বলিউডের অন্যতম শীর্ষ ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী কারিনা কাপুর। সম্প্রতি ৩৫ বছর বয়সে পদার্পন করেছেন এ অভিনেত্রী। জন্মদিন উপলক্ষে জেনে নিন কারিনা অভিনীত সেরা ১২ সিনেমা।
* রিফিউজি (২০০০): বলিউডে কারিনার অভিষেক জে পি দত্তের রিফিউজি সিনেমার মাধ্যমে। এ সিনেমার মাধ্যমে কারিনা সে বছর ফিল্মফেয়ার বেস্ট ডেবিউ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলেন। প্রথম সিনেমা থেকেই নিজের জাত চিনিয়েছেন কারিনা।
* আশোকা (২০০১): ক্যারিয়ারের শুরুতেই শাহরুখের বিপরীতে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন কারিনা। শাহরুখ খানের বিপরীতে ঐতিহাসিক কাহিনি নির্ভর আশোকা সিনেমায় কারিনাকে দর্শকদের মন জয় করেছিলেন।
তার থেকেও বেশি অবাক হয়েছিলেন সমালোচকরা। তাই এই সিনেমার জন্যই প্রথম ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেত্রীর মনোনয়ন পান তিনি।
* কাভি খুশি কাভি গম (২০০১): আশোকার বছরেই মুক্তি পায় কারিনার প্রথম ব্লকবাস্টার সিনেমা কাভি খুশি কাভি গম। সিনেমাটির মূল জুটির চরিত্রে শাহরুখ-কাজল থাকলেও, কারিনার গ্লামার সকলেরই নজর কাড়ে।
একই বছর তাই এই সিনেমার জন্যও ফিল্মফেয়ারে মনোনয়ন পান কারিনা। আশোকার জন্য সেরা অভিনেত্রীর পাশাপাশি কারিনাকে এনে দেয় সেরা সহ অভিনেত্রীর মনোনয়নও।
* চামেলি (২০০৪): কমার্শিয়াল সিনেমার এক নম্বর হিরোইনের তকমা যখন গায়ে লেগে গিয়েছে তখনই চামেলির মতো সিনেমায় অভিনয়ের সাহস দেখিয়েছিলেন কারিনা। অভিনয় যে তার রক্তে তা বেশ ভালোভাবে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। ফিল্মফেয়ারে স্পেশাল পারমেন্স অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলেন কারিনা।
* দেব (২০০৫): শুধু চামেলিতেই থেমে থাকেননি। একের পর এক ছবিতে নিজেকে ভাঙতে থেকেছেন কারিনা। সাফল্যের সঙ্গে সঙ্গে অভিনয়ে উত্তরণ হচ্ছিল তার। ক্রমশ পরিণত হচ্ছিলেন কারিনা। দেব সিনেমা তাকে এনে দিয়েছিল ফিল্মফেয়ার ক্রিটিক চয়েস অ্যাওয়ার্ড।
* ওমকারা (২০০৬): ভালো সিনেমা করার ইচ্ছা কারিনাকে বারবার তাড়া করেছে। গ্ল্যামারের কথা না ভেবে তাই বারবার দেবের ‘আলিয়া’ চরিত্রে বা ওমকারার ‘ডলির’ চরিত্রে নো মেকআপ লুকে পর্দায় আসতে দ্বিতীয়বার ভাবেননি কারিনা।
এই সিনেমাও কারিনাকে এনে দিয়েছিল ফিল্মফেয়ার ক্রিটিক চয়েস অ্যাওয়ার্ড। বলিউডের এক নম্বর আসনে থাকা খুব কম অভিনেত্রীই জীবনে দুইবার সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। পেয়েছিলেন ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেত্রীর মনোনয়নও।
* জব উই মেট (২০০৭): কারিনার ক্যারিয়ারের উজ্জ্বলতম মাইলফলক জব উই মেট। এই সিনেমায় দর্শক ডুবেছিলেন গীতরূপী কারিনায়।
এতদিন ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেত্রীর মনোনয়ন পেলেও, এই সিনেমা তার স্বপ্নপূরণ করেছিল। পেয়েছিলেন সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার।
* কুরবান (২০০৯): এই সিনেমা যখন মুক্তি পায় সাইফ আলী খানের সঙ্গে কারিনার প্রেম ব্যাপক আলেচিত। সাইফের সঙ্গে যেই গুটিকয়েক সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন কারিনা তার একটি কুরবান।
সিনেমাটি হিট হয়নি, সাইফ-কারিনার প্রেমের খবরে সিনেমাটি কিছুটা ব্যবসা করেছিল বক্সঅফিসে। তবে মুগ্ধ করেছিল কারিনার অভিনয়। আরও একবার ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেত্রীর মনোনয়ন পেয়েছিলেন কারিনা।
* থ্রি ইডিয়টস (২০০৯): ব্লকবাস্টার থ্রি ইডিয়টস আমিরের সিনেমা হলেও কারিনা কিন্তু একবারের জন্যও হারিয়ে যাননি। বরং সিনেমায় কারিনার উপস্থিতি যেন আরো বেশি অক্সিজেন দিয়েছেন আমিরের চরিত্রকে।
স্বল্প পরিসরেও নিজের অভিনয়ের ধার বুঝিয়ে কারিনা এই সিনেমার জন্যও আদায় করে নিয়েছিলেন ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেত্রীর মনোনয়ন।
* উই আর ফ্যামিলি (২০১০): কাজলের সঙ্গে কাভি খুশি কাভি গম সিনেমায় কাজ করেছিলেন করিনা। ৯ বছর পর ফের উই আর ফ্যামিলি। কাজলই এখানে মূল হিরোইন।
কারিনা পার্শ্বচরিত্রে। একই সিনেমায় কাজল থাকলে অনেক অভিনেত্রীই পিছিয়ে যান। পিছিয়ে আসাতো দূরের কথা, দাপটের সঙ্গে অভিনয় করে ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার ঝুলিতে ভরেন কারিনা।
* গোলমাল থ্রি (২০১০): রোমান্টিক, সিরিয়াস সিনেমায় কাজ করে ফেলেছিলেন করিনা। বাকি ছিল কমেডি। সেই সাধও অপূর্ণ রাখেননি।বলিউডে কমেডি মানেই সিনেমা জুড়ে অভিনেতাদের দাপট।
অভিনেত্রীদের খুব কমই দেওয়ার থাকে সিনেমায়। কিন্তু তেমন সিনেমা থেকেই ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেত্রীর মনোয়ন আর কোনো অভিনেত্রী আদায় করতে পেরেছেন বলে মনে হয় না।
* হিরোইন (২০১২): কর্পোরেট, ফ্যাশন সব সিনেমাতেই প্রথমে কারিনাকেই নিতে চেয়েছিলেন পরিচালক মধুর ভান্ডারকর। হিরোইন সিনেমাতেও কারিনাকে নিতে চাইলেও প্রথমে রাজি হননি তিনি। পরে অবশ্য সিনেমাটি করেন।
সিনেমাটি সেভাবে প্রত্যাশা না জাগালেও কারিনা নিরাশ করেননি। কারিনার জীবনের অন্যতম সিনেমা হিরোইন। ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেত্রীর মনোনয়নও পেয়েছিলেন। সিনেমা হিট হলে হয়তো পুরস্কারটিও তার কপালেই ছিল।
এমকে





