রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারী আন্দোলনকারী সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশ-ছাত্রলীগের যৌথ হামলায় অস্ত্রধারী ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও বন্ধ বিশ্ববিদ্যালয় দ্রুত খুলে দেয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে রাবি জাতীয়তাবাদ ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী শিক্ষক গ্রুপ (সাদা দল)।
বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয় জুবেরী ভবন পূর্ব লাউঞ্জে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রাবি জাতীয়তাবাদ ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী শিক্ষক গ্রুপের যুগ্ন-আহ্বায়ক প্রফেসর ড. এনামুল হক। গত ২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের ব্যানারে চলমান আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের উপর সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা পুলিশ প্রশাসনের নাকের ডগায় অস্ত্র উচিয়ে গুলি বর্ষণ করে। এ সময় পুলিশ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের রক্ষার্থে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে বরং তাদের বিরুদ্ধেই গুলিবর্ষণ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে। যা দেশের প্রায় প্রতিটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
এ ঘটনার ৪দিন অতিবাহিত হলেও এখন পযর্ন্ত কোন অস্ত্র উদ্ধার ও অস্ত্রধারীদের গ্রেফতার করা হয়নি। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসন একাধিক মামলা করলেও চিহ্নিত ৬ অস্ত্রধারীকে আসামী না করে শত শত সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন,বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে। ক্যাম্পাস বন্ধ রেখে সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। এমনিতেই শিক্ষার্তীরা সেশন জটে নিমজ্জিত।
বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকলে সেশন জট আরো প্রকট আকার ধারণ করবে। তাই অনতিবিলম্বে ক্যাম্পাস খুলে দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার জোর দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধে উপস্থিত ছিলেন,রাবি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর মু আজহার আলী,সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর ড. নজরুল ইসলাম, সাবেক সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর ড. এম আবুল হাশেম,প্রফেসর ড. সি এম মোস্তফা, প্রফেসর ড. বেলাল হোসেন,প্রফেসর ড. মোস্তফা কামাল আকন্দ,প্রফেসর ড. হাসানাত আলী,প্রফেসর ড. হাবিবুর রহমান,প্রফেসর ড. এ বি এম শাহজাহান,প্রফেসর ড. সরওয়ার জাহান ও ড. শামসুজ্জামান এছামী প্রমুখ।
গত ২ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষাসহ সকল বর্ধিত ফি ও সান্ধ্যকালীন কোর্স বন্ধের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশ ও ছাত্রলীগ প্রকাশ্যে অস্ত্র উচিয়ে গুলি করে। এতে  ছাত্রলীগ ও পুলিশের গুলিতে ৪০জন গুলিবিদ্ধসহ শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়।
[b]ঢাকা, ৬ ফেব্রুয়ারি ( টাইমনিউজবিডি.কম ) // কেএইচ
[/b]