সাত বছর পর এবার মায়ের সঙ্গে ঈদ ও জন্মদিন উদযাপন করেছি। এছাড়া টানা দুই বছর পর মায়ের সঙ্গে দেখা হয়েছে। দুই মামাতো ভাইয়ের বিয়ে ছিল এই বছর। পারিবারিক ভাবে বেশ ভালো সময় কাটিয়েছি। বলতে পারি, চলতি বছর ফ্যামিলিতে কোনো ক্রাইসিস ছিল না- বছরের শেষ সময়ে এসে পরিবার ও নিজের সম্পর্কে এভাবে বললেন জনপ্রিয় টিভি অভিনেত্রী নাদিয়া আহমেদ।

চলতি বছরটা শোবিজের জন্য কেমন ছিল? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, শোবিজে এবার আমরা বেশ কয়েকজন গুণী মানুষকে হারিয়েছি। ব্যান্ড লিজেন্ড আইয়ুব বাচ্চু, আমজাদ হোসেন, সাইদুল আনাম টুটুল ও সরকার ফিরোজের মতো মানুষদের আমরা এবার হারিয়েছি। যা আমাদের জন্য অনেক বেদনাদায়ক।

শোবিজের জন্য এটিকে শোকের বছরও বলতে পারি। এই গুণী ব্যক্তিদের শুন্যতা কখনো পূরণ হবে না। তবে বরাবরই তাদের সৃষ্টির মধ্যে আমরা তাদের খুঁজে নিবো। আমাদের ভালোবাসার মানুষ হয়ে থাকবেন তারা। চলতি বছর দর্শক টিভি নাটক থেকে দূরে ছিল বলে অনেকে মন্তব্য করেন।

বিশেষ করে যে নাটকগুলো আলোচনায় এসেছে সেগুলো ইউটিউবের কল্যাণে। বিষয়টিকে নাদিয়া কিভাবে দেখছেন? তার ভাষ্য, দর্শক এখন ইউটিউবের দিকে বেশি আগ্রহী এটি সত্যি। কারণ যে সময়ে টিভিতে নাটক প্রচার হয় তখন অনেকে বিভিন্ন কারণে ব্যস্ত থাকেন। এছাড়া মাত্রাতিরিক্ত বিজ্ঞাপনের কারণে ঠিক মতো নাটক দেখার সুযোগ পাওয়া যায় না। তাই দর্শক ইউটিউবকে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে।

শুধু নাটক নয়, টেলিভিশনের অন্য অনুষ্ঠানগুলোও দর্শক এখন ইউটিউবে দেখছে। এদিকে নাদিয়া আহমেদ বর্তমানে একাধিক ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করছেন বলে জানিয়েছেন। তার হাতে রয়েছে মিজানুর রহমান আরিয়ানের ‘গল্পগুলো আমাদের’, ডিকে আকাশের ‘ক্যাট হাউজ’, জাবির রাসেলের ‘বিড়ম্বনা’, তুষার খানের ‘বহে সমান্তরাল’, হিমু আকরামের ‘চম্পাকলি টকিজ’, ফজলুর রহমানের ‘উল্টো পথে উল্টো রথে’, শামিম জামানের ‘সব জান্তা শমসের’, অঞ্জন আইচের ‘অর্ধেক সত্য’ ও জুয়েল শরীফের ‘বড় বাড়ি’ শিরোনামের ধারাবাহিকগুলো।

১৯৮৬ সালে বিটিভির ‘শিশুমেলা’ নামের একটি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে টিভি পর্দায় আসেন নাদিয়া আহমেদ। পরবর্তিতে ১৯৯০ সালে ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতায় অভিনয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করেন তিনি। সেই সময় ‘বারো রকম মানুষ’ শিরোনামের একটি ধারাবাহিক নাটকের মাধ্যমে অভিনয় জগতে পা রাখেন। দীর্ঘ সময় অভিনয়ে টিকে থাকার রহস্য কি? নাদিয়া বলেন, একজন শিল্পীকে তার ভালো কাজের মধ্য দিয়ে দর্শকের কাছে গ্রহনযোগ্যতা ধরে রাখতে হয়।

গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখার জন্য ভালো কাজের বিকল্প নেই। কাজের সংখ্যা কম হোক। কিন্তু ভালো কাজ হতে হবে। অনেকেই শুধু কাজ করে থাকেন। তারা তারকাখ্যাতির জন্যই কাজ করেন। আমি বরাবরই ভালো পরিচালক ও গল্পের নাটকে কাজ করে আসছি। আলাপনের সর্বশেষ নাদিয়ার কাছে জানতে চাওয়া হয় নতুন বছরে কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান? তিনি বলেন, চলতি বছরের শেষ সময়ে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ক্ষমতার পালা-বদল হতে পারে।

তবে আমি মনে করি, নতুন বছরে সুন্দর একটি বাংলাদেশ আমরা পাবো। আমাদের নিরাপত্তার কোনো অভাব হবে না।