এখন বাংলা সিনেমা নিয়ে কথা বললে চোখে পানি চলে আসে। তাই এই বিষয় নিয়ে কিছু বলতে আর ভালো লাগে না। চলচ্চিত্রে কাজ করার আগ্রহও হারিয়ে ফেলেছি। ডিজিটাল চলচ্চিত্র বা যৌথ প্রযোজনার নামে যেসব ছবি নির্মাণ হচ্ছে সেসবের গল্পে বা গানে কোনো প্রাণ খুঁজে পাওয়া যায় না। মোদ্দাকথায় এখনকার চলচ্চিত্রের গল্প-গান কিছুই তো বুঝি না-দেশীয় চলচ্চিত্রের এ সময়ের অবস্থার কথা বলতে গিয়ে এমনটাই বললেন বাংলা চলচ্চিত্রের গুণী অভিনেত্রী ববিতা।
একসময়ের জনপ্রিয় এ নায়িকা এ পর্যন্ত ২৫০টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন। আর এর মধ্যে ‘বাদী থেকে বেগম’ (১৯৭৫), ‘নয়নমনি’ (১৯৭৬), ‘বসুন্ধরা’ (১৯৭৭), ‘রামের সুমতি’ (১৯৮৫) এবং ‘পোকামাকড়ের ঘর বসতি’ (১৯৯৬) ছবির জন্য সেরা অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। ববিতা অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি নার্গিস আক্তারের ‘পুত্র এখন পয়সাওয়ালা’।
এরপর আর কোনো নতুন ছবিতে দেখা যায়নি তাকে। তবে বর্তমানে তিনি মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের একটি মাত্র নতুন ছবিতে কাজ করছেন। দীর্ঘদিন অভিনয় থেকে দূরে রয়েছেন ববিতা।
নতুন ছবিটিতে কাজের বিষয়ে তিনি বলেন, ছবির নামটা মনে হয় পরিবর্তন হয়েছে। অনেক আগে এই ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলাম। গল্পটা অনেক সুন্দর। আগের নাম পরিবর্তন করে বর্তমানে এ ছবির নাম রাখা হয়েছে ‘এত প্রেম এত মায়া’। মানিকের পরিচালনায় এ ছবিতে কলেজের একজন অধ্যক্ষের চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে আমাকে। আর শাবনূরসহ এ ছবিতে এই প্রজন্মের নতুন দুটি ছেলে মেয়ে কাজ করবে বলে জেনেছি। ভালোই হবে বলে আশা করছি।
নতুনদের কাজের বিষয়ে ববিতা বলেন, নতুনরা অবশ্যই একদিন ভালো করবে। তবে তাদেরকে ভালো চরিত্রে দর্শকের সামনে দাঁড়াতে হবে। বুঝে শুনে ছবি করতে হবে। টাকার পেছনে ছুটলে চলবে না। ভালো-মন্দ বুঝে পা ফেলতে হবে।
আজিজুর রহমান পরিচালিত ‘মাটি’ নামে আরেকটি ছবিতে অভিনয় করার কথা ছিল ববিতার। তবে ছবির কাজ বা গল্প নিয়ে নির্মাতাদের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে আর তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি বলে জানালেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে ববিতা বলেন, প্রথমে এই ছবি নিয়ে কাজের কথা হলেও পরে আর কেউই এ ছবির গল্প নিয়ে আমার কাছে আসেননি। আর এমনিতেও এখন কাজ করার ইচ্ছে করে না। কারণ আগের মত গল্প, চরিত্র ও নির্মাতা পাচ্ছি না। মাঝে মাঝে মনে হয়, শত চেষ্টা করলেও চলচ্চিত্রের এই অবস্থা ঠিক করতে পারব না আমরা। আমরা শুধু কেন, যারা এই যুগের ছেলে-মেয়ে চলচ্চিত্রে টানা কাজ করছে তারাও পারবে না। কারণ তারা তো এখন অনেকটাই দেশীয় ছবি ছেড়ে যৌথ প্রযোজনার ছবিতে কাজ করছে। কাফনের কাপড় পরে যারা রাস্তায় নেমেছিল তারাই তো এসব ছবিতে অভিনয় করছে।
যৌথ প্রযোজনার ছবি নিয়ে তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ছবিতে কি হয় এটা আমরা ভালো করেই জানি। এটা হচ্ছে নামকা ওয়াস্তে কো-প্রোডাকশন। ওদের দেশের গল্প, সামাজিকতা ভিন্ন, তাহলে সবকিছু মিলে কিভাবে কো-প্রোডাকশন হবে? আমরা যেভাবে আগে কো-প্রোডাকশনে কাজ করতাম সেটা কি এখন হচ্ছে? তাদের চিন্তাধারার সঙ্গে কি আমাদের চিন্তাধারা মিলবে কখনো? আর তাদের ছবির গানও তো ভিন্ন ধরনের দেখলাম। না বাংলা, না উর্দু, না হিন্দী-কি যে হয় বুঝি না এখন। তাই এসব ছবি নিয়ে কথা বলতে একদমই ভালো লাগে না আর। এজন্য চলচ্চিত্র থেকেই দূরে সরে আছি আমি।
অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও চলচ্চিত্রের প্রতি টান ও ভালোবাসা ঠিকই রয়েছে ববিতার। এখনও স্বপ্ন দেখেন এই দেশের চলচ্চিত্র আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নাম করবে। আমাদের ছবি দেখে সব দর্শক একই কন্ঠে বলে ওঠবে, বাহ ছবিটা তো খুব সুন্দর!
এমআইএস





