রাজধানীর স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিচার দাবিতে সিদ্ধেশ্বরী ক্যাম্পাসে তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি চলছে।
আজ (০৮ ডিসেম্বর) রোববার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় সিদ্ধেশ্বরী শাখার শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন।
শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, রুম্পাকে হত্যা করা হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে এই হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করতে হবে।
শিক্ষার্থীরা বলেছে, রুম্পা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। কিন্তু ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও হত্যারহস্যের কূলকিনারা করতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষার্থীরা বলেন, এ হত্যার সঙ্গে জড়িত যারা, তাদের যেন দ্রুত আইনের আওতায় আনা হয়; পাশাপাশি এ আন্দোলন প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। যাতে শিক্ষার্থী ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
মানববন্ধনে রুম্পার সহপাঠীরা বলেন, আর যেন কোনো রুম্পাকে এভাবে মরতে দেখা না যায়। এ হত্যাকাণ্ডের একমাত্র বিচার মৃত্যুদণ্ড। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলেই আমরা রক্ষা পাব, না হলে এ রকম নির্মম হত্যাকাণ্ড চলতেই থাকবে।
স্টামফোর্ডের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক জেরিন বলেন, আমরা আর কোনো শিক্ষার্থীকে এভাবে হারাতে চাইনা। রুপা হত্যার সঠিক তদন্ত করে তার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।
শিক্ষক সালমা বলেন, আমরা স্টামফোর্ড পরিবার ও ইংরেজি বিভাগ রুম্পা হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও এই হত্যার রহস্য উৎঘাটনের দাবি জানাচ্ছি।
এর আগে শনিবারও বিক্ষোভ করেন স্টামফোর্ডের শিক্ষার্থীরা। এদিন দেশের বেশ কয়েকটি ক্যাম্পাসে রুম্পা হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ করেন।
উল্লেখ্য, গত ০৪ ডিসেম্বর (বুধবার) রাত পৌনে ১১টার দিকে সিদ্ধেশ্বরীর ৬৪/৪ নম্বর বাসার নিচে ওই ছাত্রীর লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। যে জায়গায় এ ঘটনা, তার আশপাশে বেশকিছু ছেলে ও মেয়েদের হোস্টেল রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হত্যার আলামত সংগ্রহ করেন।
রুম্পার লাশ উদ্ধারের ঘটনায় রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন ওই থানার এসআই আবুল খায়ের।
রুম্পা ঢাকার স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষে পড়তেন। মালিবাগের শান্তিবাগে মা ও ভাইয়ের সঙ্গে থাকতেন ভাড়া বাসায়। চাকরির কারণে তার বাবা রোকনউদ্দিন হবিগঞ্জে থাকেন।
এমবি





