শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ময়মনসিংহের জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাকনবি) দু’শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। একই ঘটনায় আরেক শিক্ষার্থীকে তিরস্কার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
বহিষ্কৃতরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের ২০১০-২০১১ সেশনের ছাত্র নয়ন আলী এবং একই বিভাগের ২০০৯-২০১০ সেশনের ছাত্র নজরুল ইসলাম বাবু।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা কর্মকর্তা এসএমহাফিজুর রহমান জানান, শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের নয়ন আলীকে ২ সেমিস্টারের জন্য এবং একই বিভাগের নজরুল ইসলাম বাবুকে এক সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান লিমনকে তিরস্কার করা হয়েছে।
উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন তদন্ত কমিটি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি বছরের এপ্রিলে এক শিক্ষার্থীকে মারপিটের ঘটনায় নয়নকে আর সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোল্লা আমিনুল ইসলামকে লাঞ্ছিত ও তার কক্ষে ভাঙচুর চালানোর দায়ে বাবু এবং লিমনের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, বহিষ্কৃত নয়ন আলীর জাকনবি ছাত্রলীগে কোনো পদ না থাকলেও নজরুল ইসলাম বাবু সংগঠনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। আর তিরস্কৃত লিমন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য। লিমনই শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোল্লা আমিনুল ইসলামের কক্ষে হামলা ও ভাংচুরে সক্রিয় ছিলেন।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জাকিবুল হাসান রনি এবং সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম রানা জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এনিয়ে শিক্ষক সমিতির নেতা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
জাকনবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোল্লা আমিনুল ইসলাম জানান, এ বিচারে সাধারণ শিক্ষকরা সন্তুষ্ট নয়।
এদিকে, ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীকে বহিষ্কারের প্রতিবাদে সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্নিবীণা হল থেকে এ বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
ছাত্রলীগ জাকনবি শাখার সাধারণ সম্পাদক আপেল মাহমুদ দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের বা শাস্তির কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের কাগজপত্র আমরা পাইনি। এটা আমরা শুনছি যে কয়েকজনকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।
সুষ্ঠু তদন্ত না করে আসল অপরাধীদের বাদ দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর দোষ চাপিয়ে দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
কেএইচ





