হরিজন জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও অধিকার নিয়ে সরকারি অনুদানে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘হরিজন’ প্রেক্ষাগৃহগুলোতে প্রদর্শনের অসম্মতি জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এজন্য হরিজনদের অধিকার রক্ষায় চলচ্চিত্রটি বিনামূল্যে বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ সব বেসরকারি চ্যানেলগুলোতে সম্প্রচার করতে করজোড় অনুরোধ জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।
শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘উন্নয়ন কর্মসূচিতে দলিত-হরিজন জনগোষ্ঠীর অন্তভূর্ক্তি’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ অনুরোধ জানান। বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদ এ সেমিনারের আয়োজন করে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমাজের সব জায়গায় হরিজনদের সমানভাবে দেখা হয় না। এক্ষেত্রে পাশ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান ভালো। আমরা হরিজন জনগোষ্ঠীর অধিকার সমুন্নত করতে সরকারি অর্থায়নে ‘হরিজন’ চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহের মালিকরা চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনে অসম্মতি জানিয়েছে। এজন্য চলচ্চিত্রটি বিনামূল্যে বিটিভিসহ সব বেসরকারি টিভি চ্যানেলে সম্প্রচারের জন্য করজোড় অনুরোধ জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর সাড়ে তিন শতাংশ হরিজন। শিক্ষা ও সচেতনতার অভাবে তারা মূলস্রোত থেকে দূরে সরে যায়। সরকার তাদের জন্য ২১টি জেলায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। নিজেদের মাঝে সচেতনতা তৈরি করে তাদের সরকারি-বেসরকারি ও সাংবিধানিক অধিকার আদায় করার আহ্বান জানাই।
তিনি আরও বলেন, হরিজন জনগোষ্ঠীতে শতভাগ বাল্যবিয়ে প্রচলিত। আপনারাই কিন্তু পিতা-মাতা। আপনারা যদি তাদের সরকার নির্ধারিত (পরিণত) বয়সে বিয়ে দেন তাহলে তারা সমাজে সমভাবে বেড়ে উঠতে পারে। কম বয়সে বিয়ে হওয়ার কারণে সমাজে অনেক সমস্যার সৃষ্টি হয়।
সেমিনারে সংগঠনের সভাপতি কৃষ্ণলালের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দৈনিক প্রথম আলো’র যুগ্ম সম্পাদক আনিসুল হক, ফেয়ার বাংলাদেশ’র পরিচালক দেওয়ান আখতারুজ্জামান, আয়োজক সংগঠনের মহাসচিব নির্মল চন্দ্র দাস প্রমুখ।
এএইচ





