চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে দু'পক্ষের সংঘর্ষে ছাত্র খুনের ঘটনায় ২৩ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এদের মধ্যে ১৬ জনকে আজীবন ও ৭ জনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এ শাস্তি কার্যকর করা হয়।

আজীবন বহিষ্কার হয়েছেন বিবিএর ছাত্র আশরাফুল ইসলাম, ওয়াহিদুজ্জামান নিশান, মো. জিয়াউল হায়দার চৌধুরী, এসএম গোলাম মোস্তফা, তামিম উল আলম, মো. ইব্রাহীম (সোহান), এমবিএর কাজী মো. জয়নাল আবেদীন, সাইফ উদ্দিন, মো. আবু জাহেদ (উজ্জ্বল), মো. নিজাম উদ্দিন (আবিদ), এলএলবি অনার্সের সাইকুল মোহাম্মদ তারেক, এমবিএর নুরুল ফয়সাল (স্যাম), এলএলবি অনার্সের মো. সাইফুল ইসলাম সাকিব, এলএলএমের আবু ফয়েজ, বিবিএর মো. রাশেদুল হক (ইরফান) ও মো. নাজমুল হক। তারা সবাই হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

গত ১০ ও ১১ ফেব্রুয়ারি গণ্ডগোলের উদ্দেশ্যে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদে হকিস্টিক এবং লাঠিসোটা মজুদ করা এবং ২৯ মার্চ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উপস্থিতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয় ৭ জনকে।

তারা হলেন বিবিএর মোজাহিদুল ইসলাম, মোহাম্মদ মাসুক কালাম, কায়সারুল আলম, মনির আহমেদ, কাজী মোহাম্মদ লিয়াকত, মোহাম্মদ নিজামুল গালিব ইমন ও কাজী মো. আশরাফ সায়েদ।

এসব ছাত্রদের কেন আজীবন বহিষ্কার করা হবে না এই মর্মে আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিতভাবে কারণ দর্শাতে হবে। কারণ দর্শাতে ব্যর্থ ছাত্রদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করবে।

মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু তাহের জানান, হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত সব আসামিকে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদের এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রদত্ত সব ডিগ্রিও বাতিল করা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত প্রোগ্রামগুলো থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, তবে এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে কেউ অভিযোগ থেকে খালাস পেলে বা চার্জশিট থেকে বাদ গেলে তার আবেদনের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োগকৃত শাস্তি পুনর্বিবেচনা করতে পারবেন।

সাবেক ছাত্র সাইকুল মোহাম্মদ তারেক এবং মো. নাজমুল হক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত এলএলবি (অনার্স) এবং বিবিএ ডিগ্রি বাতিলের ব্যাপারে আদালতের রায়ের পর কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে।

শাস্তিপ্রাপ্ত ছাত্ররা পরবর্তীতে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্য কোনো প্রোগ্রামে অধ্যয়নের জন্য ভর্তি হতে পারবেন না। মামলা চলাকালীন সময়ে এই সব ছাত্রের এনরোলমেন্ট, ক্লাস, পরীক্ষা, সার্টিফিকেট এবং ট্রান্সক্রিপ্টের উত্তোলন প্রক্রিয়া বন্ধ থাকবে বলেও জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু তাহের।

উল্লেখ্য, গত ২৯ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ (ব্যবসায় প্রশাসন) ২৩তম ব্যাচের বিদায় অনুষ্ঠান নিয়ে বিরোধের জের ধরে চট্টগ্রাম নগরের ওয়াসা ক্যাম্পাসে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় নাসিম আহমেদ সোহেল (২৪) নামের এক ছাত্রকে।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএর (হিউম্যান রির্সোস ম্যানেজমেন্ট বিভাগ) শিক্ষার্থী ও নগর ছাত্রলীগের সদস্য ছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের পর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা নগরের ওয়াসা প্রবর্তক মোড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস ও ওয়াসা ক্যাম্পাসে ভাঙচুর চালান।

পরে ওইদিনই বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর গতকাল সোমবার সকালে খুলেছে বিশ্ববিদ্যালয়।

ওএফ