বৃহস্পতিবার ঢাকায় তৃতীয়বারের মতো শুরু হয়েছে উপমহাদেশের অন্যতম শাস্ত্রীয় আয়োজন ‘বেঙ্গলশাস্ত্রীয় সংগীত উৎসব’। বাংলাদেশ বেঙ্গল ফাউন্ডেশন এর আয়োজনে ও ভারতের আইটিসি সংগীত রিসার্চ অ্যাকাডেমির সহযোগিতায় উৎসবটি চলবে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
গতকাল অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের, ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান ও স্কয়ার টয়লেট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী। তাঁদের দাবি, বেঙ্গলের এই আয়োজন বিশ্বের সর্ববৃহৎ আয়োজনে পরিণত হয়েছে।
সন্ধ্যায় মহোৎসবটি শুরু হয় সম্মিলিত শিল্পীদের গাওয়া বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত দিয়ে। শিল্পীদের দলে ছিলেন ইফফাত আরা দেওয়ান, ইয়াকুব আলী খান, অদিতি মোহসীন, প্রিয়াঙ্কা গোপ, সুবীর নন্দী, ফরিদা পারভীন, লাইসা আহমেদ, ইয়াসমীন মুশতারী, চন্দনা মজুমদার, শাহীন সামাদ, মহিউজ্জামান চৌধুরী, মিতা হক, ঝুমা খন্দকার, শামা রহমান, বুলবুল ইসলাম প্রমুখ।
এছাড়াও শিল্পীরা এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি এবং ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি আমার দেশের মাটি গান দুটি গেয়ে শোনান। সম্মেলক গানের শেষে শিল্পীদের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের।
পাঁচদিনের উৎসবের প্রথম দিনের সন্ধ্যাটি আরও রঙ্গিন হয় ভরতনাট্যমের সুর ও তালে। কর্নাটকি উচ্চাঙ্গ সংগীতের বোলের সঙ্গে মৃদঙ্গম ও ঘটমের তাল এবং বেহালা সুরে নৃত্যশৈলি প্রদর্শন করে আসরকে নিজের করে নেন ভরতনাট্যম শিল্পী বিদুষী মালবিকা সারুক্কাই ।
এছাড়াও তবলা বাদন শোনান শিল্পী অজিঙ্কা যোশী। তাঁকে হারমোনিয়ামে সহযোগিতা করেন গৌরব চট্টোপাধ্যায়।
আয়োজকেরা জানান, ২০১২ সালে প্রথম আসরে দর্শক হয়েছিল ৭০ হাজার। ২০১৩-তে সমাগম ঘটেছিল ১ লাখ ২০ হাজার দর্শকের। তাঁরা আশা করছেন, এবার দেড় লাখ দর্শক-শ্রোতার সমাগম ঘটবে।
বেঙ্গল ফাউন্ডেশন আয়োজিত এই উৎসবকে কেন্দ্র করে আর্মি স্টেডিয়ামকে সাজানো হয়েছে বর্ণিলভাবে। গ্যালারির ওপরে স্থান পেয়েছে মহোৎসবে অংশ নেওয়া শিল্পীদের রঙিন আলোকচিত্র। মাঠের শেষ প্রান্তে স্থান পেয়েছে ওস্তাদ আলাউদ্দিন খান, আয়েত আলী খান, কালে খাঁ, হাফিজ আলী খান, ইনায়েত খান, পান্নালাল ঘোষ, বিলায়েত খান, আলী আকবর খান, রবি শঙ্কর, বাহাদুর হোসেন খান, শচীন দেব বর্মণ, উদয় শঙ্কর, বাহাদুর হোসেন খান, বারীন মজুমদার, পল্লী কবি জসিম উদ্দীনসহ প্রথিতযশা আরও অনেক শিল্পীর প্রতিকৃতি।
শুক্রবার উৎসবের দ্বিতীয় দিনের প্রধান আকর্ষন পদ্মভূষনপ্রাপ্ত পন্ডিত রঞ্জন মিশ্র ও পন্ডিত সজন মিশ্র জুটির খেয়ালের মূর্ছনা।
জেআই





