আধুনিক সমাজ জীবনে স্ট্রেস, ডিপ্রেশন নামক শব্দগুলোর দাপট বাড়ছে৷ যে কোনও বয়সের মানুষই আক্রান্ত হচ্ছেন এই রোগে৷অনেকেই বেছে নিচ্ছেন আত্মহত্যার পথ।
সম্প্রতি বাংলা টেলিভিশনের অভিনেত্রী দিশা গঙ্গোপাধ্যায়ের আত্মহত্যার ঘটনা অনেকের মনেই প্রভাব ফেলেছে।
টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রকেও নাড়া দিয়েছে এই ইয়ং অভিনেত্রীর আত্মহত্যার ঘটনা। টলিউডের এই অভিনেত্রী মনে করেন, ধৈর্য কমে যাওয়ায় মানুষ তাড়াতাড়ি অবসাদগ্রস্থ হয়ে পড়ছেন৷আর এর ফলেই এই অঘটনগুলো ঘটছে।
এবিষয়ে মন খুলে কথা বললেন শ্রীলেখা মিত্র। শ্রীলেখা বলেন, আমি দিশাকে আমি ব্যাক্তিগতভাবে চিনি না তাই ওর সম্পর্কে কিছু না জেনে আমি কোনও মন্তব্য করব না। তবে, যে কোনও কারোর ক্ষেত্রে এই ধরনের ঘটনা খুব দুঃখজনক। আসলে মানুষ যখন আত্মহত্যা করে তখন তো কোনও কিছু ভেবে-চিন্তে করে না। অ্যাকিউট ডিপ্রেশন থেকে করে।
শ্রীলেখা মনে করেন, অভিনয় জগতের মানুষদের নিয়ে সাধারণের অনেক ভুল ধারণা আছে। তিনি বলেন, মানুষ মনে করে অভিনয় জগতের মানুষরা অন্যদের থেকে অনেক বেশী অবসাদে ভোগেন। কিন্তু, এটা ঠিক নয়। যে কোনও প্রোফেশনে কাজের প্রেসার আছে। প্রতিযোগিতা আছে, ডিপ্রেশন তো একটা রোগ।
এটা যে কোনও কারোর হতে পারে। একজন অ্যাক্টর যেমন অবসাদে ভুগতে পারেন সেইরকম একজন গৃহবধূ, এসকর্টস কিংবা পলিটিশিয়ানও ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হতে পারেন। আসলে মূল বিষয়টা হল এখন মানুষের ধৈর্য কমে যাচ্ছে।
‘‘আমি দিশাকে আমি ব্যাক্তিগতভাবে চিনি না তাই ওর সম্পর্কে কিছু না জেনে আমি কোনও মন্তব্য করব না৷তবে, যে কোনও কারোর ক্ষেত্রে এই ধরনের ঘটনা খুব দুঃখজনক৷আসলে মানুষ যখন আত্মহত্যা করে তখন তো কোনও কিছু ভেবে-চিন্তে করে না৷অ্যাকিউট ডিপ্রেশন থেকে করে।’’
টলিউডের সফল অভিনেত্রী বলেন, আমরা ছোটবেলায় খুব অল্পতেই খুশি হতাম। এখন মানুষের চাহিদা বাড়ছে৷টাকা রোজগারের জন্য প্রচুর পরিশ্রমও করছে মানুষ। কিন্তু টাকা দিয়ে তো শুধু সুখ কেনা যায়! শান্তি কেনা যায় না৷এখন লোকজন পরিবারের সঙ্গে, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার থেকে শপিংমলে সময় কাটাতে বেশি পছন্দ করছেন।
আপনার যখন খুব মন খারাপ হয় তখন আপনি কি করেন? এই প্রশ্নের উত্তরে শ্রীলেখা বলেন, আমার যখন খুব মন খারাপ করে তখন আমি মন খুলে খুব কাঁদি। খুব হালকা লাগে নিজেকে। আমি সিঙ্গল মাদার। আমার খুব ভালো বন্ধু আমার মেয়ে। যতটা সম্ভব আমি ওর সঙ্গে শেয়ার করি।
এছাড়াও বই পড়ি, চকলেট খাই। চকলেটে একটা হ্যাপি হরমোন থাকে৷চকলেট খেলে দেখবেন হঠাৎ করে মনটা কেমন ভালো হয়ে যায়।
এটা বিজ্ঞানসন্মত। যারা অবসাদে ভুগছেন, তাদের জন্য আমার একটাই পরামর্শ, মন খারাপকে ইনডালজ করবেন না৷কাছের বন্ধুর সঙ্গে মনের কথা শেয়ার করুন। সেটা যদি সম্ভব না হয়, তাহলে ভালো সাইক্রিয়াটিকের কাছে গিয়ে কাউন্সেলিং করান।
ইআর





