জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে হলের দাবিতে আন্দোলনের নেতৃত্ব নিয়ে বাম সংগঠনগুলোর সঙ্গে ‘বিরোধের জেরে’ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ।
রোববার সকালে ওই ঘটনার এক ভিডিওতে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম প্রধান ফটকের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মিছিলে চড়াও হচ্ছেন।
এ ব্যাপারে সংগঠনের সভাপতি- সাধারণ সম্পাদকের পক্ষ থেকে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এবিষয়ে প্রক্টর নূর মোহাম্মদ বলেছেন, তারা অভিযোগ পাননি; পেলে ব্যবস্থা নেবেন।
শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে রোববার সকাল ৮টায় হল আন্দোলন শুরুর ঘোষণা দিয়েছিলেন।
এদিকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ক্যাম্পাসের নতুন ভবন ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে ক্যাম্পাসে মিছিল বের করে।
এসময় প্রধান ফটকের সামনে পৃথকভাবে অবস্থান নেয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি শরীফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা হয় বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক মনিরুল ইসলাম রাজন।
তার দাবি, হামলায় তিনি নিজে এবং অনিমেষ রায় ও তামিজসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।
মনিরুল ইসলাম রাজন বলেন, “আমরা মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে আসতেই ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক হামলা চালিয়ে আমাকে নতুন ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ডে নিয়ে যায়। তারা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে হল আন্দোলন চালিয়ে যেতে বলে।
“এক পর্যায়ে সিরাজুল ইসলাম আমাকে মারধর করে। পরে ছাত্রলীগ নেতারা আবার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়। এসময় ইংরেজি বিভাগের নাসির স্যার আমাদের উদ্ধার করেন।”
ছাত্রলীগের ওই হামলার পর আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হলেও সোয়া ১১টার দিকে তারা শাঁখারীবাজার মোড়ে অবস্থান নেন বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক কিশোর রায়।
তিনি বলেন, ছাত্রলীগ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর দফায় দফায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর নূর মোহাম্মদ বলেন, “তারা কী করছে তা আমার জানা নেই। আমার কাছে কোনো অভিযোগও আসেনি। অভিযোগ আসলে দেখবো।”
প্রশঙ্গত, গত ২ আগস্ট থেকে 'জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার' নামের একটি ফেইসবুক পেইজের ডাকে পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কারাগারের জায়গায় হলের দাবিতে আন্দোলনে নামে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনে বাম সংগঠনগুলোর তৎপরতা বাড়লে পেইজটি থেকে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়। আন্দোলন অব্যাহত থাকলে ছাত্রলীগ নেতারাও তাতে অবস্থান নিতে চান।
গত বুধবার পল্টন মোড়ে অবস্থান ধর্মঘট পালনকালে ছাত্রলীগ সভাপতি শরীফুল ইসলামের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের হাতাহাতিও হয়।
বাম সংগঠনের কর্মীরা ফেইসবুকে ছাত্রলীগকে এই আন্দোলনের প্রতিপক্ষ হিসেবে প্রচার চালিয়ে আসছে। তবে ছাত্রলীগের দাবি, আন্দোলনকারীদের সিংহভাগই তাদের সংগঠনের।
এসএম





