নগর জীবন মানেই ব্যাস্ততা।সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত চলে নাগরিকের ব্যাস্ততার
জীবন।ভোর থেকে শুরু হয় বাসের ফু ফু শব্দ, রিক্সার টিং টিং শব্দ যা চলে রাত পর্যন্ত।
সারাদিনে মানুষের কর্ম ব্যাস্তাতার শারীরিক ক্লান্তি চলে আসে। সে ক্লান্তি কে দুর করতে মানুষ
খোজে বেরায় সোন্দ্যর্য,আকর্ষনীয় কিছু মনোরম পরিবেশ।যা কর্ম ব্যাস্তাতার মানুষের মনে এনে
একটু প্রশান্তি।ঢাকা শহরে বিভিন্ন পর্যটক স্হান রয়েছে। যার মধ্যে ধানমন্ডি লেক অন্যতম।

প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত চলে মানুষের আসা যাওয়া ধানমন্ডি লেকে। নগর
জীবনের ক্লান্তি দূর করে একটু স্বস্তির নিশ্বাস নিতে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ভীড় জমায় এই
লেকে।প্রকৃতির হাত দিয়ে তৈরি হওয়া এই লেকের দুই ধারে রয়েছে আকাঁ বাকাঁ রাস্তা।যা
পর্যটকদের অপরুপ সৌন্দর্য লেক অবলোকন করাতে সহযোগিতা করে।এই লেকের দুই ধারে
দাড়িয়ে আছে অসংখ্য নানা প্রজাতির ছোট বড় গাছ। যা দেখতে আসা মানুষের মনে এনে দেয়
একটু প্রশান্তির ছোয়া।

প্রতিদিন সকালে থেকে অসংখ্য নারী পুরুষ আসে শরীর চর্চা করতে।কেউ আসে জিন্স প্যান্ট, টি
শার্ট পড়ে। আবার কেউ আসে টাওজার,কেটস পড়ে। কানে হেডফোন লাগিয়ে মনের আনন্দে
ব্যায়াম করতে থাকে। আবার কেউ আসে নিজের একান্ত প্রিয় জনকে সময় দিতে। তাদের মাঝে
সম্পর্ক আরো মজবুত করার জন্য।

সুখ দু:খের হাজারো কথা ভাগাভাগি করে নেয় কাছের মানুষরর সাথে।আবার কেউ নিয়ে আসে সন্তান সহ পুরো পরিবারকে।আবার কেউ কেউ নিয়ে দুর দুরান্ত আগত বন্ধু বান্ধবীকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কে অবলোকন করাতে।


চট্টগ্রাম থেকে আসা মঈন উদ্দিন জানান,বন্ধুদের মুখে অনেক শুনেছি ধানমন্ডি লেকের কথা।বিশ্বাস করতে পারছিনা এত সুন্দর জায়গা ।বন্ধুদের সাথে এসে খুব ভাল লাগছে।

এই লেকের দুই ধারে রয়েছে অসংখ্য বসার স্হান। যার প্রত্যেকটার রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন নাম।যেমন ব্যাচেলর পয়েন্ট,জিয়া চত্তর,শুটিং পয়েন্ট,জাহাজ বাড়ি পয়েন্ট ,ডিঙ্গি চত্বর,দ্বীপ চত্বর, লেক ভিউ সাইড,রবীন্দ্র সরোবর, শতায়ু অঙ্গন ইত্যাদি।জলাধার ঘেরা সবুজের সমারোহ এ জায়গাটিতে পাখির কিচিরমিচির শব্দে মাঝে মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলতে পারেন অজানায়।

এই লেকের অন্যতম আকর্ষন রবীন্দ্র সরোবর।এখানে প্রায় সারা বছর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক
অনুষ্ঠান হয়ে থাকে।এই রবীন্দ্র সরোবরের পাশে রয়েছে সুন্দর বসার স্হান।এখানে বসে অনেকে
প্রিয় জন বা বন্ধু বান্ধবীর সাথে আড্ডা বাজি করে সময় কাটিয়ে থাকেন।

ঘুরতে আসা মোস্তফা কামাল জানান,প্রতিদিন বিকেলে এখানে আসি বন্ধুদের সাথে সময় কাটাতে ।আর মনটাকে প্রপুল্ল রাখার জন্য।আমার মতে ঘুরার জন্য এটাই সর্বোত্তম স্হান।এখানের পরিবেশ খুব ভাল।
আবার চাইলে প্রিয় জনের সাথে ভ্রমন করতে পারেন লেকে নৌকা দিয়ে।দুর দুরান্ত আগত বন্ধু
বান্ধবীকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কে অবলোকন করাতে পারেন । তবে ভয় নেই, প্রত্যেকের জন্যই
লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা আছে এখানে। ‘ডিঙি বোট’-এর এই নৌকাভ্রমণে নৌকাপ্রতি প্রথম ৩০
মিনিট ১০০ টাকা, পরবর্তী ১৫ মিনিট ৫০ টাকা ভাড়া। প্রতি নৌকায় শিশুসহ সর্বোচ্চ তিনজন,
শিশু ছাড়া সর্বোচ্চ দুজন চড়তে পারবেন। তবে অভিভাবক ছাড়া ১২ বছরের ছোট শিশুদের
নৌকাভ্রমণ নিষিদ্ধ।

লেকের ভিতরে কাবাব,লুচি,সিঙ্গারা,সমুচা,ডাল পুরি,চটপটি ও ফুচকার বেশ কয়েকটি দোকান
আছে। যেখানে সুন্দর ভাবে বসার ব্যবস্থা রয়েছে। ঢাকা শহর জুড়ে রবীন্দ্রসরোবরের চায়ের
বেশ নাম ডাক আছে। ধানমন্ডি লেকে গেলে কেউ চা না খেয়ে ঘরে ফিরেন না।


হাসান ইমন