলা, লাল, ম্যাজেন্ডা ও মিশ্রবর্ণের হাইব্রিড ডালিয়া, হলুদ ও কমলা বর্ণের হাইব্রিড জিনিয়া, রক্তলাল বর্ণের সিলভিয়া, দোপাটি, নয়ন তারা ফুলের সমাহার এছাড়াও একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, ছাত্রছাত্রীদের হল ঘিরে রয়েছে নানা ফুলের সমারোহ।
হলগুলোর মধ্যে ঐতিহ্যবাহী সিরাজ উদ্দৌলা হলে রয়েছে দেশি-বিদেশি নানা রকমের ফুল, যেখান থেকে ছাত্রছাত্রীরা একাডেমিক কাজে ফ্লাওয়ার এলবাম তৈরি করে। তাছাড়া বিভিন্ন বিভাগের ব্যবহারিক ক্লাসে ব্যবহার করা হচ্ছে এসব ফুলের কোনো না কোনো জাত।
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও ক্লাসের অংশ হিসেবে পেইন্টিং করে নিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন ফুলের ছবি। আবার প্রাইমারি থেকে শুরু করে মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষার্থীরাও আসেন বই-পুস্তকে লেখা ফুলগুলো নিজ চোখে দেখে শিখতে। গবেষণায় ব্যবহৃত মাঠগুলো ছাত্রছাত্রীদের গবেষণা কার্যক্রমে সারা বছরই থাকে সরব। তবে শীতের এই মৌসুমে বাহারী ফুলগুলো যেন গবেষণা কার্যক্রমের পালে দেয় নতুন হাওয়া।
শেকৃবির ফুল গবেষক ড. এএম ফয়েজ মোঃ জামাল উদ্দিন গবেষণা করছেন গোলাপ ফুলের বিভিন্ন কালারের ওপর। এর ফলে উদ্যানতত্ত্ব মাঠে দেখা যাচ্ছে লাল, নীল, হলুদ, কাল, মিশ্র বর্ণের গোলাপ। এছাড়াও গবেষণা চলছে গ্লাডিওলাস ফুলের জাত উন্নয়নে। উদ্যানতত্ত্ব খামারে গড়ে উঠেছে জার্মপ্লাজম সেন্টার, যেখানে রয়েছে দেশি বিদেশি বিভিন্ন জাতের ফুল, ফল ও ক্যাকটাস। শেকৃবির উদ্যানতত্বে রয়েছে পক্ষীবাড়ি। যেখানে দূরদুরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা ভিড় জমায় প্রতিদিন বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত । উপভোগ করেন হৃদয়জুড়ানো নয়নাভিরাম এই দৃশ্য।
মোহাম্মদপুর থেকে আসা মোঃ নজরুল ইসলাম নামে এক দর্শনার্থী বলেন, সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়াও প্রতিদিনই এই ক্যাম্পাসে আসার চেষ্টা করি। বিভিন্ন ধরনের ফুলে আচ্ছাদিত থাকায় ক্যাম্পাসের ভিতর প্রবেশ করলেই বিভিন্ন ফুলের ঘ্রাণে সজীবতা ফিরে পায় মন ।
ক্যাম্পাসের একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন, শীতকালে ক্যাম্পাস বাহারি ফুলে সজ্জিত হলে তা শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা সহায়ক আর দর্শনার্থীদের জন্য দর্শনীয় স্থানই হয় না,এর মাধ্যমে প্রতি বছর ২ লাখ থেকে আড়াই লক্ষ টাকা আয় করা যায় যা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত লাভজনক।
[b]ঢাকা, ২৫ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই[/b]