২০ দলীয় জোটের ডাকা টানা কর্মসূচিতে হুমকির মুখে পড়েছে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা। পাল্টে গেছে রাজধানীসহ দেশের স্কুলগুলোর স্বাভাবিক চিত্র। আতঙ্ক আর অস্থিরতায় প্রতিনিয়তই কমছে স্কুলমুখি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা। শিক্ষাদান ছাড়াও মেধাবিকাশের অন্যান্য কর্মকাণ্ড বন্ধ হওয়ায় হতাশ স্কুলের শিক্ষক ও অভিভাবকরা। শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে দিতে রাজনীতিবিদদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহবান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
বেলা ১১ টা বেজে ৫৫ মিনিট। শ্রেণিকক্ষের পরিবর্তে বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় শিক্ষার্থীরা। নতুন বছরে নতুন বইয়ের গন্ধে যাদের উচ্ছ্বসিত হওয়ার কথা তারাই এখন বেশিরভাগ সময় কাটাচ্ছে খেলাধুলায়। নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় আসন্ন পরীক্ষা নিয়েও হতাশ এসব ছেলেমেয়েরা । টানা অবরোধের অনেকটাই ভেঙ্গে পড়েছে শিক্ষাবর্ষের ক্যালেন্ডারের চিরচেনা হিসাব নিকাশ।
শিক্ষার্থীরা বলেন, 'আমাদের সামনে পরীক্ষা, সেটার জন্য প্রস্তুতি দরকার কিন্তু আমাদের বেশিরভাগ ক্লাসই হচ্ছে না। আমরা কোচিংয়েই বা কতটুকু পড়তে পারি। স্কুলে এসে আমরা প্রতিদিন খেলাধুলা করছি, এর সাথে যদি ক্লাসও হতো তাহলে আমাদের আরো ভালো হতো।'
সহিংস রাজনীতির কবলে আতঙ্কিত শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদানে শিক্ষকরাও যেন নির্বিকার। দেশের অধিকাংশ স্কুলেই শিক্ষাদান প্রায় বন্ধ। যেসব স্কুলে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে সেখানে ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতির হার শতকরা ১৫ থেকে ২০ ভাগ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা স্কুলে আসছে, বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত চরম দুঃশ্চিন্তায় তাদের অভিভাবকরাও।
শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, 'পরীক্ষা তো সময় মতোই হবে, যদি এখন ঠিকমতো ক্লাস না করতে পারি তাহলে আমাদের ফলাফল খারাপ হয়ে যাবে। নতুন বই পেয়ে আমরা আনন্দিত হয়েছিলাম। কিন্তু অবরোধের কারণে ঠিকমতো ক্লাস হয় না, এজন্য আমরা খুব কষ্টে আছি।'
একজন অভিভাবক বলেন, 'নিয়মিত ক্লাস হলে ছেলেমেয়েরা ভালো লেখাপড়া করে। ক্লাস ঠিক মতো না হলে বাসায় ছেলেমেয়েরা পড়াশুনা করে না।'
এই বাস্তবতায়, মেধা বিকাশে বছরের শুরুতে ভিন্নধর্মী নানা আয়োজন থেকে শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হওয়ায় হতাশ প্রতিষ্ঠান প্রধানরা।
নীলক্ষেত হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন, 'জানুয়ারি মাসের শিক্ষা কার্যক্রমের সাথে সাথে কো-কারিকুলামগুলো সম্পূর্ণ করে থাকি। এর মধ্যে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, বার্ষিক মিলাদ কিন্তু এবারের অবরোধের কারণে ওই কর্মকাণ্ডগুলো থেকে মারাত্মকভাবে বঞ্চিত হচ্ছি।'
নানামুখী উদ্যোগ নেয়ার পরও বিদ্যালয়ে বাড়ছে না শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি। এমন প্রেক্ষাপটে শিক্ষাঙ্গনের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে রাজনীতিবিদদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহবান জানালেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ফাহিমা খাতুন বলেন, 'এইভাবে যদি হরতাল-অবরোধ চলে তাহলে শুধু শিক্ষাজীবন কেন সকল স্বাভাবিক জীবনই বিপর্যস্ত হয়ে যায়। যাদের কাছে এই ধরনের মারণাস্ত্রটি রয়েছে তারাও চিন্তা করবেন- জাতিকে কিছু দেওয়ার আছে।'
রাজনৈতিক অচলাবস্থায় কারণেই শিক্ষাঙ্গনের এমন প্রাণহীন চিত্র। চলমান অস্থিরতা হয়তো কাটবে একদিন, কিন্তু আগামী দিনের কর্ণধাররা কি ফিরে পাবে স্বপ্নবোনার এই দিনগুলো।
জেআই





