‘সজনী গো ভালোবেসে এত জ্বালা কেন বল না’ গানটি শুনে কার না হৃদয় ছুঁয়ে যায়? সেই গানের পাখিটি আর নেই, চলে গেলেন আমাদের ছেড়ে। ইন্নানিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন।
এই বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পীর নাম বশির আহমেদ। গায়কের পাশাপাশি তিনি ছিলেন একাধারে একজন কবি এবং গীতিকার।
শনিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জহুরী মহল্লায় নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। তিনি বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন।
১৯৩৯ সালের ১৯ নভেম্বর কলকাতার খিদিরপুরে এক সওদাগর পরিবারে তার জন্ম। তার বাবার নাম নাসির আহমেদ। মায়ের কাছে ঘুম পাড়ানি গান শুনে শুনেই প্রথম গানে আগ্রহ তৈরি হয়। চলচ্চিত্রে তার প্রচুর গান এখনও শ্রোতাদের কাছে সমাদৃত। মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি ওস্তাদ বেলায়েত হোসেনের কাছে সংগীত চর্চা শুরু করেন।
এরপর তিনি বোম্বে (বর্তমান মুম্বাই) চলে যান, সেখানে উপমহাদেশের প্রখ্যাত ওস্তাদ বড়ে গোলাম আলী খাঁর কাছে তালিম নেন। তার কাছ থেকে বশির আহমেদ প্রচুর অনুপ্রেরণা পেয়েছেন।
চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তাফিজ তার ‘সাগর’ ছবির জন্য গান লিখতে বশির আহমেদের সাথে যোগাযোগ করেন। বশির আহমেদ সেই ছবির গান লিখেছিলেন এবং চমৎকারভাবে গেয়েছিলেন ‘জো দেখা প্যায়ার তেরা’।
স্বাধীনতার পূবে বশির আহমেদ পরিচিত ছিলেন আহমেদ রুশিদি নামে। ‘সজনী গো ভালোবেসে এত জ্বালা কেন বল না’, ‘আমাকে পোড়াতে যদি এতো লাগে ভালো’, ‘অনেক সাধের ময়না আমার’, ‘খুঁজে খুঁজে জনম গেল’- তার অসংখ্য জনপ্রিয় গানগুলোর মাঝে কয়েকটি।
বাংলাদেশের বিখ্যাত এ গায়ক বাঙালি ছিলেন না, এমনকি তিনি বাংলা ভাষাও জানতেন না। ১৯৬৪ সালে তিনি সপরিবারে ঢাকায় আসেন। ঢাকায় আসার আগেই উর্দু চলচ্চিত্রে গান গাওয়া শুরু করেন বশির আহমেদ।
কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি ছবিতে গানের জন্য ২০০৩ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (শ্রেষ্ঠ গায়ক) পান বশির আহমেদ।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী মীনা বশির এবং দুই সন্তান হুমায়রা বশির ও রাজা বশিরকে রেখে যান।
রোববার সকাল ১০টায় জহুরী মহল্লার মসজিদে তার জানাযা অনুষ্ঠিত হবে।
[b]ঢাকা, ২০ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম)// এনএস
[/b]