উপমহাদেশের খ্যাতিমান চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ এবং বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান সম্পাদক মিশুক মুনিরের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট মানিকগঞ্জে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তারা মারা যান।

নতুন চলচ্চিত্র ‘কাগজের ফুল’-এর শুটিংয়ের স্থান দেখতে তারেক মাসুদ মিশুক মুনিরসহ সহকর্মীদের নিয়ে মানিকগঞ্জে যান। ফেরার পথে মানিকগঞ্জেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তারা।

তারেক মাসুদের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে নেয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি। এ উপলক্ষে ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ অব বাংলাদেশ (এফএফএসবি) ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি যৌথভাবে তারেক মাসুদ স্মরণে মঙ্গলবার থেকে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। একাডেমির জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে মঙ্গলবার বেলা তিনটা, বিকাল পাঁচটা ও সন্ধ্যা সাতটায় তারেক মাসুদের তিনটি চলচ্চিত্র ‘মাটির ময়না’, ‘মুক্তির গান’ ও ‘অন্তর্যাত্রা’ প্রদর্শিত হয়।

বিকাল চারটায় প্রদর্শিত হবে রানওয়ে চলচ্চিত্রটি। সন্ধ্যা ছয়টায় তারেক মাসুদসহ দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বলন, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় স্মরণ বক্তৃতা ও সন্ধ্যা সাতটায় প্রসূন রহমান পরিচালিত প্রামাণ্য চলচ্চিত্র ‘ফেরা’ প্রদর্শিত হবে।

স্মরণসভায় বক্তব্য দেবেন- চলচ্চিত্র গবেষক জাকির হোসেন রাজু ও ফাহমিদুল হক। বিষয় ‘তারেক মাসুদের প্রাসঙ্গিকতা: বাংলাদেশের চলচ্চিত্র এবং চলচ্চিত্রচর্চা’।

তারেক মাসুদ ১৯৮৫ সালের শেষ দিকে বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানকে নিয়ে নির্মাণ করেন জীবনের প্রথম প্রামাণ্যচিত্র ‘আদম সুরত’। এরপর ১৯৯৫ সালে নির্মাণ করেন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসনির্ভর দু’টি প্রামাণ্যচিত্র ‘মুক্তির গান’ ও ‘মুক্তির কথা’।

তিনি ২০০২ সালে নির্মাণ করেন প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্যে সিনেমা ‘মাটির ময়না’। মুক্তিযুদ্ধ আশ্রিত নান্দনিক এই সিনেমা কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হওয়ার পাশাপাশি জিতে নেয় সমালোচক পুরস্কার। এছাড়া প্রথম বাংলাদেশি সিনেমা হিসাবে অস্কার প্রতিযোগিতায় বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।
২০০৪ সালে ছবিটি ব্রিটেনের ডিরেক্টরস গিল্ড পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়। এরপর তারেক মাসুদ ২০০৬ সালে নির্মাণ করেন ‘অন্তর্যাত্রা’। সর্বশেষ নির্মাণ করেন ‘রানওয়ে’ ছবিটি। প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন নতুন ছবি ‘কাগজের ফুল’ নির্মাণের। এ ছাড়াও তারেক মাসুদের উল্লেখযোগ্য ছবিগুলো হচ্ছে- ‘সোনার বেড়ি’, ‘একুশে’ ও ‘নরসুন্দর’।

স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ ও তারেক মিলে ঢাকায় গড়ে তুলেছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রতিষ্ঠান অডিও ভিশন।

১৯৫৭ সালের ৬ ডিসেম্বর ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানায় তারেক মাসুদের জন্ম। তারেক মাসুদের শৈশবে শিক্ষাজীবন শুরু হয় মাদ্রাসায়। ভাঙ্গা ঈদগাঁহ মাদ্রাসায় প্রথম পড়াশোনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকেছেন। ১৯৮৯ সালে বিয়ে করেন ক্যাথরিন মাসুদকে। তিনি একজন মার্কিন নাগরিক। তাঁদের একমাত্র সন্তান মাসুদ নিষাদ।

ঢাকা, ১৩ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই