বনানী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে বর্ষীয়ান অভিনেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ আলীকে। আজ মঙ্গলবার আসরের নামাজের আগে এ অভিনেতাকে দাফন করা হয়। প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফরিদ আলীর ছোট ছেলে ইমরান আলী।
বনানী কবরস্থানে সমাহিত করার আগে অভিনেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ আলীর তিন দফায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। দিনের একেবারে শুরুতে পুরান ঢাকার ঠাঁটারী বাজার এলাকায় মরহুমের বাড়ির সামনে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এরপর তাঁর মরদেহ নেওয়া হয় ঢাকার তেজগাঁওয়ের চ্যানেল আই কার্যালয়ে। সেখানে বাদ জোহর অনুষ্ঠিত জানাজায় অংশ নেন চ্যানেল আইয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংস্কৃতি অঙ্গনের অনেকে।
জানাজার আগে কথা বলেন ফরিদ আলীর বড় ছেলে ইশতিয়াক আলী। তিনি বাবার চিকিৎসায় সহযোগিতার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও চ্যানেল আইয়ের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এরপর মরদেহ নিয়ে আসা হয় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণে। প্রযোজক পরিবেশক সমিতি ভবনের সামনের খোলা জায়গায় বেশ কিছুক্ষণ ফরিদ আলীর মরদেহ রাখা হয়। এখানে চলচ্চিত্রের বিভিন্ন সংগঠন তার কফিনে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এরপর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
তিনটি জানাজায় ফরিদ আলীকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানায় তাঁর পরিবার, বন্ধু, দীর্ঘদিনের সহকর্মী এবং চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের শিল্পীরা।
দীর্ঘদিন রোগভোগের পর গতকাল সোমবার বিকেলে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ফরিদ আলী। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। ফরিদ আলী অভিনীত একটি নাটকের সংলাপ ‘দুবাই যাব টাকা দেন’ এখনো ঘোরে অনেক দর্শকের মুখে। শুধু অভিনয় নয়, নাটক লেখা ও নির্দেশনায়ও পারদর্শী ছিলেন এই অভিনয়শিল্পী। শহীদুল আমীনের লেখা ‘কনে দেখা’ নাটকে অভিনয় করে ১৯৬২ সালে তাঁর অভিনয় যাত্রা শুরু হয়।
এ ছাড়া অসংখ্য মঞ্চনাটকে তিনি অভিনয় করেছেন। তাঁর নিজের লেখা প্রথম টিভি নাটক হলো ‘নবজন্ম’। ১৯৬৬ সালে আমজাদ হোসেনের ‘ধারাপাত’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে অভিনেতা ফরিদ আলীর চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়। এরপর থেকে একাধারে বহু ছবিতে তিনি অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘জীবন তৃষ্ণা’, ‘স্লোগান’, ‘চান্দা’, ‘দাগ’, ‘অধিকার’ ইত্যাদি। ১৯৪৫ সালের ৭ এপ্রিল ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন ফরিদ আলী।
এসএ





