বাংলাদেশের সংস্কৃতির রাজধানী হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি)। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতি চর্চার মূল কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চ।
যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গুলো তাদের যেকোন অনুষ্ঠান এ মঞ্চের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে উপস্থাপন করে। বিশেষ করে নাট্য সংগঠন গুলোর কাছে পবিত্র ও তাদের নাট্য চর্চার মূল কেন্দ্র এই মুক্তমঞ্চ। কিন্তু সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা সমাপনী উৎসব(র্যাগ ৩৭) কে কেন্দ্র করে মাদকের আড্ডা খানা গড়ে উঠেছে মুক্তমঞ্চে।
জানা যায়, মুক্তমঞ্চে ৩৭তম ব্যাচের শিক্ষা সমাপনী উৎসবের প্রথম দিন থেকেই এখানে মদ ও গাজার প্রকাশ্য বিতরণ শুরু হয় এছাড়া মাইলসের কনসার্টের দিন তা ভয়াবহ রুপ ধারন করে।
মদ ও গাজা সেবন করে অনেক ছাত্র-ছাত্রী অচেতন হয়ে পড়ে। এমন কি গাঁজা সেবনকারীদের মধ্যে একজন উল্লেখ করেন যে অনুষ্ঠানের দিন(মদ)একটু সবাই খেতেই পারে।
এছাড়া বর্তমানে মুক্তমঞ্চের পাশ দিয়ে বিকাল হলে গাঁজার গন্ধে হাটা যায় না। প্রকাশ্যে চলে মাদক সেবন। মুক্তমঞ্চের পাশের লেকে ল্যাম্পপোস্ট না থাকাতে বহিরাগতদের আগমনে সন্ধা হলেই মাদক সেবনের পাশাপাশি ঘটে অনৈতিক কাজ।
মাদক সেবন দূর করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিযোগ বাক্স স্থাপন করা হয়েছে যা অনেক শিক্ষার্থী এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। এদিকে মুক্তমঞ্চে বাংলাদেশের খ্যাতিমান সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সেলিম আল দ্বীন,হুমায়ুন ফরিদী,শহীদুজ্জামান সেলিমসহ অসংখ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা সাংস্কৃতির চর্চা করতেন।
যার কারনে মুক্তমঞ্চে কখনো হিন্দি গান বাজানো বা অনুষ্ঠান হয়নি কিন্তু সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন নৃত্য সংগঠন কাল বৈশাখী মুক্তমঞ্চে হিন্দি গানের সাথে অশ্লীল নৃত্য প্রর্শন করে। যা মুক্তমঞ্চে পূর্বে কখনো ঘটেনি।মুক্তমঞ্চের ঐতিহ্যের জন্য হুমকি বলে মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতিমনা শিক্ষক শিক্ষার্থীরা।
মাদক সেবন সম্পর্কে প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা বলেন,আমাদের কাছে এধরনের কোন অভিযোগ আসেনি। আর কেউ যদি মাদকের সাথে জড়িতদের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করে তাহলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নিব।
উল্লেখ্য, গ্রীক এপিডোরাস থিয়েটারের আদলে নির্মিত বাংলা ও ভারতীয় উপমহাদেশে সর্ব প্রথম জাবিতে এ ধরনের মঞ্চ নির্মান করা হয়। যা সেলিম আল দীন,মোস্তফা মনোয়ার ও নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর পরিকল্পনায় এবং স্থপতি আলমগীর কবিরের নকশায় ১৯৯২ সালে ভিসি অধ্যাপক ড.জিল্লু র রহমানের সময় মঞ্চটি নির্মান করা হয়।
এসএইচ





