১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর কোটি ভক্তকে কাঁদিয়ে চিরদিনের জন্য চলে গেছেন চিত্রনায়ক সালমান শাহ। ১৯৯৩ সালে মৌসুমীর সঙ্গে জুটি বেঁধে চলচ্চিত্রে ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল ক্ষণজন্মা এ অভিনেতার। মাত্র চার বছরে হয়ে উঠেছিলেন সুপারস্টার। সালমান-মৌসুমী জুটির সফল কিছু চলচ্চিত্র যুক্ত হয়েছিল ঢাকাই চলচ্চিত্রে।
চলচ্চিত্রের বাইরে ব্যক্তি জীবনেও মৌসুমীর সঙ্গে দারুণ বন্ধুত্ব ছিল সালমান শাহ’র। চিত্রনায়িকা মৌসুমী শুনিয়েছেন প্রিয় বন্ধুকে নিয়ে তার স্মৃতিকথা।
‘সালমান শাহকে নিয়ে কি বলব আমি ঠিক বুঝতে পারছি না। ওর সঙ্গে আমার সম্পর্কটা ছিল ‘তুই’- এর। যখনই দেখা হতো অনেক মজা করতাম আমরা। খুবই আবেগপ্রবণ ছেলে ছিল ইমন।
একটা গল্প শোনাই, আমরা বিএফডিসি’তে একটা ছবির শুটিং করছি। সেদিন কোনো কারণে ওর মনে হলো আজকে শুটিং করবে না। আমাকে এসে বলল, দোস্ত আজকে শুটিং করবো না। তুই শুটিং প্যাক আপের ব্যবস্থা কর। আমি বললাম আজকে আমাকে শুটিং করতে হবে। তা না হলে শিডিউল ওলট-পালট হয়ে যাবে। ও আমাকে কিছুই বলল না।
কিছুক্ষণ পরে দেখলাম ওয়াশরুম থেকে সালমান বের হচ্ছে। ওর হাত থেকে রক্ত পড়ছে। আমরা সবাই তখন দৌড়ে ওর কাছে গেলাম। ও বলল ওয়াশরুমে পা পিছলে পড়ে গিয়ে হাত কেটে গেছে। পরে বাধ্য হয়েই শুটিং বাতিল করতে হলো। পরে জানলাম সে ব্লেট দিয়ে হাত কেটে ফেলেছে। ওর আবেগের কাছে আমাদেরকে অনেকবার হারতে হয়েছে।।
আমার এই আবেগপ্রবণ বন্ধুটাকে খুবই মিস করি। চলচ্চিত্রে সালমান শাহ’র অবদান কখনোই ভুলা যাবে না। সালমান শাহ আমাদের চলচ্চিত্রে মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন। এই বন্ধুটার শুন্যতা সব সময় মনে পড়ে।
ঢাকা, ৬ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম , জেআই





