প্রকাশ্য দিবালোকে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মেধাবী ছাত্র নাসিম আহমেদ সোহেলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে মন্তব্য করে সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের মধ্যে কয়েকজনকে শনাক্ত করে পুলিশ প্রশাসন গ্রেফতার করতে সক্ষম হলেও মূলহোতা এখনও গ্রেফতার হয়নি-যা দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত।
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে বৃহস্পতিবার (০৭ এপ্রিল) সোহেলের খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে নগর ছাত্রলীগের একাংশ আয়োজিত প্রতীকী অনশন কর্মসূচিতে মেয়র এসব কথা বলেন।
প্রশাসন নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হবে আশাবাদ জানিয়ে মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠিত প্রিমিয়ার বিশ্ববিদালয়ের উজ্বল ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার অভিপ্রায়ে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে সোহেলের মতো একজন দক্ষ সংগঠককে হত্যা করেছে।
মেয়র আশা করেন, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে সচেষ্ট থাকবে।
তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে কোনো দানশীল ব্যক্তি বা শিক্ষানুরাগী বা কোনো প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো কোনো প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পর তার মালিকানা দাবি করার কোনো যৌক্তিক কারণ থাকতে পারে না। প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের প্রচলিত আইন দ্বারা পরিচালিত হয়। অনুরূপভাবে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠা করলেও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন দ্বারা বেসকরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনে সেটি পরিচালিত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকানা কোনো বিশেষ ব্যক্তি দাবি করতে পারে না। যেকোনো প্রতিষ্ঠান সর্বজনীন হলেই তার সুনাম বৃদ্ধি পায়।
প্রতীকী অনশন চলাকলে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সহসভাপতি রেজাউল আলম রনি। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মহানগর ছাত্রলীগের সহ সভাপতি মো. শাকিল। অনশন কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্য দেন নগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, মঞ্জুর হোসেন, মোহাম্মদ ইছা, ডা. ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী, ডা. তিমির বরণ চৌধুরী, প্রকৌশলী বিজয় কিষান চৌধুরী, সাবেক ছাত্রনেতা আবদুল মন্নান ফেরদৌস, অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার, কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক, হাসান মুরাদ বিপ্লব, সাবেক ছাত্রনেতা দিদারুল আলম দিদার, সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবিদা আজাদ, জেসমিন পারভীন জেসি, সাবেক ছাত্রনেতা সুমন দেবনাথ, আশরাফুল আলম আরজু, ওয়াহিদুল আলশ শিমুল, জাবেদুল আলম সুমন, হেলাল উদ্দিন, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা আবদুল্লাহ আল মামুন, ইয়াছির আরাফাত, ফয়সাল বাপ্পী, হেলাল উদ্দিন আহমেদ, মহানগর ছাত্রলীগের সহ সভাপতি মিথুন মল্লিক, চবি সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নুর মোহাম্মদ নাজমুল, আরিফ উল্লাহ প্রমুখ।
উপস্থিত ছিলেন ছাত্রনেতা সরওয়ার উদ্দিন, এম কায়সার উদ্দিন, ওয়াহেদ রাসেল, মইনুর রহমান মঈন, মঈন শাহরিয়ার, অছিউর রহমান, সনেট চক্রবর্তী, মনির চৌধুরী, ইমরান আলী মাসুদ, নাসির উদ্দিন কুতুবী, এস এম হুমায়ুন কবির আজাদ, মোরশেদুল আলম, মিজানুর রহমান প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, সোহেল শহীদ হওয়ার পরও যারা তার লাশ দেখতে যাননি, জানাজা নামাজেও উপস্থিত হননি, এমনকি মর্গেও যাননি, তাতেই প্রমাণিত হয় একটি মহল ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে খুনিদের বাঁচাতে তৎপরতা চালাচ্ছে। তা ছাড়াও সোহেল হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে চলমান আন্দোলনকে নস্যাৎ করতে এবং একটি মহল প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়কে ব্যক্তিস্বার্থে কর্তৃত্ব নেওয়ার জন্য পাঁয়তারা করছে। এমনকি ঐ মহলটি সোহেলের হত্যার বিচার প্রক্রিয়াকে দমিয়ে রাখতেও অপপ্রয়াস চালাচ্ছে।
তারা বলেন, সোহেলের হত্যাকাণ্ডের নয় দিন পার হওয়ার পরও চিহ্নিত আসল খুনিরা গ্রেফতার হয়নি। অবিলম্বে খুনিদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করতে হবে।
অনশন কর্মসূচিতে অংশ নেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য শহিদুল কাউসার, সুজিত দাশ, জালাল আহমদ দুলাল, মিনহাজুল আবেদীন সাইম, আবদুল মান্নান, মো. ফারুক চৌধুরী, এএম মহিউদ্দিন আলী নুর, তানভীর আহমেদ রিংকু, আবদুল্লা আল মামুন রুমেল, মো. সালাহ উদ্দিন, অশেক দেব লিটন, মুকসুদ আলী, সুমন চৌধুরী, গৌতম হাজারী, আবু সুফিয়ান, ইয়াকুল ইসলাম টিপু, আবদুল্লাহ আল মামুন, মো. আইয়ুব, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কামরুজ্জামান ফয়সার, টুম্পা দাশ, অনুপ বড়ুয়া প্রমুখ।
এসটি





