আঁখি আলমগীর। কণ্ঠশিল্পী ও মডেল। সম্প্রতি কলকাতায় 'টেলিসিনে অ্যাওয়ার্ড' পেয়েছেন তিনি। পাশাপাশি নতুন গান নিয়ে পরিকল্পনা করছেন। গান ও অন্যান্য বিষয়ে কথা হয় তার সঙ্গে-
সম্প্রতি কলকাতায় 'টেলিসিনে অ্যাওয়ার্ড' পেয়েছেন। এ প্রাপ্তির অনুভূতি কেমন ছিল?
অনেক আনন্দের। যে কোনো ভালো কাজের স্বীকৃতি হলো পুরস্কার। পুরস্কার মানুষকে ভালো কাজের উৎসাহ ও দায়বদ্ধতা বাড়িয়ে দেয়। যে কোনো পুরস্কার পাওয়ার পরপরই আরও ভালো কাজের সংকল্প করি। এর আগেও কলকাতা থেকে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী উৎসব সম্মাননা, যোধপুর পার্ক উৎসব সম্মাননা পেয়েছি। এবার পুরস্কার প্রাপ্তির আনন্দ ছিল অন্যরকম। টেলিসিনে সোসাইটি আয়োজিত অনুষ্ঠানে একই মঞ্চে বাংলাদেশের অনেক গুণী ব্যক্তির সঙ্গে পুরস্কার গ্রহণ করেছি।
দেশ ও দেশের বাইরে একের পর এক শো করছেন...
বিরতি দিয়ে গান প্রকাশ করছি। স্টেজ শো নিয়ে তাই ব্যস্ত সময় কাটছে। দর্শককে তো নিরাশ করতে পারি না। তাদের জন্যই একনাগাড়ে শো করে যাচ্ছি। শুনলে অবাক হবেন, চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত স্টেজ শোর সিডিউল দিয়ে রেখেছি। একটানা এত শো করা অনেক কষ্টসাধ্য ব্যাপার। দর্শকের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে সে কষ্ট মেনে নিচ্ছি।

আপনার সর্বশেষ প্রকাশিত 'লায়লা' গানটি নিয়ে দর্শক-শ্রোতার প্রতিক্রিয়া কেমন?
দারুণ সাড়া পাচ্ছি। এ গান শুনে অনেকে স্বীকার করেছেন, আগে কখনও আমার কণ্ঠে তারা এ ধরনের গান শোনেননি। শ্রোতারা সবসময় নতুন কিছু চান। তাই প্রতিনিয়ত চেষ্টা থাকে আগের কাজগুলো থেকে নিজেকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের। সে থেকে ভিন্ন আঙ্গিকের 'লায়লা' গাওয়া।
একক বা দ্বৈত গানের পাশাপাশি অ্যালবাম নিয়ে কিছু ভাবছেন?
এখন গান প্রকাশ কম হচ্ছে। লায়লা করেছি প্রায় তিন বছর বিরতি দিয়ে। হুড়োহুড়ি করে গান প্রকাশ করতে ভালো লাগে না। একক গানের জোয়ারেও অ্যালবাম প্রকাশ করার ইচ্ছা একেবারে শেষ হয়ে যায়নি। কিন্তু কবে নাগাদ অ্যালবাম করব তা এখনই বলতে পারছি না। একেকটা গানের পেছনে যথেষ্ট সময় দিই। এরই মধ্যে নতুন গানের পরিকল্পনা করছি। সবকিছু ঠিকঠাক হলে এ ব্যাপারে ঘোষণা দিতে পারব।
গতকাল ছিল বিশ্ব সঙ্গীত দিবস। এর আয়োজন নিয়ে শিল্পীদের মধ্যে কিছু বিতর্ক ছিল। এটাকে আপনি কীভাবে দেখেন?
শিল্পকলা একাডেমির আয়োজন নিয়ে শিল্পীরা অহেতুক বিতর্কে জড়াচ্ছি। ব্যক্তিগতভাবে কোনো বিতর্কের মধ্যে নেই। কোনো সময় ছিলামও না। আর সঙ্গীত দিবসের আয়োজন নিয়ে বিতর্ক করে কী লাভ। সবাইকে বলব প্ররোচিত না হয়ে ঠাণ্ডা মাথায় সব কিছু চিন্তা করা উচিত। একটি অনুষ্ঠানই সব নয়। মনুষত্ব কিন্তু শিল্পেরও আগে। এখন হুটহাট করে বড়দের অসম্মান করা হয় মিডিয়ায়। কেউ কারও বয়স কিংবা অবস্থানও দেখে না। ফেসবুকে বন্ধু মানে আপনি আমার সমকক্ষ, এমনই মনে করি কেউ কেউ। বড়দের শ্রদ্ধা করার বিষয়টি যেন হারিয়ে গেছে। কেন হারালো, তা চিন্তা করার সময় এখন এসেছে।





