গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদের দায়িত্ব অবহেলা, উদাসিনতা ও স্বজনপ্রীতির কারণে বিভিন্ন বরাদ্দসহ বিদ্যালয়ে ব্যাপক অনিয়ম দেখা দিয়েছে। হাজিরা খাতা সর্বস্ব ছাত্রছাত্রী।
অনিয়মের ব্যাপারে শিক্ষা অফিসারদের অবহিত করলে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানায়। কিন্তু কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা ভেঙ্গে পড়েছে।
উপজেলায় ২’শ ১২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে কয়েকটি বিদ্যালয় ব্যতিরেকে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে অনিয়মে ভরপুর। বিদ্যালয়ে শিক্ষক আছে, ছাত্রছাত্রী নেই। কোন বিদ্যালয়ে মাত্র ১ জন শিক্ষক রয়েছে, শিক্ষার্থী শূন্য। এমনও বিদ্যালয় রয়েছে দেখে মনে হয় না, বিদ্যালয়ে পড়ালেখা হয়।
স্বামী সভাপতি, স্ত্রী প্রধান শিক্ষক জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে। ছাত্রছাত্রী নেই, সুবিধাভোগীর সংখ্যা শতাধিক। প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুলতানা রাজিয়া পলাশবাড়ীতে যোগদান করার পর থেকেই প্রশাসনিক অবস্থা নেই বললেই চলে।
৯টি ইউনিয়নে ৯জন সহকারী শিক্ষা অফিসার (এটিও) থাকলেও তাদের দায়িত্ব নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন প্রধান শিক্ষক জানায়, বর্তমানে নিয়ম শৃঙ্খলা ভঙ্গের কথা। চাকরি করি, তাই বেশি বলতে পারছিনা। কেহ সকাল ৯টা থেকে সোয়া ৪টা পর্যন্ত বিদ্যালয় খুলে রেখে পাঠদান করছে, এ রকম কয়টি বিদ্যালয় পাবেন? বিদ্যালয় শূন্যপদ রহিয়াছে কিন্তু শিক্ষক প্রদানে অনিয়ম করা হচ্ছে।
তেকানী মুরারীপুর দক্ষিণপাড়া, পূর্ব গোপিনাথপুর উত্তরপাড়া, চেরেঙ্গায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাত্র ১জন করে শিক্ষক, শ্যামপুর বিদ্যালয়ে ২ জন শিক্ষক তবে বিদ্যালয়ে প্রায় ছাত্রছাত্রী শূন্য। খামারজামিরায় ৩ শিক্ষকের ৪ জন ছাত্রছাত্রী। শ্যামপুর বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মমতাজকে বরাদ্দসহ বিষয় গুলোর ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে ছাত্রছাত্রী নেই স্বীকার করে বলেন, বর্তমান ৪০ হাজার টাকার কাজ এখনও শুরু করিনি।
পূর্ব থেকেই বিদ্যালয়ে এ অবস্থা স্লিপের ৩০ হাজার টাকা কি করেছে সে বিষয়ে এড়িয়ে যান তিনি।
এ ব্যাপারে অত্র ইউনিয়নের এটিও সাহেবকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উন্নতি করার চেষ্টা করছেন বলে জানায়।
এছাড়া শিশু শ্রেণীর জন্য ৫ হাজার করে টাকা। কোন বরাদ্দেরই সফলতা নেই। সঠিক জবাবদিহিতা না থাকায় ব্যাপক অনিয়ম বৃদ্ধি পেয়েছে। অপেক্ষমান সরকারি তালিকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডাকুনি সোনাপাড়া, রামপুর-২, পার কিশোরগাড়ী, জাইতরবালা উত্তরপাড়ায় বরাদ্দ দিয়েছে ৪০ হাজার টাকা করে।
আরোও কিছু প্রধান শিক্ষক রয়েছে, শিক্ষক হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেই বিদ্যালয় ত্যাগ করেন।
অনেকেই আবার সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে বিদ্যালয়ে যান। এসব ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করলে তিনি জোর দিয়ে বলেন, যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু আজ অবধি কোন ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানা নেই।
এমআইএস





