২৭ ঘন্টা ধরে অবরুদ্ধ হয়ে আছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক  ড. রফিকুল হক। নিজ বাসভবনেই তিনি অবরুদ্ধ হয়ে সময় কাটাচ্ছেন। ছাত্র সমিতির ব্যানারে একদল ছাত্র মঙ্গলবার বিকাল ৪টা থেকে এখন পর্যন্ত বাসভবন ঘিরে রেখেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিসারিজ অনুষদের ছাত্র সাদ ইবনে মমতাজ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় খুনিদের বিচার দাবিতে ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে বাকৃবির ভিসি প্রফেসর রফিকুল হক বলেন,বাকৃবিতে ছাত্রলীগ আমিই প্রতিষ্ঠা করেছি। এ জন্য ১৯৬৬ সালে আমি বহিষ্কার হয়েছিলাম। এর পাশাপাশি আমাকে অনেক নির্যাতন ও কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। আমার খুবই খারাপ লাগছে যে ছাত্র সমিতির ব্যানারে ছাত্রলীগের ছেলেরা আমার সঙ্গে অশালীন আচরণ করছে। আমার নাম ধরে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেছে। আমি সহ্য করতে পারছিনা।
মঙ্গলবার রাত থেকে আমি অবরুদ্ধ হয়ে আছি। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমার খারাপ লাগছে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি ছাত্রলীগ আমার সঙ্গে এধরনের অশোভন আচরণ করছে। আজ যদি ছাত্রদল কিংবা শিবির আমার সঙ্গে এধরনের আচরণ করতো তাহলে আমার কষ্ট হতো না। এক সময়ের প্রাণের সংগঠন আমার সঙ্গে এমন করছে। তবে ছাত্রলীগের প্রতি আমার কোনো ক্ষোভ নেই। আমি চাই ছাত্রলীগ পরিশুদ্ধ হোক।
তিনি বলেন,আমাকে অবরুদ্ধ করে রাখার পেছনের কারণ হচ্ছে কিছু ব্যক্তিস্বার্থ। একটি মহল ছাত্রদের ভুল পথে পরিচালিত করছে। আমার বিরুদ্ধে অযথা অহেতুক লেলিয়ে দেয়া হচ্ছে। এর নেপথ্যে নানা স্বার্থ জড়িয়ে আছে। প্রধান লোভ হচ্ছে ভিসি পদ দখল।  
তিনি আরও বলেন,সাদ হত্যাকাণ্ডের ২ দিন আগে বাকৃবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মোর্শেদুজ্জামান খান বাবু আমাকে একটি নিয়োগ নিয়ে চাপ দিয়েছিলেন। আমি তা মেনে না নেয়ায় সে আমাকে শাসিয়েছে। নানা ধরনের অশালীন ভাষায় গালমন্দ করেছে। এমনকি আমি কিভাবে ক্যাম্পাসে থাকি তা দেখে নেয়ার হুমকি দিয়েছিল সে। এর দু’দিন পরেই সাদ খুন হয়েছে। সাদকে প্রথমে ছাত্রলীগের ছেলেরাই পিটিয়েছে। এমন প্রমাণও পেয়েছে তদন্ত কমিটি। একাজটি করার কোন অধিকার নেই ছাত্রলীগের। সামান্য ব্যক্তি স্বার্থে তারা সাদকে পিটিয়েছে, নির্যাতন করেছে। গুটিকয়েক ছাত্রলীগ নেতার কারণে বাকৃবিতে ছাত্রলীগ কলুষিত হচ্ছে। আর এর সুযোগ নিচ্ছে অন্য দলগুলো। এটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। একারণে ছাত্রলীগকে পরিশুদ্ধ করার জন্য আমি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছি। এর আগে কোনো হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি। আমিই প্রথম বিচার করেছি। এর জন্য সরকারের উচ্চমহলের সঙ্গে পরামর্শ করে নিয়েছি।
তিনি বলেন,সাদ হত্যার ঘটনাটি প্রক্টর নিজে ভালভাবেই জানতেন। অথচ তিনি আমাকে তা জানাননি। তিনি কেন তা জানান নি এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ভিসি। ভিসি বলেন ঘটনাটি আমি জানলে সেখানে যেতাম। তাহলে হয়তো সাদ মারা যেতো না। অথচ প্রক্টর কোন রহস্যজনক কারনে হাসপাতালে যান নি। এব্যাপারে কোন ব্যবস্থাও নেন নি। এঘটনা জানতে পেরে আমি তাকে সরিয়ে দিয়েছি। এটাই আমার অপরাধ হয়েছে। সাদের খুনের ব্যাপারে ছাত্রলীগকে পরিশুদ্ধির জন্য কয়েক নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছি। এটাই কি আমার অপরাধ? আমি জামায়াত-শিবিরকে প্রশ্রয় দেই না এটা আমার অপরাধ? অথচ ছাত্রলীগ সভাপতি টাকার বিনিময়ে কমিটিতে শিবিরের ছেলেদের স্থান দিয়েছেন। বিভিন্ন নিয়োগের ব্যাপারে তার কথা না শোনা আমার অপরাধ হয়েছে। তিনি বলেন প্রক্টরকে সরিয়ে দেয়ায় তার নির্দেশেই ছাত্র সমিতির নেতাকর্মীরা এমন উল্টা-পাল্টা কাজ করছে। এর সঙ্গে যারা পদলোভী রয়েছেন তারা ইন্ধন দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন ভিসি প্রফেসর ড. রফিকুল হক।
ভিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে ভিসি পদে বসিয়েছেন তাই কারো চোখ রাঙ্গানিতে আমি ভয় পাইনা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়,সাদের প্রকৃত খুনিদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া, শিক্ষক লাঞ্ছিতকারীদের বিচার করা,ক্লাসরুমে যারা ছাত্রদের ঢুকতে বাঁধা দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া,বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কর্তৃপক্ষের যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া,সাদ খুনের ঘটনা নিয়ে যারা রাজনীতি করে বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশের সৃষ্টি করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া এবং আবাসিক হলগুলো থেকে বহিরাগতদের বের করে দেয়ার দাবিতে মঙ্গলবার বিকেল থেকেই ভিসি বাসভবন ঘেরাও করে আন্দোলনকারী ছাত্র সমিতির নেতাকর্মীরা।
ছাত্র সমিতির ভিপি ইনাম আহমেদ জানান,পুলিশি বাধার মুখেই তারা ভিসি অফিসের সামনে রাতভর অবস্থান নিয়েছেন।
[b]ঢাকা, ৩০ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ
[/b]