সোহাগী জাহান তনুসহ সকল ধর্ষণ, হত্যা ও গুম-খুনের প্রতিবাদে প্রগতিশীল ছাত্রজোট ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্যের ডাকা আধাবেলা হরতালের সমর্থনে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল ছাত্র জোট ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ছাত্র ঐক্য’র নেতাকর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
সকাল ছয়টা থেকে নয়টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রান্তিক গেটের সামনে এ আবরোধ কর্মসূচি পালন করে তারা ।
এদিকে সকাল নয়টায় পুলিশ এসে অবরোধকারীদের সরিয়ে দিতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে কমপক্ষে ১৮ জন আহত হন। এসময় পুলিশ ছাত্র জোটের ১১ জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে। পরে বিকেলে আকটকৃতদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
প্রত্যাক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকাল ছয়টা থেকেই শিক্ষার্থীরা ঢাকা আরিচা মহাসড়ক আবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে, মিছিল ও প্রতিবাদী গান গেয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। এসময় রাস্তার দুপাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সকাল নয়টায় পুলিশ এসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রাস্তা থেকে সরে যেতে বলে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা দুপুরের আগে রাস্তা ছাড়তে অস্বীকার করলে পুলিশের সাথে বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশ লাঠি চার্জ করলে ১৮ শিক্ষার্থী আহত হয়। পরে ১১ শিক্ষার্থীকে আটক করে আশুলিয়া থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রশাসনিক ভবন অবরোধ: এদিকে পুলিশ কর্তৃক আন্দোলনকারী ১১ শিক্ষার্থীকে আটকের প্রতিবাদ ও তাদের মুক্তির দাবিতে এবং আন্দোলনকারীদের উপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে প্রক্টরের পদত্যাগ দাবিতে সকাল দশটা থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক করে রাখে প্রগতিশীল শিক্ষার্থীরা। এসময় উপাচার্য, প্রো- উপাচার্য, ট্রেজারার, রেজিষ্ট্রার, প্রক্টরভবন অবরোধ সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
পরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম আটককৃত শিক্ষার্থীদের মুক্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করে।
আটককৃত শিক্ষার্থীরা হলেন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাসুক হেলাল অনিক, সাধারণ সম্পাদক সুস্মিতা মরিয়ম, প্রচার সম্পাদক উজ্জ্বল, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক আবিদ সরকার সোহাগ, দপ্তর সম্পাদক সিয়াম, কার্যকরী সদস্য রাকিবসহ জামিল, চন্দন, নিতুণ, মাহাথির, আকাশ ও তানি।
ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সভাপতি দীপাঞ্জন সিদ্ধান্ত কাজল বলেন, প্রশাসন এবং প্রক্টরের সহযোগিতা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এরকম হামলা চালাতে পারে না পুলিশ। তাদের প্রত্যক্ষ্য মদদেই আমাদের সহকর্মীদের আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ এবং প্রক্টরের নির্দেশেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রান্তিক গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আটকৃতদের ছাড়ানোর জন্য আমরা চেষ্টা করছি। আশা করছি আজকের মধ্যই তাদের ছাড়িয়ে আনা যাবে এবং তাদের নামে যেন মামলা দেওয়া না হয় তার জন্য আমরা পুলিশের উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি।’
তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন,‘বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বাইরে থেকে পুলিশ শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বাইরে এরকম হলে প্রশাসন এর জন্য দায়ী নয়। তাছাড়া পুলিশের সাথে আমার কোন যোগাযোগ হয়নি। সকালে গিয়ে আমি শিক্ষর্থীদের শুধু রাস্তা আবরোধ প্রত্যাহার করতে বলেছি কিন্তু তারা তা না করায় আমি সেখান থেকে চলে এসেছি’।
এদিকে, প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের ডাকা আধাবেলা হরতালে ঢাকা আরিচা মহাসড়ক অবরোধের কারণে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তা বন্ধ থাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে দুভোর্গে পড়েন চাকুরিজীবী, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা । অনেককে বাধ্য হয়ে পায়ে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দিতে দেখা গেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
এমআইএস





