গত লোকসভা নির্বাচনেই তৃণমূল সরকার দেখিয়ে দিয়েছিল সেলেব-শো কাকে বলে। রোদে, বৃষ্টিতে, গ্রামে-প্রান্তরে প্রচারসভায় হাজির করে দিয়েছিল টলিউডের সেলেবদের। এবারের বিধানসভা নির্বাচনেও একই ছবি দেখা যেতে চলেছে। দিদির ‘পলিউড’অর্থাৎ পলিটিক্যাল টলিউডের সদস্যেরা প্রচারের পুরোভাগেই থাকবেন।দেব তো প্রচারে অবশ্যই থাকবেন।
সাংসদ বলে কথা! এই সময় তাঁর কোনও ছবিও নেই। রাজ চক্রবর্তীর ছবিতে দেবের কাজ করার কথা ছিল। কিন্তু রাজ তো নিজেও ব্যস্ত থাকবেন প্রচারের কাজে। অগত্যা মার্চ-এপ্রিলে ভোটপর্বের জন্য গোটা বিষয়টাই মুলতুবি রাখা হয়েছে। রাজ অবশ্য মুখে বলছেন না যে, তিনি ভোটের জন্যই ছবির কাজ পিছিয়ে দিয়েছেন। ‘‘ছোট পরদার জন্য আমার দু’টো ধারাবাহিক লঞ্চ হয়েছে সম্প্রতি। সেগুলো নিয়েই ব্যস্ত আছি। তাই এই মুহূর্তে কোনও ছবির শ্যুটিং করছি না,’’বলছেন রাজ। তবে দিদি ডাকলে তিনি সব কাজেই রাজি, সেটাও জানালেন।
গত লোকসভা নির্বাচনে রাজকে একাধিক জায়গায় দেখা গিয়েছিল দিদির হয়ে প্রচার করতে। সোহম নিজেই নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন। তাই তাঁর এই মুহূর্তে কোনও শ্যুটিংয়ের পরিকল্পনাই নেই। বললেন, এই মার্চ-এপ্রিল মাসে কোনও শ্যুটিংই করছি না। নিজের কেন্দ্রে সময় তো দিতেই হবে। দরকার পড়লে অন্য জায়গাতেও যাব।এপ্রিল মাসে অনেক ছবি রিলিজও পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে টলিউডে।
কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ছবি ‘সিনেমাওয়ালা’যেমন এপ্রিলে মুক্তি পাওয়া কথা ছিল। কিন্তু ভোটের দামামা বাজতেই সেটা আপাতত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। কৌশিক নিজেও অবশ্য এর আগে তৃণমূল সরকারের হয়ে প্রচার করেছেন। ‘সিনেমাওয়ালা’র প্রযোজক ‘ভেঙ্কটেশ ফিল্মস’। তাদের কোনও ছবিই ভোটের বাজারে মুক্তি পাচ্ছে না। পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে অনিকেত চট্টোপাধ্যায়ের ছবি ‘শঙ্কর মুদি’ও। যে ছবিতে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ই রয়েছেন নাম ভূমিকায়।
অনিকেত বললেন, ‘‘ভোটের সময় ছবি রিলিজ না করারই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মে মাসে রিলিজ করার কথা ভাবা হচ্ছে এখন। ভোটের বাজারে একমাত্র প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ‘শঙ্খচিল’ই মুক্তি পাচ্ছে। রাজ্যে ভোট শুরু হচ্ছে ৪ এপ্রিল। প্রসেনজিতের ছবি মুক্তি পাচ্ছে ১৫ এপ্রিল। পয়লা বৈশাখে ভোটের দিন ঘোষণার অনেক আগেই ‘শঙ্খচিল’এর মুক্তির তারিখ স্থির হয়ে গিয়েছিল। আগে থেকেই সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে যাওয়ার কারণে প্রসেনজিৎ ছবি রিলিজ পিছিয়ে দিচ্ছেন না বলেই জানালেন।
অরিন্দম শীল যেমন তাঁর ‘ঈগলের চোখ’এর শ্যুটিং মার্চ মাসেই সেরে ফেলছেন। দিদির হয়ে প্রচারে যাবেন? বললেন, ‘‘নিশ্চয়ই যাব।’’আর কাজ? ‘‘এপ্রিল মাসে পরের ব্যোমকেশের লোকেশনের জন্য রেকি করতে যাব। ‘ঈগলের চোখ’এর পোস্ট প্রোডাকশনের কাজও করব। তার সঙ্গে ক্যাম্পেনও করব।
এবারের নির্বাচনে রুদ্রনীল ঘোষ এবং হিরণ, দু’জনেরই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল। তাঁরা ভোটে না লড়লেও প্রচারের কাজে পুরোমাত্রাতেই থাকবেন। দিদির ক্যাম্পে যাঁদের দেখা গিয়ে থাকে সেই নুসরত, মিমি, শ্রাবন্তী, সায়ন্তিকা, তনুশ্রীরা কী করছেন?
তনুশ্রী জানালেন, ওই সময়ে তাঁর শ্যুটিং রয়েছে। আর ভোটের প্রচারের বিষয়ে তিনি এখনই কিছু বলতে পারছেন না। শ্রাবন্তীর যেমন বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনার একটা ছবিতে শ্যুটিং চলছে। তবে ‘ডাক’পড়লে তিনিও থাকবেন। মিমির কথায়, ‘‘এখন অনেক শো করছি। সেই সব নিয়েই ব্যস্ত আছি। মার্চ বা এপ্রিলে কোনও ছবির শ্যুটিং নেই।ওই সময়টায় পায়েল সরকারের কোনও ছবির কাজ নেই। ‘‘শ্যুটিং নেই এই মুহূর্তে।
মার্চে শুধু ‘ঈগলের চোখ’এর কাজ আছে। অন্য ছবি থাকলে নিশ্চয়ই কাজ করতাম,’’বললেন পায়েল। জিৎ যেমন মার্চ মাসে ব্যস্ত থাকবেন বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনার একটা ছবির কাজে। এপ্রিলে তাঁর বাংলা ‘বিগ বস্’এর শ্যুটিং হওয়ার কথা। যদিও দিদির আসরে কোনওদিনই জিৎ’কে সেভাবে দেখা যায় না। অনেকে ছবি মুক্তি পিছিয়ে দিলেও হল মালিকদের বক্তব্য, ভোটের জন্য তেমন কোনও সমস্যা হয় না। বড়জোর ভোটের দিনটায় সকালের দিকে একটু কম লোকজন সিনেমা দেখতে আসেন। কিন্তু ওই দিন অফিসপত্তর ছুটি থাকায় বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় হল’এ ভালই ভিড় হয়। বাংলা ছবি না থাকলেও শাহরুখ খানের ‘ফ্যান’মুক্তি পাচ্ছে ভোটের সময়।
সুতরাং হল মালিকদের মতে, সময়টা একেবারে ‘ড্রাই’যাবে না।আগের লোকসভা নির্বাচনের সময় তারকা হাজির করিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোই যে ফায়দা তুলেছিল এমন নয়। যাঁদের ছবি সেই সময় মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল, তাঁরা ভোট প্রচারে গিয়ে নিজেদের ছবির প্রচারটাও সেরে এসেছিলেন। তবে এবারে সে সম্ভাবনা কম। কারণ কোনও ছবিই যে মুক্তি পাচ্ছে না।
এআইজে





