বলিউডের নায়িকাদের অশ্লীল ও অমার্জিত ছবি যৌন সহিংসতা বাড়িয়েছে। তাদের চলাফেরা এবং বিভিন্ন ছবিতে অভিনয়ের বিষয়টিও এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের বিষয়টি যুব ও তরুণ সমাজের মাঝে উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তের সৃষ্টি করছে বলেও জানিয়েছে বিবিসির অনুসন্ধানী প্রতিবেদন।
প্রশাসনিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ সত্ত্বেও ভারতে যৌন সহিংসতার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। গত মাসেও পশ্চিমবঙ্গে এক হৃদয়বিদারক গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ভারতের ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ীও প্রমাণ মিলেছে, ভারতে প্রতি ২২ মিনিটে ভারতে একটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201402/1391680611.jpg[/img]
২০১২ সালে ডিসেম্বরে দিল্লির এক বাসে গণধর্ষণের শিকার হয় ২৩ বছর বয়সী এক মেডিকেল ছাত্রী। এতে মৃত্যু হয় সেই ছাত্রীর। এ ঘটনাটি ভারত ও সারা বিশ্বে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খান বলেন, “আমি লজ্জিত যে, আমি এই সমাজ ও সংস্কৃতির একটা অংশের প্রতিনিধিত্ব করছি। আমি এ জন্য লজ্জিত যে আমি একজন পুরুষ।”
এ ধরনের হৃদয়বিদারক ঘটনার পর স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে, ভারতীয় নারীরা যে ক্রমাগতই যৌন সহিংসতার শিকার হচ্ছেন এবং ক্রমেই এ হার বাড়ছে এর পেছনের কারণ কী হতে পারে। অনেকেই নারীর যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার পেছনে বলিউডকে দায়ী করছেন। বলা হচ্ছে, এসব ঘটনার জন্য বলিউড কোনো মতেই দায় এড়াতে পারে না।  
ভারতীয় মূলধারার চলচ্চিত্রের ধরন নিয়ে খুশি নন দেশটির জনপ্রিয় চলচ্চিত্র পরিচালক মীরা নায়ারও। তিনি বলেন, “সেই পুরোনো ছাঁচেই আমাদের দেশে প্রচুর চলচ্চিত্র তৈরি হচ্ছে। কোনো যৌন আবেদনময়ীর আবির্ভাব হলে তাকে বারবার প্রলুব্ধকারী নারী চরিত্রে ব্যবহার করা হয়। আমি এটাকে অশ্লীলতাই বলব।”
বলিউডের ছবিগুলোতে এখন ‘আইটেম নাম্বার’-এর উপস্থিতি এখন নিয়মিত রুটিনে দাঁড়িয়েছে। অনেক বেশি জনপ্রিয় এ আইটেমগুলোতে অনেক জোরালোভাবে কোরিওগ্রাফি করা হয়। এ আইটেম গানগুলোর দৃশ্যায়ন যে যৌন উদ্দীপনার সৃষ্টি করে, তা বলাই বাহুল্য।
অধিকাংশ চলচ্চিত্রের দর্শকের কাছেই এসব আইটেম গানের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। তবে মীরা নায়ার এইসব আইটেমের পক্ষে মত দিতে নারাজ। তিনি বলেন, “মসলাদার চলচ্চিত্রগুলোতে জঘন্য এসব আইটেম গানে পারফর্ম করতে দেখা যায় সমসাময়িক জনপ্রিয় নায়িকাদের। এরা পুরুষদের প্রলুব্ধ করার সব চেষ্টাই করে থাকে। আমি সত্যিই এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলতে চাই। আমি মনে করি না, এ বিষয়টি নারী ও পুরুষের মাঝে সম্মানজনক কোনো অবস্থান তৈরিতে ভূমিকা রাখে।”
ভারতীয় অভিনেত্রী তিলোত্তমা সোম বলেন, “এটা পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ।”
সমসাময়িক অন্যন্য অভিনেতাদের চেয়ে সামাজিকভাবে একটু বেশি প্রগতিশীল হিসেবে পরিচিত বলিউড অভিনেতা আমির খান। তিনি বলেন, “বলিউডে এরকম অনেক ছবিই নির্মিত হচ্ছে, যেখানে নারীকে দর্শনীয় বস্তু করে রাখা হয়। এটা খুব দুর্ভাগ্যজনক। এটা আমাদের নিজস্ব চিন্তাভাবনারই প্রতিফলন। এটা খুব লজ্জার।”
বলিউডে নারীকে অসম্মানকভাবে উপস্থাপন করা হয়- এ বিষয়টি আবার অনেকেই মানতে রাজি নন। ৩৫০ কোটিরও বেশি ভক্তের অধিকারী শাহরুখ খান বলেন, “এটা খুব স্পষ্ট যে, ভারতীয় চলচ্চিত্র কখনই নারীকে অসম্মান করে না। যারা এটা বলে, তারা সংকীর্ণমনা।”
আইটেম গান সম্পর্কে তিনি বলেন, “এটা বিনোদনের একটা মাধ্যম। এখানে কেউ আমার ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছে না। আমি কী করছি, সে সম্পর্কে আমি সম্পূর্ণ সচেতন। এখানে কাজ করার ব্যপারে নারীদের পূর্ণ স্বাধীনতা আছে।”
শাহরুখ আরো বলেন, “পর্দায় নারীর অসম্মানজনক উপস্থাপন, নারীর বাণিজ্যিকীকরণ বলিউড থেকে এসেছে, এটার সঙ্গে আমি একমত নই।”
তবে ভারতের নারীবাদী সমালোচকরা মনে করেন, পর্দায় নারীকে ক্রমাগত যৌনবস্তু হিসেবে উপস্থাপনের বিষয়টি, বাস্তব জগতেও মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সূত্র: বিবিসি
[b]ঢাকা, ৬ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম)//এমএ[/b]