পঁচাত্তর বছর বয়স হলো নাট্যজন রামেন্দু মজুমদারের। আজ তাঁর জন্মদিন।
এই তো কিছুক্ষণ আগে তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতেই হেসে উঠলেন তিনি। বললেন, ‘আমি

জন্মদিনের আনুষ্ঠানিকতা পছন্দ করি না। কাজের মধ্যেই আছি। একটু আগে ছিলাম আরটিভিতে। এখন যাচ্ছি চ্যানেল আইতে। এরপর যাব অফিসে। অল্প কিছুক্ষণ থাকব সেখানে।’
তাহলে তো পুরোপুরি অন্য যেকোনো দিনের মতোই একটি দিন আজ?

স্বীকার করে নিলেন তা। বললেন, ‘বিকেলে যাব সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে। সেখানে তিন মন্ত্রীর উপস্থিতিতে জঙ্গিবাদ বিষয়ে কথাবার্তা হবে। আমি একটি বক্তৃতা উপস্থাপন করব। আর সন্ধ্যাটা কাটাব থিয়েটারের ছেলেমেয়েদের সঙ্গে।’
বহুদিন ধরে নাটক করছেন রামেন্দু মজুমদার। সংগঠক হিসেবেও তিনি অনন্য। এই যাত্রাপথে কতটা পথ পাড়ি দিতে পেরেছেন?
শুনে আবারও হাসলেন। বললেন, ‘আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। আর সেটা সম্ভব হয়েছে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে বলে। এখন আমাদের সামনে যে সংকট—সাম্প্রদায়িকতা আর জঙ্গিবাদ—এটাকেও সবাই মিলে একজোট হয়ে মোকাবিলা করতে পারব। সংস্কৃতি তাতে বড় শক্তি জোগাবে। এখন বাংলাদেশে দরকার সাংস্কৃতিক পূনর্জাগরণ।’
রামেন্দু মজুমদার ভাবছেন এ সময়টা নিয়ে, সমাজ নিয়ে। প্রতিটি পরিবারেরই উচিত সন্তানেরা কার সঙ্গে মিশছে, কোথায় যাচ্ছে, সেদিকে দৃষ্টি দেওয়া। শিক্ষকদেরও নজর দেওয়া দরকার, শিক্ষার্থীরা কী করছে

সেদিকে। ভাবছেন, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—এ দুটো জায়গা ঠিক হলে আমরা অনেক জায়গায় এগিয়ে যেতে পারব। আর তার বাইরে আবহমান অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতির চর্চা ও প্রসার ঘটাতে পারলে এ দেশে জঙ্গিবাদ শিকড় গাড়তে পারবে না বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
আসে পারিবারিক প্রসঙ্গ। ফেরদৌসী মজুমদার জন্মদিনে তাঁকে কী উপহার দিয়েছেন? এ কথা বলতে গিয়ে মনে পড়ে, বছর দুই আগে ফেরদৌসী মজুমদারের জন্মদিনে গিয়েছিলাম তাঁদের বাড়িতে। সেখানে দুজনের মধ্যে ফেরদৌসী আপাই বেশি কথা বলছিলেন আর হাসছিলেন প্রাণখুলে। রামেন্দুদা সব সময়ই মেপে

হাসেন। কম কথা বলেন। সে কথা মনে করিয়ে দিতেই সেই মাপা হাসিই এল প্রত্যুত্তরে। তারপর বললেন, ‘ফেরদৌসী আজ বলেছে, “কী উপহার দেব। আমার সঙ্গে থেকো সারা জীবন—এটাই আমার কামনা।” মেয়ে ত্রপা একটা খুব সুন্দর ব্যাগ উপহার দিয়েছে। নাতনি আমার জন্য কেক বানিয়েছে।’

‘কেক কাটা হয়ে গেছে?’
‘না। দুপুরে বাড়ি ফেরার পর কেক কাটা হবে।’
‘নাট্যজনদের জন্য আজ কিছু বলবেন?’
‘সব সময় যা বলি, তারই পুনরাবৃত্তি করব। আমরা নাটক করি মানুষের কল্যাণের জন্য। এমন আচরণ করতে হবে, যেন মানুষের কল্যাণ হয়, সমাজের ভালো হয়। সবার আগে চাইব, প্রত্যেকেই যেন ভালো মানুষ হতে পারি।’

এমবিএইচ