একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে স্বকৃত নোমানের নতুন উপন্যাস ‘কালকেউটের সুখ’। প্রকাশ করেছে জাগৃতি প্রকাশনী।

লেখকের মতে, উপন্যাসটি মূলত বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িকতা, হিন্দুধর্মাবলম্বীদের নীরব দেশত্যাগ এবং কালকেউটের মতো বিষধর স্বাধীনতাবিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর উত্থানকেন্দ্রিক একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক উপন্যাস।

জানা যায়, মৌয়াল বাওয়ালি জেলে কিষানদের গ্রাম সুন্দরবনঘেঁষা গরানপুরের পটভূমিকায় উপন্যাসের কাহিনি বিস্তৃত। গরানপুরের পুবের বনে বাঘের পিঠে চড়ে আঠারো ভাটি শাসন করে বনবিবি। দক্ষিণরায় বাঘের পালকে তাড়িয়ে দক্ষিণের জঙ্গলে জড়ো করে। শাজঙ্গলী মানুষের রূপ ধরে বাঘচালানের মন্ত্র দিয়ে যায়।

তবুও বনজীবীরা হারিয়ে যায়, গুম হয়ে যায়, খুন হয়ে যায়, বাঘ-কুমিরের শিকারে পরিণত হয়। চৌষট্টির দাঙ্গায় নিহত প্রসূন মাইতির পরিত্যক্ত ভিটায় স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধা কেশবচন্দ্র মণ্ডল। হিন্দু বলেই কি তার সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়? দুই মেয়ে পূর্বপুরুষের ধর্ম ছেড়ে হয়ে যায় মুসলমান। কেশব মণ্ডল নতুন নাম নিলেন কিশোয়ার মণ্ডল। তিনিও কি তবে মুসলমান হয়েছিলেন? পুরো ব্যাপারটাই রহস্যঘেরা। এক নিশিরাতে তিনিও নিখোঁজ হন।

হিন্দু, মুসলমান, ওয়াহাবি, সুন্নি, আহমদিয়া―একাধিক ধর্ম ও মতবাদের চর্চা শুরু হয় মণ্ডল পরিবারে। শুরু হয় তিক্ততা, সম্পর্কের পুনর্ভাঙন। গরানপুরে ধীরে ধীরে স্বাধীনতাবিরোধীদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়, শান্তি কমিটির নেতা ডেয়ারিং ছবু হয় ছবেদালি চেয়ারম্যান। মুক্তিযোদ্ধারা হয়ে পড়েন কোণঠাসা। নীরবে দেশ ছাড়ে হিন্দুরা, তাদের ভিটেমাটি বেদখল হয়ে যায়। মাইতির পরিত্যক্ত ভিটায় স্কুলের বদলে ওঠে মাদ্রাসা। বাবরি মসজিদ ভাঙার খবরে শুরু হয় মন্দির ভাঙার উৎসব, রক্তপাত। মুক্তিযোদ্ধাপুত্র মোছলেম তালুকদার হয়ে ওঠে দুর্ধর্ষ বনদস্যু। গন্তব্য ঠিক করতে পারে না নিখোঁজ কেশব মণ্ডলের মেয়ে নিঃসঙ্গ তাপসী। গরানপুরের পটভূমিকায় লেখক ধরেছেন সমগ্র বাংলাদেশের বাস্তবতা। শিল্পিত ভাষা ও আঙ্গিকে বাস্তবতাকে দিয়েছেন শিল্পরূপ।

বাংলা ভাষার প্রতিশ্রুতিশীল ঔপন্যাসিকের জন্ম১৯৮০ সালের ৮ নভেম্বর, ফেনীর পরশুরাম উপজেলার বিলোনিয়ায়। বাংলাদেশের কথাসাহিত্যে ইতিমধ্যে তিনি দৃষ্টিগ্রাহ্য মাত্রা সংযোজন করেছেন, উপন্যাসে সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন নিজস্বতা। তার উপন্যাসে একাঙ্গ হয়ে থাকে গ্রামবাংলার বিচিত্র মানুষ, প্রকৃতির বিপুল বৈভব, ইতিহাস, সমকাল, পুরাণ, বাস্তবতা ও কল্পনা।

রাজনটী উপন্যাসের জন্য ২০১২ সালে এইচএসবিসি কালি ও কলম কথাসাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তার বেগানা ও হীরকডানা উপন্যাস দুটি পাঠকনন্দিত। কালকেউটের সুখ তার সপ্তম উপন্যাস। প্রকাশ করেছে জাগৃতি প্রকাশনী। এটি বইমেলায় পাওয়া যাচ্ছে।

ইআর/একে