জাতির পিতা ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সংযুক্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুরঞ্জন ঘোষের ফেস্টুন ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে ঐ শাখার ছাত্রলীগ সভাপতি শরীফুল ইসলাম ও সাধরণ সম্পাদক এসএম সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তবে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দাবি বঙ্গবন্ধুর ছবি নয় বরং ফেস্টুনে তাদের ছবি না দেওয়ায় এ ভাংচুর করিয়েছেন তারা।
সোমবার দুপরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয় বিজ্ঞান অনুষদের বেশ কয়েকটি ফেস্টুন শরীপ সিরাজের কর্মীরা ভাংচুর করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রত্যাক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুর দুইটার দিকে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শরীফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক এসএম সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় বিজ্ঞান অনুষদে শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পদক সুরঞ্জন ঘোষের লাগানো ফেস্টুন ভাংচুর করেছে ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী।
জানা যায়, আগামী ৩০ মার্চ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পর পদপ্রত্যাশী নেতারা তাদের ব্যানার ফেস্টুন ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় লাগিয়েছেন। তবে সুরঞ্জন তার ফেস্টুনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রধানমন্ত্রী পুত্র ও আইটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনের ছবি এবং নিজ ছবি দিয়ে সম্মেলনের জন্য ফেস্টুন বানিয়েছেন তিনি।
জবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতির বক্তব্যে, সুরঞ্জন যে শাখায় ছাত্রলীগ করেন , সম্মেলনের আগে সে শাখার সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের ছবি না দিয়েই ভুলটা করেছেন তিনি।
তবে এ কথা মানতে রাজি না সুরঞ্জন ঘোষ। তিনি বলেন, আমি তাদের ছবি না দিলেও বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধুর ছবি দিয়েছি। যিনি আমাদের জাতির পিতা । আমার ভূলে জাতির পিতার ছবিকেও অবমাননা করেছেন তারা। শুধু জাতির পিতা নয় সেখানে বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রীর ছবি রয়েছে, সেখানে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাধারন সম্পদকেরও ছবি রয়েছে। তারা এ ফেস্টুন ভাংচুর করতে পারে না।
এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জবি ছাত্রলীগ সভাপতি শরীফুল ইসলাম 'টাইমনিউজকে' বলেন, একজন ছাত্রলীগকর্মী অথবা যদি সুরঞ্জন ঘোষের কথা বলি, তাকে সাংগঠনিক সম্পাদক আমি বানিয়েছি।আমার প্রশ্ন, যে ছেলে পিতকে অস্বীকার করে তাকে কি বলে? আমরা আমাদের কর্মীসভাতেও এ আলোচনা করেছি যে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিট কমিটির নেতৃবৃন্দের ছবি সংযুক্ত করতে হবে।সে শাখা ছাত্রলীগের এ আদেশকে অমান্য করেছে।সে তো ছাত্রলীগে থাকারই যোগ্যতা রাখে না।
সুরঞ্জনরা নেতৃত্বে আসলে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কি করবে তা নিয়েও প্রশ্ন করেন তিনি।
জবি ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ নিয়ে জানতে কথা বলতে চাইলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ফোন কেটে দেন এবং সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন বলেন, ফেস্টুন ভাঙার বিষয়টি খুবই দুঃখ জনক। আমরা এসব অনিয়মের কথা শুনেছি। আমরা পূর্ণাঙ্গ তথ্য নিয়ে ব্যবস্থা নেবো।
নাজমুল হাসান/এমই





