বাংলা পপসংগীতের অবিসংবাদিত সম্রাট আজম খানের আজ জন্মদিন। ১৯৫০ সালের এই দিনটিতে ঢাকার আজিমপুরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার পুরো নাম মোহাম্মদ মাহবুবুল হক খান।
বাবা আফতাব উদ্দিন খান ছিলেন সরকারি চাকরিজীবী। মা জোবেদা বেগম সংগীতশিল্পী।
মায়ের অনুপ্রেরণায় শৈশব থেকেই সংগীতে নিয়মিত চর্চা। ১৯৬৬ সালে তিনি সিদ্ধেশ্বরী হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ১৯৬৮ সালে টিঅ্যান্ডটি মহাবিদ্যালয় থেকে এইচএসসি পাস করেন।
ষাটের দশকে পশ্চিমা ধাঁচের পপ গানে দেশজ বিষয়ের সংযোজন ও পরিবেশনার স্বতন্ত্র রীতিতে বাংলা গানে নতুন মাত্রা যোগ করেছিলেন আজম খান। শ্রোতাদের কাছে তখন এ ধরনের গান ছিল একেবারেই নতুন। এই নতুন ধারার গানের পথিকৃত হিসেবে তিনি শ্রোতাদের কাছে ‘পপসম্রাট' বা ‘পপগুরু' হিসেবে সম্মানিত হন।
আজম খানের মাধ্যমেই উন্মোচিত হয়েছিল এ সংগীতের এক অন্যধারা। দেশীয় পপগানের আকাশে তিনি ঘটিয়েছিলেন নতুন সূর্যোদয়। যে কারণে বাংলাদেশের পপসংগীতাঙ্গনের সব তারকা নির্দ্বিধায় ভালবাসা আর অসীম শ্রদ্ধায় তাকে বসিয়েছেন আকাশসম সম্মানের আসনে।
অপরাজেয় এক যোদ্ধা আজম খান। অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছিলেন দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য। জীবন বাজি রেখে ছিনিয়ে এনেছিলেন বিজয়। যুদ্ধোত্তর দেশে সূচনা করেছিলেন আরেক সংগ্রামের। সে সংগ্রাম নতুন ধারার সংগীত সৃষ্টির। সংস্কৃতির অচলায়নে তুমুল আলোড়ন তুলে স্বাধীন দেশে পাশ্চাত্য সংগীতের ধারার সংগীত রচনা ও পরিবেশনার মধ্য দিয়ে তারুণ্যের দুর্দমনীয় বাঁধভাঙা স্পন্দন বইয়ে দিয়েছিলেন তিনি।
বাংলাদেশের পপসংগীতের পথিকৃত হিসেবে তার গান ঠাঁই করে নেয় দেশের সংগীতপ্রিয় কোটি শ্রোতার হৃদয়ে।
[b]ঢাকা, ২৮ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই[/b]